T3 || আমার উমা || বিশেষ সংখ্যায় তাপস মহাপাত্র

দুগ্গা দুগ্গা
শরৎকালের কথা লিখছিলাম
ওমনি বইখাতা কাঁপিয়ে জেগে উঠলো একটা ঘোড়া।
কিছুটা লাফিয়ে ঝুপিয়ে যেই সে পিছু ফিরলো
মনে হল, সে আমার কোন আদিযুগের চেনা
তখন না ছিল দুর্গা, না ছিল মহিষাসুর।
মেঘের চাঁদোয়া খাটিয়ে সে আর আমি পাশা খেলতাম
যে জিততো, সেই হতো সসাগরা শরতের রাজা।
আমি রাজা হলে তার পিঠে চাপতাম,
সে রাজা হলে আমার পিঠে চাপতো।
দুজনেই দৌড়োতাম, জাবর কাটতাম, দুজনেই স্বপ্ন দেখতাম
একদিন আমি স্বপ্ন দেখতে দেখতে দুর্গাকে পেলাম
সে একদিন স্বপ্ন দেখতে দেখতে মহিষাসুরকে।
আমাদের খেলা গেল বদলে,
চাঁদোয়া খাটিয়ে শুরু হল দুর্গা ও মহিষাসুরের যুযুধান খেলা,
এ পক্ষ ও পক্ষ নিতে গিয়ে আমাদেরও বেঁধে গেল ঠোকাঠুকি।
সে অনেক আগেকার কথা
এখন ঘোড়া থাকে রেসের মাঠে, দশেরপল্লীতে দুর্গা
দলাদলি করে মহিষাসুর এখন হাওয়া খায় খোশ মেজাজে
আর আমি, দশটা পাঁচটার মানুষ,
জ্যাম ঠেঙিয়ে, কলম প্যাঁচিয়ে লিখে যাই অষ্টতর শত যুদ্ধের কথা।
আর অতীতের ঢেকুর তুলতে তুলতে ঘুমিয়ে পড়ি, দুগ্গা দুগ্গা……