T3 || ঘুড়ি || সংখ্যায় সংঘমিত্রা রায়চৌধুরী

সারাবেলা ঘুড়িখেলা
যমুনা কিনারে, সঘন আঁধারে, রাই বিনোদিনী একাকিনী,
দুরুদুরু বুকে, ভীরু পানপাতা মুখে, আঁখিতে সলাজ চাহনি,
শ্যামের লাগিয়া, লাটাই বাঁধিয়া, ঘুড়িতে মাঞ্জা সূতার কল,
রাইসুন্দরী প্রাণপণে ডাকে– চল রে সখা চল।
ভাদর প্রভাতে, রাখাল সভাতে, বেণু-ধেনু ফেলে ছুটিছে রাখালরাজ,
গোঠে নাহি মন, নাহি টানে নবনী মাখন, চোখদুটি শুধু ঘুড়িতে আজ,
আকাশে কেবল পেটকাটি, চাঁদিয়াল, মোমবাতি, বগ্গার ঢল,
কানুর ইশারা প্রকারে পাকে– চল রে সখা চল।
কিশোর দামাল, দুরন্ত মনে কে দেয় সামাল, হু-হু ছোটে ধূ-ধূ মাঠে,
ঊর্ধ্ব আকাশে কাজল নয়ন তুলে, ধবলী – শ্যামলী হাম্বা ভুলে চরে নীরব গোঠে,
শ্যামের ঘুড়ি কাটে কোন দুর্জনে, কানুর চেয়ে কার এত বল,
হলধর বলরাম তেজে হাঁকে– চল রে সখা চল।
সাঁঝের আকাশ, জল-রেণুতে ভারী বাতাস, ঘুড়ি-খেলা হল সাঙ্গ,
ধূলায় মলিন দুটি পা, দুটি করতলে রক্তরেখা, ঘামেতে সিক্ত অঙ্গ,
বেলাশেষে ক্লান্ত মোহন বাঁশির করুণ ধুনে, ওড়ে একপল রাধের আঁচল,
থামিল কানু পথের বাঁকে– চল রে সখা চল।