সাপ্তাহিক ধারাসম্পাতে সিদ্ধার্থ সিংহ (পর্ব – ২৭)

কেমিক্যাল বিভ্রাট
— ধ্যার বাবা, আমি মরছি আমার জ্বালায়…
ঔপমানবের কথা বলার ধরন দেখে জবালা একটু অবাক হলেন। কারণ, জবালা কেন, উনি কারও সঙ্গেই সচরাচর এ ভাবে কথা বলেন না। এ ভাবে বলছেন মানে ব্যাপারটা নির্ঘাত গুরুতর। তাই জবালা জানতে চাইলেন, কেন? কী হয়েছে?
— যে ঢুকেছিল, তাকে আমার ভীষণ দরকার।
— কেন?
ঔপমানব বললেন, আমি তার কাছে জানতে চাই, গোলাপি রঙের কেমিক্যাল ভরা জারটার মধ্যে সে ক’ফোঁটা সবুজ রঙের কেমিক্যাল মিশিয়েছিল?
— কেন? তোমার কাছে হিসেব নেই?
— আমি মিশিয়েছি নাকি?
গলার স্বর খাদে নামিয়ে জবালা বললেন, তুমি মেশাওনি আমি জানি। আমি তা বলছি না। বলছি, তুমি কোথায় কতটা কোন কেমিক্যাল রাখো, সেটা তো তোমার হিসেব থাকে।
— থাকে তো।
— তা হলে?
ঔপমানব বললেন, গোলাপি কেমিক্যালটার হিসেব আমার কাছে আছে।
— সবুজটার নেই?
— থাকবে না কেন? সেটাও নোট করা আছে।
তা হলে তো হিসেব মিলেই গেল। এটা ভেবে জবালা বললেন, তবে?
— আরে বাবা, ঐযে ওটা মিশিয়েছে, আমার মনে হয়, জারের মধ্যে সবুজ কেমিক্যালটা মিশিয়ে টেবিলের উপরে তাড়াতাড়ি রাখতে গিয়ে অসাবধানতাবসত টেস্টটিউবটা এমন ভাবে রেখেছে যে, ওটা কাত হয়ে পড়ে গেছে। সেটা বোধহয় ও আর খেয়াল করেনি। ফলে টেস্টটিউবে থাকা বাকি কেমিক্যালটাও পড়ে গেছে। যেতটা পড়েছে, টেবিলের কাঠ তার বেশ কিছুটা শুষে নিয়েছে। কিছুটা আবার টেবিল থেকে গড়িয়ে নীচে মেঝের উপরে পড়ে শুকিয়ে গেছে। ফলে সে দুটো দেখে চুলচেরা হিসেব কষে, যা ছিল, তার থেকে সেটা বাদ দিয়ে যে মিশিয়েছে, সে ক’ফোঁটা মিশিয়েছে, সেটা একেবারে অ্যাকিউরেট বার করা সত্যিই সময় সাপেক্ষ। শুধু সময় সাপেক্ষই নয়, খুব মুশকিলও।
— কেন? কী হয়েছে?
খুব ধীর-স্থির ভঙ্গিতে আশপাশে কেউ নেই জেনেও, এ দিকে ও দিকে একবার ভাল করে দেখে নিয়ে খুব নিচু গলায় ঔপমানব বললেন, আমার মনে হয়, ওই কেমিক্যাল বিভ্রাটের ফলেই এটা হয়েছে।
উৎসুক হয়ে জবালা জিজ্ঞেস করলেন, কোনটা?
ঔপমানব বললেন, যেটা নিয়ে গোটা দেশ উত্তাল, সেটা।
— সেটা কী?
— সত্যিই, তোমাকে নিয়ে আর পারা যায় না। অঙ্ক ছাড়া আর কিচ্ছু তোমার মাথায় ঢোকে না, না? এ ক’দিন ধরে কী শুনছ কী?
— কী?
বিরক্তি মেশানো গলায় ঔপমানব বললেন, শোনোনি, এই রাজ্য থেকে সমস্ত রোগ উধাও হয়ে গেছে?
— হ্যাঁ, শুনেছি তো…
— তা হলে?
— তা হলে মানে? তোমার কি মনে হয়, সেটা ওই দুটো কেমিক্যাল মেশানোর জন্য হয়েছে?
— মনে হয় নয়, আমার দৃঢ়় বিশ্বাস,ওই জন্যই হয়েছে।
পাশের ঘর থেকে এ ঘরে আসতে গিয়ে বাবার কথা শুনে চৌকাঠের ও পারেই থমকে দাঁড়াল অভিমন্যু।
চলবে