সাপ্তাহিক ধারাবাহিক ভ্রমণ সিরিজে শতদ্রু ঋক সেন (পর্ব – ১২৭)

ফেরা

আবার লেহ, আবার সেই পুরনো হোটেল। তবে আগের সেই বড়ো ঘর আর মেলে নি, একটা অপেক্ষাকৃত ছোটো ঘর। সে যাক, দুটো রাতের তো ব্যাপার। সেদিন আর কোথাও যাওয়া নেই, তড়িঘড়ি খাওয়া সেরে লম্বা ঘুম।
পরদিন সকালে কর্মা আসে। আমাদের ঘোরাতে নিয়ে যায় থ্রি ইডিয়টস খ্যাত রাঞ্চোর স্কুল। চোখের সামনে সিনেমায় দেখা সেই আইকনিক দৃশ্যাবলী ভেসে ওঠে। অনেক লোকের সমাগম, ভিড়। লাদাখের মতো শান্ত নির্জন পরিবেশে ঐ ভিড় একটু দৃষ্টিকটু লাগে।
আরো বেশ কিছু জায়গা ঘুরে ফিরে আমরা হোটেলে ফিরি। রাতে আজ আমাদের বিশেষ ডিনার, লাদাখ ছেড়ে যেতে হবে, উপরন্তু কর্মার ও ছেড়ে যাওয়া। ভীষণ মন খারাপ হতে থাকে।
কর্মা এসে বিল জমা দেন। বেশ অনেকটা ডিসকাউন্ট দিয়েছেন আমাদের, দেখে আমরা চমৎকৃত। টাকা মিটিয়ে যাওয়া হয় বাজারের ভেতর এক কাশ্মিরী হোটেলে। জমিয়ে খাওয়া, আড্ডা সারি চারজনে। খাওয়া শেষে হোটেল পৌঁছে নামি। সবার চোখ ছলছল করে। জামার আস্তিনে চোখ মুছি।
ভাইয়া।
অনি কর্মাকে ডাকে। ওনার হাতে তুলে দেয় একটি বুদ্ধমূর্তি। বিদায় বেলায় আমাদের উপহার।
কর্মা আমাদের জড়িয়ে ধরেন। উনি এটা প্রত্যাশা করেন নি। অনেকটা সময় চুপ করে থাকার পর, উনি চলে যান। কাল সকালে আবার এসে আমাদের শ্রীনগরের গাড়িতে তুলে দেবেন।
মন খারাপ করে থাকে ভীষণ। ঘরে এসে শুয়ে পড়ি। ভারাক্রান্ত মন নিয়ে ঘুম আসে না।

ফেসবুক দিয়ে আপনার মন্তব্য করুন
Spread the love

You may also like...

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

কপি করার অনুমতি নেই।