অণুগল্পে পঙ্কজ কুমার চ্যাটার্জি

পুরনো প্রবাদ
মস্কোর কাছে এক ছোট জনপদের কাউন্ট ভ্লাদিমির। গোলগাল আভিজাত্যপূর্ণ চেহারা। ইয়ার দোস্ত সেকিরিন প্রতিদিনের মতো আজও সান্ধ্য-আসরে হাজির। বাটলার ট্রেতে করে ভদকা নিয়ে এলো। কাউন্ট সেকিরিনকে কোন সময় না দিয়েই পর পর দু’পেগ ভদকা খেয়ে ফেললেন। সেকিরিন এইবার নিজের প্রথম পেগ খেতে খেতে বললেন, “বন্ধু, তুমি পারলে সারাদিনই ভদকা খেতে পারো। মনে হয় তোমার সাথে এই কথা বলতে বলতে তুমি তৃতীয় পেগ শেষ করে ফেলবে। সবচেয়ে খারাপ লাগে কি জানো? তুমি সাধারণ অবস্থাতেও আজকাল হাঁটার সময় টলতে থাকো। এটা খারাপ লক্ষণ।”
“তাহলে চলো আগামীকালই বিকেলে তোমার সাথে ডাক্তারের কাছে যাই।”
সেই মত পরদিন ঘোড়ার গাড়িতে চড়ে দুই বন্ধু ডাক্তারের বাড়িতে হাজির। কাউন্টকে দেখে ডাক্তার হাতের রোগীকে দেখা শেষ করে তাঁকে ডেকে নিলেন। প্রাথমিক বর্ণনা কাউন্টের কাছ থেকে শোনার পরে রোগীকে বিছানায় শুয়ে পড়তে বললেন। তারপর অনেকক্ষণ ধরে কাউন্টের লিভারের কাছটা হাত দিয়ে টিপে টিপে দেখলেন। তারপর স্টেথিস্কোপ লাগিয়ে আরো কিছুক্ষণ পর্যবেক্ষণ করলেন। দেখার শেষে নিজের চেয়ারে এসে চোখ বুজে বসে রইলেন ডাক্তার অনেকক্ষণ।
কাউন্ট আর সেকিরিন চুপ করে বসে আছেন। অবশেষে ডাক্তার চোখ খুললেন, “কাউন্ট, আপনি কি সাহসী?”
“নিশ্চয়ই, আপনার সন্দেহ আছে?”
“তাহলে আপনি শীঘ্রই মারা যাবেন।”
ঠাকুরদার কাছে ছোটবেলায় শোনা পুরনো প্রবাদের কথা কাউন্টের মনে পড়লো।