সাপ্তাহিক ধারাসম্পাতে সিদ্ধার্থ সিংহ (পর্ব – ১৬)

কেমিক্যাল বিভ্রাট

লোকে এখন বুঝতে পারছে এই মোবাইল টাওয়ারের জন্য কত বিপত্তিই না ঘটছে! বন্যপ্রাণীরা তো আক্রান্ত হচ্ছেই, মোবাইল টাওয়ার থেকে বেরোনো ইলেক্ট্রো ম্যাগনেটিভ রেডিয়েশন, সংক্ষেপে ই এম আর-এর জন্য দিনকে দিন কমে যাচ্ছে চড়াই পাখিও। নাগপুর, ভূপাল, জব্বলপুর আর উজ্জয়িনীতে চড়াইপাখির সংখ্যা তালানিতে এসে ঠেকেছে। কমে যাচ্ছে মৌমাছিরাও। কারণ, এই রেডিয়েশনের প্রভাবেই মৌমাছিরা বাড়ি ফেরার পথ খুঁজে পাচ্ছে না। ভুল-ভাল পথে গিয়ে বেঘোরে প্রাণ হারাচ্ছে। তা ছাড়া, তাদের ডিম ধারণ করার ক্ষমতাও প্রতিনিয়ত কমে যাচ্ছে। যে ক’টা পাড়ছে, তার সংখ্যা এবং গুণগত মানও অত্যন্ত দ্রুত হারে কমছে। ফলে বেশির ভাগই ডিমই বাচ্চা হওয়ার আগেই নষ্ট হয়ে যাচ্ছে।

এটা অত্যন্ত মারাত্মক ব্যাপার। কারণ, উনি জানেন, বিশ্ববিখ্যাত বিজ্ঞানী আইনস্টাইন বহু বছর আগেই একবার এক আলোচনাচক্রে মানব জাতির বিলুপ্ত হওয়ার নানা কারণ বলতে গিয়ে খুব জোর দিয়েছিলেন এই মৌমাছিদের ওপরে। উনি বলেছিলেন, পৃথিবী থেকে যদি সমস্ত মৌমাছি লুপ্ত হয়ে যায়, তা হলে তার ঠিক চার বছরের মাথায় এই পৃথিবী থেকে গোটা মনুষ্য-জাতিটাই বিলুপ্ত হয়ে যাবে।

এখন তো ওয়ার্ল্ড হেলথ অর্গানাইজেশনও বলছে, মোবাইল টাওয়ার থেকে যে রেডিয়েশন বেরোচ্ছে, তা থেকে মানুষের শরীরে ক্লাস টু বি কারসিনোজন রোগের প্রকোপ ভীষণ ভাবে দেখা দিচ্ছে। এটা এক ধরনের ক্যানসার। তাই সম্প্রতি গুরগাঁওয়ের ঘন বসতিপূর্ণ এলাকা থেকে ইতিমধ্যেই দুশো আটানব্বইটি সেল টাওয়ার তুলে ফেলা হয়েছে।
সরকারের কাছে জমা দেওয়া অধ্যাপক গিরিশকুমারের পঞ্চাশ পাতার একটি গবেষণালব্ধ রিপোর্টকে গুরুত্ব দিতেই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে, যেখানে টাওয়ার বসানো আছে, তার এক কিলো মিটারের মধ্যে নতুন করে সেখানে আর কোনও টাওয়ার বসানো যাবে না। বসানো যাবে না স্কুল এবং হাসপাতাল চত্বরের কাছাকাছি কোনও জায়গায়ও। টাওয়ার বসানোর আগে দেখে নিতে হবে, সেই এলাকায় কত জন ক্যানসার রোগী আছেন। কারণ, দু’হাজার তেরো সালের এক সমীক্ষায় দেখা গেছে শুধু এ দেশেই একশো কোটির ওপর লোক মোবাইল ফোন ব্যবহার করেন। এবং প্রত্যেক দিনই তার সংখ্যা লাফিয়ে লাফিয়ে বাড়ছে।

কিন্তু… না, এ সব তো এই ডাবওয়ালার জানার কথা নয়। জানার কথা নয়, এই মোবাইল ফোন ব্যবহারের জন্যই কত রকমের মারণ-রোগ মানুষের শরীরে চুপিচুপি ঢুকে পড়ছে। সৃষ্টি করছে নার্ভাস ডিজঅর্ডার। জানার কথা নয়, সেই সমীক্ষার কথা। যে সমীক্ষায় দেখা গেছে, এই মৌমাছিদের বদন্যতাতেই শুধু মার্কিন মুলুকেই বছরে কমপক্ষে চোদ্দো বিলিয়ন ডলারের বীজ উৎপন্ন হয়। না, এগুলো এঁর জানার কথা নয়। এর মধ্যেই ইনি যেটুকু জেনেছেন, সেটাই অনেক। এর পর কিছু বলতে গেলে ইনি হয়তো এমন কিছু বলে বসবেন, যা তাঁকে চমকে দেওয়ার পক্ষে যথেষ্ট। যা হয়তো উনি নিজেও জানেন না।

তাই উনি আর কথা বাড়াননি। শুধু বলেছিলেন, ধুস, এত দাম দিয়ে এই ডাব খাইয়ে কী হবে? এতে না-আছে জল, আর যে দু’-চার ফোঁটা আছে, তাতে না-আছে কোনও স্বাদ। না-আছে কোনও গুণ। এ রকম ডাব আনলে আমি কিন্তু এর পর থেকে আর নেব না।

ফেসবুক দিয়ে আপনার মন্তব্য করুন
Spread the love

You may also like...

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

কপি করার অনুমতি নেই।