সম্পাদকীয়

“ কিছুদিন মনে মনে
কিছুদিন মনে মনে ঘরের কোণে
শ্যামের পিরিত রাখ গোপনে।”
গানটা প্রথম শুনেছিলাম পার্বতী বাউলের কন্ঠে। অসাধারণ লেগেছিল। কুর্ণিশ জানাই তার বাউল সাধনাকে। গুরুভক্তি থাকলে মানুষ কোথায় পৌঁছাতে পারে পার্বতী দাস বাউল তার উৎকৃষ্ট উদাহরণ। গুরু সনাতন দাস বাউলের শততম জন্ম বার্ষিকীতে তার শ্রদ্ধাঞ্জলি। “ বাউল প্রেমিক ” বইটির চতুর্থ সংস্করণ প্রকাশ করা। অতি সযত্নে গুরু সনাতন দাসের লেখা পান্ডুলিপি তিনি বাউল প্রেমিকদের কাছে উপস্থাপন করেছেন। বইটির মাহাত্ম্য হল- প্রেমিক প্রশ্ন করেছেন আর বাউল তার উত্তর দিয়েছেন।
যেমন,“ আচ্ছা বাউল বাবা,বাউল গান কি শুধুই গান? নাকি এর মধ্যে কোন সাধনা লুকিয়ে আছে?”
বাউল উত্তর দেন,“ বাবা,বাউল গান গুরুর কাছে গিয়ে অভ্যাস করতে হয়। কিছু মাত্র গান আয়ত্ত করতে পারলেই অনেকে মনে করেন শিল্পী হয়ে গেল। আমার অভিজ্ঞতা থেকে বলি, আজ থেকে ৮ বছর আগে শান্তিনিকেতনে বাউলদের আখড়ায় কিছু ভাবুক শ্রোতা বসে একটা গানের আসর তৈরি করেছিলেন। বেশ কিছুক্ষণ ধরে বিচারমূলক গান হচ্ছিল। এমন সময় একজন শ্রোতা বাইরে থেকে একজন উঠতি অল্পবয়সী বাউল শিল্পী গায়ককে বললেন? তুমি সেই গানটা একবার গাও না গো। তখন সে সুযোগ পেয়ে গাইলো “ ও মোর কালিয়া ”। এই গান শুনে সে বাবু পাঁচ টাকা দিয়ে গেলেন। তখন কিছু দর্শক বললে, তুমি কি গান গাইলে! আর তার আগে আসরে কি গান হচ্ছিল? নবীন বাউল শিল্পীটি বলল, বাবু উনি যে আমাকে ৫ টাকা দিলেন। দর্শকরা বলে উঠলেন তুমি কি টাকার জন্যই গান করো? বাউল শিল্পীটি বলল তা বৈকি। তাই বলছি এই সমস্ত শিল্পী মেলাতে সংখ্যায় বেশিরভাগ দেখা যায়। গান ও নাচ এবং তার ভাবার্থ শোনা বা দেখার এখন সময় কোথায়? কথায় বলে এক আমির আর এক ফকির। সঙ্গীত হলো সাধনা। এবং শুধু বাউল গান নয়, বাউল জীবন সাধনার জীবন। সকলের পক্ষে তা সম্ভব নয়।
রীতা পাল