সাপ্তাহিক ধারাবাহিক কথা সাগরে প্রদীপ গুপ্ত (পর্ব – ২৬)

সুন্দরী মাকড়সা
বেশ কিছুটা চুপ করে বসে রইলো দুজনে। শেষের রাত জুড়ে মরা চাঁদের মোহময় আলো ছড়িয়ে রয়েছে জানালার শার্শির ওপারে।
নিঃশব্দ রাতের বুকে কোথাও না কোথাও ঝিঝিপোকা তার ডানা ঘষার শব্দ ছড়িয়ে দেয়। হঠাৎ করেই যেন আলমারির পেছনে সে শব্দটা প্রকট হলো। ধীরেধীরে উঠে দাঁড়ালো ঋষি। পা টিপে টিপে আলমারির কাছে গিয়ে কান পাততেই শব্দটা দরজার দিকে সরে গেলো, ঋষিও ধীরেধীরে দরজার দিকে এগোলো। স্নেহাও পিছু নিলো ঋষির। শব্দটা ধীরেধীরে বাথরুমের দিক থেকে সিঁড়ি বেয়ে ছাদের দিকে উঠতে শুরু করলো। বারান্দায় জ্বলে থাকা আলোয় সিঁড়িটাতেও কোনো অন্ধকার নেই। সিঁড়িটা গিয়ে একটা খোলা দরজায় গিয়ে শেষ হয়েছে। সেখান থেকেই ছাদ শুরু হয়েছে। চাঁদের আবছা আলোয় ছাদটাও পরিষ্কার দেখা যাচ্ছে। সিঁড়ি ঘরের ডানদিকটায় একটা দশ ইঞ্চি ইটের পিলারের গায়ে ছাদের শেষ। ঝিঝিপোকার আওয়াজটা এখানে তীব্র। সেদিকে তাকাতে ঋষির চোখ একটা ছোটো চৌকোণা কাঠের বাক্সের গায়ে আটকে গেলো। বাক্সটাতে একটা কাঠের ঢাকনা দরজার পাল্লার মতো ঝুলছে। তার ভেতর দুতিনটা ফিউজ। ঋষি একটা ফিউজ খুলে ফেলতেই বারান্দার আলো নিভে গেলো। আর সাথে সাথেই একটা ধুপ করে আওয়াজ। ঋষি সেই আওয়াজটা লক্ষ্য করে পশ্চিমদিকে ছুটে যেতেই দেখলো একজন পুরুষমানুষ মাটির থেকে উঠে দাঁড়িয়ে ভাঙা দেওয়ালের দিকে দৌড় লাগালো, ঋষি চিৎকার করে উঠলো। দাঁড়াও, নইলে গুলি করবো। ঋষি ওর ডানহাতের তর্জনীকে পিস্তলের মতো করে তুলে ধরলো। মানুষটি অদ্ভুতরকমের ক্ষিপ্রতায় দেওয়াল টপকে ওপাশের জঙ্গলে ভরা ছোট জমিটার ভেতর লুকিয়ে পড়লো।
স্নেহা ঋষির পাশে এসে ওর কাঁধ ধরে দাঁড়ালো।
— আগামীকাল কিছুতেই এ বাড়ি ছেড়ে দেওয়া যাবে না। আশাকরি আজ আর কিছু হবে না। ঘরে চলো। ওরা ফিউজটাকে যথাস্থানে লাগিয়ে ছাদের দরজায় খিল দিয়ে ঘরে এসে ঘরের দরজায় খিল লাগালো।
ক্রমশ