কবিতায় রাজীব সিংহ

শাবক

কার জন্য সেই কবে থেকে একটু একটু ক্ষয়ে যায় দিন৷
অলক্ষ্য থেকে দেখছ তুমি, আলেক, কী ভাবে ক্ষয়ে যায় রাত৷
কেউ কী মনে রাখে! মনে রাখে অঝোর বর্ষণের সেই
অন্ধরাত, শ্বাসকষ্ট, জ্বর! মধ্যরাত্রি ক্রমশ গড়িয়েছে দ্বি-দল পদ্মে,
আজ্ঞাচক্রে, উৎকন্ঠা আর অনিশ্চয়তার নির্বাক গ্রাফচিত্রে৷
ভোর এসে শুয়ে থাকে ডাক্তারের নিরাসক্ত চেম্বারে—
পুরনো বইয়ের জন্য প্রেম আর মায়া চিরন্তন অনিবার্যতা
উপেক্ষা করে সহজেই৷ সহজেই কুচি কুচি করে কাটা ধনেপাতা আর
কড়াইশুটির দানা ছড়িয়ে দেওয়া যায় উপেক্ষার
এইসব মনোমুগ্দকর স্যালাডে৷ একটি ছোট্ট পাখি ধীরে ধীরে বড়ো হয়৷
তার শরীরের রোঁয়া পরিণত হয় পালকে৷
এই মাত্র উড়াল দিতে চায় সে ব্যালকনি পেরিয়ে,
ছাদের কার্নিশ পেরিয়ে, পালক-পিতামাতার উষ্ণতা পেরিয়ে…
কেউ কী বেড়ি দিয়ে বাঁধতে চেয়েছিল তাকে! চেয়েছিল
দুর্যোগের দিনে খড়কুটো, শস্যের দানা! যদিও অন্ধদিন, চতুর্দিকে
সতর্কীকরণের তীব্র সাইরেন৷ আজাজীল তার শয়তানী আর
কুহককে সঙ্গী করে ভর করে মস্তিষ্কে, সহস্রদল পদ্মে৷ চেনা পথ চেনা গলি
আর চেনা থাকে না৷ বিলাপে-অশ্রুতে একটু একটু ক্ষয়ে যেতে থাকে
পালক-পিতামাতার পক্ষীশরীর৷ নবীন ডানায় ভর দিয়ে সেই পাখি, ছোটোপাখি,
কলহময় ক্রেঙ্কারে লাফিয়ে লাফিয়ে উড়তে চায়,
পেরিয়ে যেতে চায় পুকুরের পাড় আর শ্যাওলাময় এই জমাজল৷
ফেসবুক দিয়ে আপনার মন্তব্য করুন
Spread the love

You may also like...

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

কপি করার অনুমতি নেই।