সম্পাদকীয়

ইউনেস্কো ২১শে মার্চ তারিখটিকে বিশ্ব কবিতা দিবস হিসাবে ঘোষণা করে। এই দিবস পালনের উদ্দেশ্য হলো বিশ্বব্যাপী কবিতা পাঠ, রচনা,প্রকাশনা ও শিক্ষাকে উৎসাহিত করা। ইউনেস্কোর অধিবেশনে এই দিবস ঘোষণা করার সময় বলা হয়েছিল, “এই দিবস বিভিন্ন জাতীয়,আঞ্চলিক ও আন্তর্জাতিক কবিতা আন্দোলন গুলিকে নতুন করে স্বীকৃতি ও গতি দান করবে।”
সকাল হতেই। ফেসবুকের পাতায় দেখলাম সহস্র কবিতা নিয়ে কবির দল ফেসবুকে ঝাঁপিয়ে পড়েছেন। তাদের মধ্যে বিশেষ কয়েকটি কবি সম্প্রদায় চোখে পড়ল। যেমন ‘স্বঘোষিত কবি’- যারা নিজেরা নামের আগে নিজেরাই কবি কথাটি বসিয়ে দিয়েছেন। এরপর আসবো ‘না কবি’। মুর্হুমুর্হু কবিতা লিখছেন। ফেসবুকে চিপকাছেন । অথচ বলছেন আমি কবি না। বুঝুন ঠ্যালা!
এরপর আসব নামতা কবি। যারা প্রত্যেকের থেকে দু’লাইন করে একটা গোটা কবিতা তৈরি করে ফেলেছেন। অবশ্যই মহান কবিদের কথা বলব। যিনি বলেন- উনি শ্রেষ্ঠ বাকি সব উচ্ছিষ্ট।
এইসবের ফাঁকে চোখে পড়ে অনেক যন্ত্রণা ও ক্ষত নিয়ে কবিতাকে ভালোবেসে কবিতা লেখেন। তাদের আমার শ্রদ্ধা ও প্রণাম ।ধূলিপত্র,সবাই কবি নয় কেউ কেউ কবি- জীবনানন্দের এই উক্তিটি ভুললে চলবে না।
এমনই এক মার্চ মাসে,১৯৯৫,আমার প্রিয় কবি-উপন্যাসিক-লেখক-অনুবাদক যিনি জীবনানন্দের উত্তর যুগের বাংলা সাহিত্যের একজন,তিনি চির ঘুমের দেশে পাড়ি দিয়েছিলেন। কবি শক্তি চট্টোপাধ্যায়। তাঁকে আমার অন্তরের শ্রদ্ধা ও ভালোবাসা জানিয়ে তাঁরই একটা কবিতা দিয় শেষ করব-
“ একবার তুমি ভালোবাসতে চেষ্টা কর–
দেখবে, নদির ভিতরে, মাছের বুক থেকে পাথর ঝরে পড়ছে
পাথর পাথর পাথর আর নদী-সমুদ্রের জল
নীল পাথর লাল হচ্ছে, লাল পাথর নীল
একবার তুমি ভাল বাসতে চেষ্টা কর ।”
রীতা পাল