মার্গে অনন্য সম্মান শ্রীস্বদেশ সাধক সরকার (সর্বোত্তম)

অনন্য সৃষ্টি সাহিত্য পরিবার
সাপ্তাহিক প্রতিযোগিতা পর্ব – ১২২
বিষয় – আর্ন্তজাতিক মাতৃভাষা দিবস/ শ্রীরামকৃষ্ণ / পলাশী ফাগুন
মননে মাতৃভাষা
দিবস,দিন নিয়ে মানুষ ব্যস্ত সারাদিন
কিন্তু এই দিনের মধ্যে আবার বিশেষ দিন
আছে,বিশেষ দিনের যেমন বিশেষ গুন আছে
বা থাকে তেমনি সে গুণের গুণাবলিতে যদি
রসদ না থাকে ,যদি আবেগ,অনুভূতি ও
মননের আন্তরিকতা না জন্মায় তখন তো
সে বিশেষ দিনের দাবী করতে পারে না বা
কেউ তাকে স্বীকৃতি দিতে সম্মত হয় না ।
এমন বিশেষ দিন বিশ্বজনীন সংস্হা
স্বীকৃতি দিলে তার গভীরতাপৃথিবী ব্যাপী
আর সমাজ,সংস্হা ,প্রতিষ্ঠান বা সরকার
ও দিয়ে থাকেন~তাদের নিজ নিজ কদর
বা গুরুত্ব ও সে রকম হয়ে থাকে বলে সকলে
মনে করে থাকেন।
বসুধাকে বাঁচাতে যেমন বসুন্ধরা দিবস,
পরিবেশ দিবস,জলাভূমি দিবস,জীব বৈচিত্র
দিবস
কিন্তু মাতৃভাষা দিবস কিন্তু তা নয়। এক
সুদীর্ঘ ইতিহাস এর পিছনে বর্তমান যা মননে
দাগ কাটে। ভাষার জন্য মৃত্যুবর
ও কালাকানুনকে ভয় না করে মাতৃভাষার
প্রতি আনুগত্য,
১৯৪৮ সালে সাবেক পাকিস্তান সরকার
উর্দুকে রাষ্ট্রভাষা ঘোষণা করার পর হতেই
সেই সুরু। তারপর ১৯৫২। ৮ ই ফাগুন
১৪৫৮ ইং ২১ ফেব্রুয়ারি ১৯৫২~সেই
দিন,পৃথিবী দেখল বাংলা ভাষার প্রতি
ও পাড় বাংলার মমত্ববোধ,মায়ের প্রতি
আকুতি,বোধন ও চেতনের কি অপুর্ব
গৌরবগাথা যা সকলকে বিস্মিত করে
সারাদিন ব্যাপী আন্দোলনে ঢাকা শহর
রনক্ষেত্র চেহারা নিল,উর্দু ভাষার প্রতি
ছিল না ঘৃণা,তারা সব ভাষাকেই সম্মান দিত
কিন্তু জোর পুর্বক বাঙালির উপর উর্দু
ভাষা চাপানোর বিরুদ্ধে গর্জে উঠল ছাত্র
সমাজ।
শহীদদের মৃত্যু বরণ করলেন সালাম,জব্বর
বরকত,রফিক,সামিউল্লা সহ অনেকেই~
সে আন্দোলন দিল ভাষাকে মর্যাদা । অগত্যা
পাকিস্তান সরকার তা মানতে বাধ্য হল আর
এই আন্দোলনই পরবর্তীতে নতুন রাষ্ট্র
বাংলাদেশ জন্ম নিল ১৯৭১ সালে ।
তারপর ১৯৯৮ সালেয় ৯ ই জানুষারী
রফিকুল ইসলাম রাষ্ট্র সংঘের তৎকালিন
সেক্রেটারি জেনারেল কোফি আন্নান কে
১৯৫২ সালের ভাষা আন্দোলনকে মাত
বাংলাদেশ,হাঙ্গেরি এই
সহমত জ্ঞাপন করে প্রস্তাব ইউনেস্কার কাছে
পাঠান হয় ও অবশেষে ১৯৯৯সালের ১৭ ই
নভেম্বর এ ই বিশ্ববন্দিত “আর্ন্তজাতিক
মাতৃদিবস”সারা বিশ্বব্যাপী পালনের
সিদ্ধান্ত গৃহীত হয় ও
পাকিস্তান সহ ১৮৮ টি দেশ তাতে স্বাক্ষর
করে এক ইতিহাস তৈরী করেন ।
পৃথিবীর বহু ভাষা আড বিলীন হতে
চলেছে । কর্পোরেট দুনিয়া যেমন ছোট খাট
দোকান ও ব্যবসাকে কোণঠাসা করে দেয়
ঠিক তেমন
ভাষাগুলি অল্পস্বল্প লোকের মুখের মাতৃভাষা
কে প্রায় বিলুপ্তির পথে ঠেলে দিচ্ছে যা
নিজের মা কে ভুলিয়ে দেয়া সামিল।
ভারতে বহু আদিবাসী জমজাতি আছে
জীবনের জয়গানে,মানবিক মমত্ববোধের
ও চিন্তার সুদূরপ্রসারিত চেতনের ফলে
আজ সকল মায়ের ভাষা যেন এক নতুন
আন্দোলনের পথ পরিক্রমার পথ দেখাতে
সাহায্য করল ঢাকা তথা বাংলাদেশর
১৯৫২ র ভাষা আন্দোলন যা পরবর্তীতে
আসামের শিলচরে ১৯৬১ সালেে একই ভাবে
দেখা দিয়েছিল।
মাতৃভাষা মাতৃদুগ্ধ সম~তাকে বাঁচান
ও বাঁচিয়ে রাখা মানেই আত্মপরিচয়ের
স্বাধীনতা,ভাব প্রকাশে সহজাত প্রতিভার
পূর্ণ বিকাশে স্বাবলম্বী হওয়া ও সর্বশেষ
নিজের পায়ে দাঁড়ানোর প্রথম বর্ণমালার
প্রথম পাঠশালা~।
অমর ভাষা আন্দোলনের শহীদদের সালাম~
আর্ন্তজাতিক মাতৃভাষা দিবস~অমর রহে,
এই হোক সকলের প্রার্থনা ।