ধারাবাহিক ভ্রমণ সিরিজে শতদ্রু ঋক সেন – ১০৩

ফেরা
মানালির হোটেলে মনমতো ঘর পেয়ে প্রথমে ভালো করে ফ্রেশ হয়ে, হোটেলের কিচেন থেকেই পুরী তরকারি খেয়ে নিলাম। তারপর বিছানায় গা এলিয়ে ভাবতে বসলাম।
মানালিতে আমাদের থাকার কথা সেদিন আর পরেরদিন। মূলতঃ এক্লেমেটাইজ করাই উদ্দেশ্য। তার সবচেয়ে জরুরি কিন্তু কঠিন কাজ। লেহ যাবার জন্য গাড়ি বুক করা।
আমাদের যাত্রাপথের সবচেয়ে দুর্গম এই পর্বটি। এক সকালে বেরিয়ে, কেলং বা সারচু তে একরাত কাটিয়ে, পরেরদিন বিকেলে লেহ পৌঁছনো। রাস্তা খারাপ, আর তার মাঝে, প্রায় চব্বিশ ঘন্টা, কোনো ফোনে টাওয়ার থাকবে না। গাড়ি ভাড়াও অত্যধিক বেশী। যারা আমাকে ফিলার্স পাঠিয়েছিল গাড়ি ভাড়ার, সব ক্ষেত্রেই এই পথের ভাড়ার ভাগ বেশী ছিলো। কেউ আঠাশ তো কেউ ছাব্বিশ হাজার টাকা। এই টাকা রেডি করেই রেখেছিলাম, কিন্তু ইচ্ছা যদি কিছু কমাতে পারি।
বেলা দেড়টা নাগাদ তিন মূর্তি বেরিয়ে ম্যালে এসে লাঞ্চ করলাম। আর মুরগী হলাম। অতো অখাদ্য কম খেয়েছি। মন মেজাজ তেতো করে গেলাম ড্রাইভার্স এসোসিয়েশনের অফিসে কথা বলতে। কথা কিছুই বললো না, খালি আঙুল দিয়ে প্রথমে দরজা আর শেষে রেট কার্ড দেখিয়ে দিলো। অর্থাৎ দরে পোষালে চলো, নাহলে কেটে পরো। রেট দেখলাম ২৫০০০ টাকা।
হুম, কিছু তো কম। আচ্ছা দেখি বেরিয়ে। নীচে গাড়ির স্ট্যান্ডে গেলাম। এখানে কেউ বললো কুড়ি, আবার কেউ চাইলো একুশ। বাহ, বাহ বেড়ে ধাপে ধাপে কমছে তো। আশে পাশে কয়েকটি ট্র্যাভেল এজেন্সি আছে সেখানেও খোঁজ নেওয়া হলো। সর্বশেষ রেট পেলাম আঠারো হাজার টাকা। আরো এদিকে ওদিকে কথা বলে বুঝলাম এটাই কম। টাকা দিতে গিয়েও কি ভেবে দিলাম না। কাল সকালে দিয়ে দেবো নাহয়।
এবার তিনজন এলাম হোটেলে। একটু জিড়িয়ে, বিকেলে হিড়িম্বা দেবীর মন্দির যাবো।
রাম রাম বাবুসাব। আপলোগোকা লাদাখ যানা হ্যায় না? তো গাড্ডি ( গাড়ি) মিলি?
ম্যানেজার শর্মাজি।হাসিমুখে সামনে দাঁড়িয়ে। সব কথাই বললাম।
এক কাম কিজিয়ে, এক বান্দা হ্যায়, উয়ো লেহ সে আয়া টুরিস্ট লেকে। আভি উসকো লট যানা হ্যায়, মগর টুরিস্ট নেহি মিলা। আপ চাহে তো পরশো চল যাইয়ে উসকে সাথ। রেট ভি কম হোগা।
গ্রেট। শর্মাজিকে বলা মাত্র উনি ফোন করেন। লাদাখি মাঝ বয়েসী চালক, নাম কর্মা। ষোলো হাজার টাকায় রফা হয়।
তখন বুঝতে পারিনি, শর্মাজি আমাদের কতো বড়ো উপকার করলেন।।।