গল্পেরা জোনাকি তে রীতা চক্রবর্তী (পর্ব – ৪৭)

নীল সবুজের লুকোচুরি

একদিকে দেশিকান স্যার অন্যদিকে আনসারি স্যারের মতো ভরসার মানুষ পেয়ে নিজেকে ভাগ্যবান মনে হচ্ছে। তাই তো মনের ভেতর
.. “কুহু স্বরের গুঞ্জরণে উথাল পাথাল ঢেউ জাগে।
কে এলো আজ মনের ঘরে ফাগুন দিনের রং লাগে।”…

” কিরে, একলা বসে মনে মনে হাসছিস যে বড়! কি হয়েছে তোর বলতো!”… সুমিতা মেয়ের দিকে অনেকক্ষণ তাকিয়ে থাকার পর জিজ্ঞেস করলে মিঠি সহসা কোনো উত্তর দিয়ে উঠতে পারে না। ঠিক তখনই আনসারি স্যার ডাক্তার সাহানাকে নিয়ে সুমিতার বেডের পাশে দাঁড়ায়।
মাদার মরিয়মের সামনে এসে আয়ান স্যার রিকোয়েস্টের ভঙ্গিতে বলেন, “বেশ কিছু দিন ধরে একটা কথা আমার মনকে নাড়িয়ে দিয়ে যাচ্ছে। আপনার অনুমতি নিয়ে সবার সামনেই আমি সেটা বলতে চাই। যেদিন প্রথম ডাক্তার আয়ুস্মিতাকে আমার কলিগ হিসেবে পেয়েছি সেদিন থেকেই আমার স্নেহময় হৃদয় মনের ডাকে সাড়া দিয়ে ওর ওপর একটা নিঃশর্ত ভালোবাসার জন্ম দিয়েছে। ওকে আমি আপন করে নিতে চাই। I want to adopt this baby … মিঠির দিকে আড়চোখে তাকিয়ে সুমিতাকে লক্ষ্য করে বলেন sorry for call her baby. I mean to this honorable lady Dr. Auyushmita Maitra as my daughter if you permit me. I also needed her mother’s kind permission.”
কিছুক্ষণ সকলেই চুপচাপ হয়ে যায়। সুমিতা ভেবে পায়না কি উত্তর দেবে। মাদার মারিয়মও একটু অপ্রস্তুত হয়ে পড়েন। মিঠি তখন খুব আস্তে আস্তে কথা বলতে শুরু করে।
” আপনাদের সবার পারমিশন নিয়ে আমি কিছু বলতে চাই। ডাক্তার আনসারির আজকের এই প্রস্তাব খুবই গুরুত্বপূর্ণ, বলতে গেলে লুফে নেবার মতো। উনি আমাকে যথেষ্ট স্নেহ করেন। যদিও আমার জানা নেই বাবা মেয়ের সম্পর্ক কেমন হয়, তবে মনেহয় খানিকটা তেমনই হবে হয়তো। আমি নিজেও ওনার উপস্থিতি পছন্দ করি। ওঁর যে আমার ওপর এই নির্ভরশীলতা এটাও আমাকে inspire করে কিন্তু তা’বলে কি হঠাৎ করেই একজন প্রাপ্তবয়স্ক মানুষকে adopt করে নেওয়া যায়? এই বিষয়ে কথা বলার আগে অন্তত আমার সাথে একবার যদি ডিসকাস করতেন তবে আমাকে হয়তো এভাবে সবার সামনে কিছু বলতে হতো না। আপনি এতক্ষণ আপনার মনের কথা বললেন। এবার আমার মতামত জানানোটা দরকার বলে আমি মনে করি। জানেন তো, আমি ছোটবেলায় মাকে খুব বিরক্ত করেছি। বারে বারে জানতে চেয়েছি আমার বাবার কথা। সবাই যখন নিজের বাবার সাথে বাইরে যেত আমি তখন মনখারাপ করে থাকতাম। মা তখন একটা কথাই বলতেন। আমার বাবা বিখ্যাত মানুষ। লোকে তাকে ভগবানের মতো ভরসা করে। আর ভগবানতো কারোর কাছে থাকেন না। তিনি দুর থেকে তার আশীর্বাদ পাঠিয়ে দিতে থাকেন। আমার বাবাকে আমি তাই ভগবান বলে মেনে নিয়েছি। আর কোনোদিন কাছে পাবার আশা করিনি। তিনি ভগবান হয়ে সকলের মঙ্গল করুন। আমি আমার সূর্যকে মানে আমার প্রত্যক্ষ ভগবানকে হারাতে যাবো কেন? আমার জীবনের সেরা মানুষ আমার মা। তাকে ছাড়া আমি আর কিছুই চাইনা। আপনাকে আমি ভীষণ শ্রদ্ধা করি। কিন্তু মা ছাড়া আমার বলতে আর কেউ নেই। আপনি আমাকে মায়ের কাছ থেকে দূরে যেতে বলবেন না প্লিজ। আজ আপনার সামনে দাঁড়িয়ে এত কথা বলার ধৃষ্টতা মার্জনা করবেন।”

আসছি পরের পর্বে

ফেসবুক দিয়ে আপনার মন্তব্য করুন
Spread the love

You may also like...

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

কপি করার অনুমতি নেই।