ধারাবাহিক রম্য রচনায় সংযুক্তা দত্ত – ২৩

এই গল্পটা না বললে আমার এই নাচ পুরাণ সম্পূর্ণ হবে না। ভাইজ্যাগের এক ঐতিহ্যবাহী ক্লাব হল ‘ ওয়ালটেয়ার ক্লাব’। খুবই সুন্দর জায়গা কিন্তু অনুষ্ঠান গুলি শুধুই ওদের প্রাদেশিক উপস্থাপনার মধ্যেই সীমিত ।
একবার জানতে পারলাম যে ওদের লেডিস কমিটি থেকে ঠিক করেছে যে একটা ড্যন্স কম্পিটিশন হবে ওন রিজিওনাল ড্যন্সেস ওফ ইন্ডিয়া। খবরটা দিল আমার এক ভগ্নীসমা বন্ধু রিয়া। ও বলল, ” চলো সংযুক্তাদি আমরা নাম দি। ” সংযুক্তাদি তো হুজুগে নম্বর 1। রিয়ার আর এক বন্ধু ও তার জা যোগ দিল আমাদের দলে। জল্পনা কল্পনা বেশ চলল কী করা হবে সেই নিয়ে। শেষ অবধি ঠিক হল যে দুটো বাংলা ফোক ছোটো করে আর দুটো রাজস্থানী গান, প্রসঙ্গত বলে রাখি রিয়ার বান্ধবীটি ছিল রাজস্থানী।
এবার রিহার্সালের গল্প, রিয়ার ছানাটা নেহাতই পুচকে তখন, আর আমার মেয়ে, সে ও তখন ছোট, মানে তখন পাশে বসে পড়াতে হয়, তার চলছে পরীক্ষা। তাই দুপুর বেলাটা ঠিক হল রিহার্সালের জন্য। আমি স্কুল থেকে ফিরে, খেয়ে দেয়ে মেয়েকে ঘুমোতে পাঠিয়ে রিয়ার বাড়ি যেতাম। ততক্ষণে রিয়াও ছেলেকে ঘুম পাড়িয়ে রেডি।
কয়েকদিন পর এর ওর বাড়ি ঘুরিয়ে ফিরিয়ে রিহার্সাল চলল আর সেই সঙ্গে দারুণ দারুন মুখরোচক সব খাওয়া দাওয়া।
আমরা এর সঙ্গে ঠিক করলাম আমাদের চানাপোনাগুলোকে একটা করে প্রদেশের সাজ করিয়ে, ‘ মিলে সুর মেরা তুমহারা’র সঙ্গে একটু নাচ করিয়ে দেব যাতে মায়েদের সাথে ওরাও সাজুগুজু করতে পারে।
এবার বাংলা ফোকের গয়না ভ্যাইজাগে কোথায় পাব? কিন্তু ওই যে ‘ইচ্ছে হলে উপায় হয় ‘তেমনি হল। আমার বোন এল অনুষ্ঠানের দুদিন আগে সঙ্গে কাকিমার গড়িয়াহাট উজার করে কিনে আনা দুসেট ফোক নাচের গয়না।
নিজেরা সেজে সেই সঙ্গে বাচ্চাদের সাজিয়ে প্রায় হাঁপাতে হাঁপাতে ক্লাবে পৌঁছলাম। আমরা নাচ করে বেশ আনন্দে অসংখ্য ছবি তুলছি তখন দেখি রেজাল্ট আনাউন্স করছে- আমাদের টিম ফার্স্ট!!
সবাই সবাইকে জড়িয়ে ধরলাম। আনন্দ তো খুব হয়েছিল কিন্তু রিহার্সালের আড্ডা আর খাওয়া দাওয়া টা আর হবে ভেবে উদাস হয়ে গেলাম সবাই কিছু ক্ষণ পর।
অনুষ্ঠানে স্টেজ, উপহার এইগুলো তো গুরুত্বপূর্ণ বটেই তবে তার আশেপাশে যে কত মনে রাখার মত মুহুর্ত তৈরী হয়, সেগুলো সারাজীবন মনে মধুর রেশ রেখে যায়।