|| পঁচাত্তরে পা, সাবালক হলো না? || T3 বিশেষ সংখ্যায় রীতা চক্রবর্তী

স্বাধীন আকাশ ফিরে পাবো

জেলের কুঠুরিতে কাটছে আমার দিন। নিজেকেই বড্ড অচেনা লাগে এখন। নায়িকা হবার স্বপ্ন ছিল আমার। দু’একটা ছায়াছবিতে অভিনয়ও করেছিলাম। সেখানেই পরিচয় আমাদের। তোমার চোখে ভালবাসার সাগর দেখে নিজেকে হারাই আমি। তোমার মুখের কথা বেদবাক্যের মতো বলে বিশ্বাস করেছিলাম একদিন। নিজের ভালোমন্দ সঁপে দিয়েছিলাম তোমার হাতে।
ভরসার হাতটাকে ধরে রাখতে পারলেনা তুমি।
তুমি আমাকে তেমন করে চেনোনা- এ কথা যে তুমি বলতে পার আমি স্বপ্নেও ভাবিনি কখনো। মা’র কাছে শুনেছি নীতিমালার কথা। “বয়সের সীমারেখা লঙ্ঘন করে যায় যে সম্পর্ক তাতে নাকি অবশ্যই দূর্ঘটনা ঘটে !”- তোমার কাছে আসার পর সেকথার যথার্থতা নিয়ে ভাবিনি কখনো।
আমি এক সাধারণ নারী। অসমবয়সী তোমার বিশাল কায়া বা ছায়ার কাছে নিতান্তই দীনহীন। তবু ভ্রমর হয়ে এসেছিলে তোমার রিক্ত জীবনের শূন্য পেয়ালা মাধবীর রসে ভরে নিতে।
প্রয়োজন আমারও যে ছিলনা তা নয়। নিজেকে প্রতিষ্ঠিত দেখতে কার না ভালো লাগে! তোমার প্রতিপত্তির ছায়া হয়ে একটু সম্মান তো আমিও পেয়েছি। অর্থ কষ্ট ভুলিয়ে দিয়েছ তুমি। “ভবিষ্যনিধি”তে তুমি নিজেকে রেখেছ আমার ছায়ায়। বড্ড সুখী মনে হয়েছিল নিজেকে। মায়ের সতর্কবার্তা তুড়ি মেরে উড়িয়ে দিয়েছি তখন। একবারও মনে হয়নি “এ তোমার ষড়যন্ত্র!”
তোমারই আঁকা পথে পা রেখে চলে গেছি সামনে এগিয়ে। পিছনে কি হলো ফিরে দেখিনি কোনোদিন শুধু তোমাকে বিশ্বাস করে। কতকি করেছ তুমি আমাকে পেতে। আদরে আব্দারে ভরিয়ে দিয়েছ আমায়। তোমারই ইশারায় দিনরাত্রি কেটেছে আমার। সবই যে তোমার অভিনয় বুঝিনি কখনও।
গরাদের পিছনে এসে আজ মনে হয় স্বার্থসিদ্ধির জন্য চেয়েছিলে তুমি একটা খেলার পুতুল। ভালোবাসা গল্পে ভুলিয়ে রেখে মানুষের তাজা রক্ত শুষে টাকার পাহাড় আড়াল করবে যার নামে! প্রেমের মঞ্চে শ্রেষ্ঠ অভিনেতা তুমি। ললিতা বিশাখা আদি অষ্টসখী নিয়ে পার্থসারথি যেন! তোমার সোনার তরী ডুবল যখন তখন আর আমায় চিনতে পারলেনা।
একদিকে রইলাম পড়ে আমি তোমার ভীষণ অপরিচিত হয়ে। স্বাধীন এখন আমি। নেই কোনো ভারী নাম আমার আঁচলে। তোমার প্রতারণা মুক্তি দিয়েছে আমায় ভালোবাসার নাগপাশ থেকে। চাই না তোমার কোনো সহানুভূতির ভিক্ষা। তেমন করে নাই বা চিনলে আমায় আর কোনোদিন। গরাদের দিনগুলি পার হয়ে যাবে কোনোমতে। একদিন ফিরে পাবো আমার স্বাধীন আকাশ একান্ত আপন করে।

ফেসবুক দিয়ে আপনার মন্তব্য করুন
Spread the love

You may also like...

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

কপি করার অনুমতি নেই।