মার্গে অনন্য সম্মান সুমিতা চৌধুরী (সেরা)

অনন্য সৃষ্টি সাহিত্য পরিবার
সাপ্তাহিক প্রতিযোগিতা পর্ব – ৯৭
বিষয় – আধুনিক/ স্মৃতি/ পুরস্কার
স্মৃতি মেদুর সুখবাস
কতো না গল্প লেখা যায়
তোমার আমার কথায়,
জানো, সেসব লিখতে গিয়ে,
নিজেকেই কোথায় হারাই!
মনের পানসি ভেড়ে ফের
সেই সোনালী স্মৃতির পাড়ায়,
যেখানে কারো রাখালিয়া সুরে
আজও মন থাকে অপেক্ষায়।
সেখানে নামে কথার শ্রাবণ
প্রতিদিন, বারোমাস,
চুপ কথারাও চোখের ভাষায়
আলাপ জমায় ফিসফাস।
কখন যেন চোখের নীলে
ভাসতে থাকি আমি,
সে সাগর যে অতল গভীর
ক্ষণিকেই পথ ভ্রমি।
হঠাৎই দেখি বৈঠা হাতে
তুমিই খেয়া মাঝি,
মনের তরী বাইছো আমার
হয়ে মোর মনমাঝি।
ভাবি এ পথ যেন শেষ না হয়
সুখ সাগরে ভেসে,
তুমি বলো, “এ যে ভবসাগর,
জানা নেই কি আছে অবশেষে।”
ঝড়ে ডানা ভাঙা কপোতের মতোই
খুঁজে নিই তোমার বুকের আশ্রয়,
আশ্বাসে, ভরসায়, জড়িয়ে বুকে
দাও তুমি স্বান্তনা, অভয়।
কতো ঝড় ওঠে, দুর্গম পথে,
টালমাটাল হয় নাও,
স্মিত হেসে, শক্ত হাতে,
তবু দাঁড়খানি তুমি বাও।
একদা এক সুখের রাজ্যে
ছোট্ট বসত গড়ে,
সুগন্ধি ফুলের ভরা কাননে
রাখো ফুলের মতো করেই।
মোদের বপন করা বীজে সেথা
কচি কচি পাতা নিয়ে,
এক চারাগাছ ডানা মেলে দেখি
হাসে খিলখিলিয়ে।
এমন সুখঘোরে আবেশ বিভোরে
কাটে যে কখন বেলা,
বুঝিনি সে আবেশে কখন যেন
সাঙ্গ হয়েছে মোদের সুখের পালা।
হঠাৎই দেখি চারিদিক ধূধূ,
জ্বলছি উষ্ণ মরু উত্তাপে!
আলুথালু বেশে দাঁড়িয়ে একা,
রোদনের সানাই বাজছে সেথায় কি ভীষণ বিলাপে!
সাদা ক্যানভাসে ফুটে উঠছে
তোমারই অবয়ব,
ফ্যাকাশে শরীরে লেপ্টে আছে বৈধব্য,
এ কি নয় আমারও শব?
না না এ বর্তমান চাই নাকো আমি,
চাই সেই স্মৃতি মেদুর দিনযাপন।
তাই তো আজও সেই সোনালী স্মৃতির ঘোরেই রই,
করি সেই স্মৃতিতেই শুধু সুখযাপন।।