কবিতায় স্বর্ণযুগে শ্রী সদ্যোজাত (গুচ্ছ কবিতা)

১| শেষ বিকেলের গন্ধ

হঠাত্‍ করেই এসে পড়েছিলাম শেষ অপরাহ্নের গঙ্গাপাড়ের তুমিটাকে দেখবো বলে.
আনমনে তোমার উষ্ণ উষ্ণ ক্ষরস্রোতাটা ছুঁতে,
তোমার ওই নীল নীল ক্যানভাসে সঘন বর্ষার তখন কি ভীষণ আদর কি ভীষণ দাপাদাপি !!!!!
ও দুটি চোখে দেখেছিলাম মৃদু মন্দের প্রবল তৃষ্ণা প্রচন্ড কাতরতা,
তুমি যে আজও প্রথমা.তুমিই তো সঞ্চয়িতা,
ক্ষুধার্ত আষাঢ়টা তোমার এলো চুলের স্পর্শ সুখ পেতে চায়.তুমি না করোনা.
কিছু বৃষ্টি কিছু মেঘ..আর আমি.
দোষ দিও না তুমি !!!!
যত পারো অগনিত শাস্তি দাও শাস্তি,
তুমি তো জানোই তোমার আকাশে অবকাশে আমি আজও আবহমান সাজা প্রাপ্ত আসামী….

কিছু আশ্রয়হীন শেষ বিকেলের গন্ধগুলো দুটি হতে থরে থরে ভরে ,
তোমার অপেক্ষার প্রহরে প্রহরে যদি হয় হোক এক প্রশান্তের সমর্পিত দহন..

২| প্রশ্ন রয়ে গেলো বাকি

যত দূর তুমি যেতে পারো তুমি যাও,

বুকের আঁচল খুলে ওই পড়ন্ত বিকেলের খোলা হাওয়ায় যদি আস্ত শরীরটা নিয়ে ভেসে যেতে পারো,

বিশ্বাস করো আমি তোমায় এতটুকু আটকাবো না,

কথা দিলাম তোমায়…..

শুধু তোমার ওই দু চোখ জোড়া ঘন মেঘের রাশি গড়িয়ে পড়ুক আমার বুকে ঠোঁটে চিবুকে যেমন তেমন ভাবে ,

তোমার ফেলে আসা শতাব্দী বুকটার অব্যক্ত যন্ত্রনা ব্যক্ত হয়ে ঝরে পড়ুক আমার নিস্তব্ধতায়…

তোমার অসহায় পরিস্থিতিটা পূণর্তার সেই মহাসাগরে মিলনে মিলনে মিলিত হোক শত সহস্র কোটিবার,

সম্ভব তো ছিল কত কিছুই…

এক টুকরো ঘর একটু সস্তার উদয় অস্ত হাওয়া,

দিনের শেষে তোমার গোধূলি আঁচলে আমার ঘামে ভেজা পুরুষালি গন্ধের একটু আধটু আদর খাওয়া,

তোমার পৃথিবীতে যেতে দাও

একটি বার আমাকে….

কথা দিচ্ছি তোমার দেশের মালভূমি তে

গিয়ে তোমার নরম নরম ঐ গালে

একটা চুমু দিয়েই ফিরে আসব আবার

বুঝতে পারছি ধীরে ধীরে বয়সটা বাড়ছে

সঙ্গে তোমার প্রতি সাদাকালো মৃতপ্রায় অনুভূতি টাও,

যা আমার ছোট্ট বেলায় প্রতিদিনের সঙ্গী ছিল…

একান্ত যে অবকাশ গুলো একসময়

নিত্যনৈমিত্তিক ভাবে আমাকে বাঁচার রশদ

জুগিয়ে যেত…..

তারাও দেখছি আজকাল বড্ড বেশিই বেখেয়ালি হয়ে পড়ছে হয়তোবা সময়ের পোশাক পরে তারা সাবলম্বী হয়ে উঠছে, নয়তোবা পুরানো খসখসে ঘরের কোণে পড়ে থাকা ওই ব্ল্যাকবোর্ডটা তে নতুন চক দিয়ে সাদা

কালো মুহূর্ত গুলিকে আবারো ফ্রেম বন্দি করতে চাইছে….

কি জানি…!!!হয় তো সবই আমার মনের ভুল…..

হয় তো বা বেশি মাত্রার সহজ সরল সত্যতা…

বয়সের ভার আমাকে সবকিছু অতিসুক্ষ্ম ভাবে বুঝিয়ে দিচ্ছে…

একটা অজানা হাহাকার পড়ন্ত বিকেলের

গন্ধ ভুলে ভোরের প্রথম ফোটা ফুলের

পাপড়ি গুলিতে শিশির ভেজা হতে চাইছে.

আসলে কি জানো তো শ্রেয়তমা….

এই পোড়া সময়টা যত এগোচ্ছে আমার একাকিত্ব অক্টপাসের মতন আমায় কেবলই বাঁধছে,

এ বাঁধা সে বাঁধা নয় যে,

বড্ড কষ্ট বড্ড যন্ত্রণা বড্ড আর্তনাদ,

জীবনের সিংহদরজাটা জুড়ে আজও তোমার আটপৌড়ে আসাযাওয়াটা ,

কতদিন হয়ে গেলো সকালের প্রথম সূর্যটা দেখিনা,

কতদিন হয়ে গেলো বাসি ভোর বাসি তোমায় একসাথে আদর করিনা…!!!

কি জানি অসমাপ্ত ভালবাসারা এভাবেই হয়তো অনন্তকাল বেঁচে থাকে..!!!

যত দূর তুমি যেতে পারো তুমি যাও যাও তুমি যাও….

আজও একটি প্রশ্ন রয়ে গেলো বাকি…

আমি কোথায় যাই…

যাওয়ার আগে সেটুকুই যা বলে গেলে না…. !!!

৩| বিষাক্ত ভালবাসা

আমাকে পুরোপুরিভাবে উপর থেকে নীচ হত্যা করো তুমি,
আমার বিষাক্ত প্রেম কে তুমি মাটি থেকে সমূলে উপড়ে ফেলে দাও.
দরকার শুধু মারাত্মক রকম একটা লবনাক্ত সঙ্গমের.আমাকে প্রচণ্ড রকম হত্যা করো তুমি,
পারবে দিতে তোমার ওই চন্দ্রবোড়া কামিনীকাঞ্চন মোড়া অশান্ত উপত্যকায় আছড়ে আছড়ে এক্কেবারে নির্বিষ করে দিতে আমাকে .. ??
বলো বলো.. পারবে কি তুমি.. ??
তোমার ওই দুর্দম দুর্বিনীত জলস্রোতের চুম্বনে চুম্বনে আমাকে ডুবিয়ে দিতে ভরিয়ে দিতে.. ???
তোমার হাতের গঙ্গা জল আর সেই জলে বিষাক্ত হেমলক আমি নিজেই মিশিয়ে নেব রাজর্ষিতা
তুমি এতটুকু চিন্তা করোনা.
একটা চরম বেনামি জলোচ্ছ্বাস সব কিছু হিসেব নিকেশ নিমেষে ওলোটপালোট করে দিতেই পারে.
এতটুকু না ভেবে গলা টিপে এক্ষুনি হত্যা করো আমায়.
তোমার হাতে আমার মৃত্যু চাই মৃত্যু..!!!
তোমার হাতে দগদগে এক মসৃণ শীতল রঙের মৃত্যু চাই…
বহু মুখের হাড় হিম করা শিহরিত আসমুদ্র রোমাঞ্চিত নৈঃশব্দ্য সমাধান..!!!

৪| জীবন জিজ্ঞাসা

পথের সাথে যুদ্ধ করব নয়তো বা
মৌ চুক্তির শিল্যান্যাস।
চেনাজানা সমীকরণগুলো ছাপোষা জীবনটাকে চূড়ান্ত মূল্য দিয়ে কোহিনূর বসানো মূল্যবোধ রচনা করে।
বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়া আলখাল্লা বৃষ্টিটা গ্রীষ্ম বর্ষা বসন্ত এসব দর কচাকচি বোঝে না।
ওরা শরতের আকাশে হেমন্তের শিশির ধরে বাঁচে।
সংসার বন্ধু স্বজন এই বাঁকটা অতিক্রম করলে
নতুন করে পরিচয় খুঁজে পেতে মৃত্যুর পরেও আরো যোজনবর্ষ আমাকে হেঁটে যেতে হবে।
চিরাচরিত রীতি বলতে যা বুঝি
সেটা সবটাই ভুল,
ছোটবেলায় শেখা ষোলআনা বিদ্যের ঝুড়ি সবটাই ভুল ছিল।সেই ভুলে ভরা ঝুড়ি একাদশীর গঙ্গায় সমর্পণ করেই না হয় আরো একবার মৃত্যুর সাথে সাক্ষাৎ করে আসবো ।

যে নরম দেহে হাত রাখলেই গা’টা শিহরিত হতো,
সর্বোপরি যা বুঝলাম ওগুলো ঘাসের গালিচা ছাড়া আর কিছুই নয়।
এতবড় গ্রহের মতন হয়তো বা বৃহস্পতির থেকেও বড় কোনো মরীচিকা বুকে আগলে আর কতদিন এই ভালবাসার মিথ্যে অভিনয় করে যেতে হবে!
জীবন জিজ্ঞাসাকে তাই দূরে রেখে আরো একবার প্রশ্ন করি
তোমার সাথে এইটুকু বৈপরীত্য বেঁচে থাকুক,
নচেৎ বারবার নিজেকে সমূলে বিসর্জন করাটা একপ্রকার আত্ম প্রবঞ্চনার সমান

ভালোবাসলেই বুঝি প্রসব যন্ত্রণা দিতে হয় !!!

ফেসবুক দিয়ে আপনার মন্তব্য করুন
Spread the love

You may also like...

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

কপি করার অনুমতি নেই।