সাপ্তাহিক ধারাসম্পাতে সিদ্ধার্থ সিংহ (পর্ব – ২৭)

দেবমাল্য
রণো দাঁড়িয়ে আছে গলির মুখে। সিগনালে। সামনের গাড়ি-রাস্তা দিয়ে অনবরত গাড়ি যাতায়াত করছে। এগুলো না থামলে ও বড় রাস্তায় উঠতে পারছে না। বাঁদিক থেকে একের পর এক ট্রাক, ট্রেকার, ছোটহাতি আর পাগলের মতো গাড়ি আসছে তো আসছেই।
আর ধৈর্য সইছে না। প্রতিটি সেকেন্ড যেন এক একটা দিন। ভেতরে ভেতরে ভীষণ ছটফট করছে ও। কখন সিগনাল সবুজ হবে! কখন! কখন! কখন! থাকতে না পেরে দেবমাল্য বলল, আমরা ডান দিকে যাব তো? একটু জোরে চালিও তো… একটা সাইকেল রিকশায় সামশেরকে দেখলাম মনে হল! ও দিকে গেল।
— কে সামশের?
— পরে বলব। পরে। আগে চলো। চলো, চলো, চলো… ওই যে সিগনাল খুলে গেছে। চলো, চলো, চলো… ডানদিকে… ডানদিকে… হ্যাঁ হ্যাঁ… জোরে চালাও… জোরে… আরও একটু জোরে…
একে তাকে কাটিয়ে, অনেককে পেছনে ফেলে রণোর গাড়ি হর্ন দিতে দিতে এগিয়ে চলল। দেবমাল্য সামনের সিটে রণোর পাশে বসে আছে। ও অন্য কিছু দেখছে না। শুধু বাঁদিকের সাইকেল রিকশাগুলোকে দেখছে। এই তো দেখলাম! কোথায় গেল! কোথায়! হঠাৎ দেখে, সামনে নয়, ওর গাড়ির লুকিং গ্লাসে সামশের। সঙ্গে সঙ্গে পেছনে ঘাড় ঘুরিয়ে ও দেখে, সাইকেল রিকশায় সামশের একা নয়, সামশেরের পাশে বসে আছে তার বউ— তানিয়া।