ক্যাফে কাব্যে সুদীপ্তা রায়চৌধুরী মুখার্জী

দোয়াল সাঁকো ৩০
যখন আশ্রয় ব্যভিচারী হয় গতানুগতিকতার কাঁটাতার পেরিয়ে ব্যতিক্রমের কারুবাকি ছায়াপথে অলৌকিক অনিবার্য মন্ত্রোচ্চারণেও কি নির্মিত হয় প্রলয়রোধকারী মায়াঘর?
কল্পলোক জুড়ে প্রণয়ী প্রত্যাশার আনাগোনা, দেখ
গতির আশ্বাসে বাঙ্ময় হয়েছে উন্মাদনা,
শুণ্য পরিসরেও সংলাপের রোমাঞ্চ জন্ম দেয় ক্যালিগ্রাফিক বিভ্রম
অক্ষরেখার ছায়াতপে খেলা করে নিসর্গের স্বল্পাভাস ও আজন্মের প্রেম।।
ভূর্জপত্রে লেখা থাকে সমাসবদ্ধ রোদনের সপ্তকধ্বনি
অশ্রুর পথ ধরে চলা এই নক্ষত্রালাপ এও বস্তুত এক নির্বাসন, বল?
দহিত দিনলিপি থেকে ঝরে যে সাঙ্গিতিক মূর্চ্ছনা সেও তো এক গহীন অবিস্মরণীয় মায়া,
বকুল বিজরিত থাকে যার সুরের টানে…
কথা সুর হয়ে ভেসে যায় সুরধুনীতে
ভাষা বৈদিক আঁচে হয়ে ওঠে স্তব।
সব সনাতনী প্রথা কূল ছাপিয়ে গেলে আর্শি নিকেতনে তারার মেহফিল জমে
একাকী নির্জন শ্মশানভূমি তে মাথা তোলে ক্লীব আত্মা
মৃত্যুর সাথে পায়ে পায়ে চলে মরমী আলপথে থমকে থাকে অঘোর বর্ষা।।
আমার দীর্ঘ দেহে স্থান খোঁজে মাদকতা
নিকষ কালো শ্রাবণ রাতের পৃথিবীতে ঠিক তখনই একটি মধ্যবয়সিনি তারা খসে পড়ে, জানিস?
বুকের গভীরে বিরহ জ্বলে উত্তরাষাঢ়ার আদলে
যে মূহুর্ত অবচেতনেও স্তব্ধ আদিম বাতাসের যোগসাজশে সেই গড়ে তোলে চন্দ্রাহত কেমিস্ট্রি,
চাঁদের কাব্যিক আবেশ আর ঢেউয়ের মেহেমান নওয়াজ়িতে মাতাল রাতের আকাশ, চেয়ে দেখ…
নির্জন পটে নান্দনিকতাকে ছন্দ দিয়ে বাঁধলে অবিশংবাদী হয়ে ওঠে যৌনতার শর্ত ও যৌথতার রোমাঞ্চ…
মিলনপ্রহরে যে হোমাগ্নি শুদ্ধ আত্মার অভিজ্ঞা প্রেম তার পূতজলে জড় ও চেতনা কে আগলে রাখে।।
মায়াতটে যে চিহ্ন রেখে গেছে কুটিল মহাকাল তার বিভায় উজ্জ্বল অনচ্ছ রূপকথা,
সব সমারোহ সম্পন্ন হলে বিরহ ও নির্বাসন কে অন্য ভার্ডিক্টে মেলায় দোয়েল সাঁকো।।
বৃষ্টিঅরণ্যের শরীর জুড়ে তরল জ্যোৎস্নার রূপটান…