সাতে পাঁচে কবিতায় রাজশ্রী বন্দ্যোপাধ্যায়

বেলুন (সিরিজ)
১)
সন্ধের মাথায় তখন মায়াবী মুকুট
পিচগলা রাস্তায় মধ্যবিত্ত গৃহস্থালির সাদামাটা রান্নার গন্ধ
লাল নীল বেলুনের ভেতর তবু স্বপ্নেরা গুটিসুটি মেরে ঝিমোয়
নাছোড় সময়ের গায়ে জমে ওঠে কার্বন
ছোট্ট মেয়েটার কথা চোখ বুজলে মনে পড়ে যায়
যার অসাহায় বাবা পুজোতে জামা দিতে না পারায় রাস্তার মোড়ে দাঁড়িয়ে দাঁড়িয়ে গাছ হয়ে গেছে
২)
পৃথিবী ঘুমাচ্ছে, হার অস্থি মজ্জা ছড়িয়ে পড়েছে ছাল ওঠা মাটির ওপর
দোকানির ফুলের মালায় এখন বাসি রাতের গন্ধ
রেল লাইনের ওপর পর পর সাজান লাশ
অগুরু ধূপ মালা খই
বেলুন ভর্তি বাতাস এক একটা লাশের সাথে বেঁধে দিলে
ধীরে ধীরে তারা শূন্যে উঠে ভাসতে ভাসতে চলে যাবে অনেক দূরে
ছায়াপথের কাছাকাছি ৷
৩)
এই কিছুক্ষণ আগে থেমে গেছে বৃষ্টি
নৌকার পাটাতনে চাঁদ অর্ধ নগ্ন হয়ে শুয়ে আছে
গাছেদের সঙ্গম শেষ হলে আকাশটা ভাগ হয়ে যায়
নিয়নের বাতিগুলোর অসুখ করেছে আজ
দীর্ঘনিঃশ্বাস জড়ো করে বেলুনগুলো ফুলিয়ে রেখেছি
রামধনু উঠলে ওরা ফিরে যাবে মেঘেদের কাছে৷
বৈশাখের মেঘ আবার ডাকহরকরার মত
ছুটতে থাকে দেশ থেকে দেশান্তরে