ধারাবাহিক কিশোর উপন্যাসে এ এফ এম সেবগাতুল্লা (পর্ব – ১৭)

সাবির সুবীর আর মাতলা নদী
কংকাল দুটির কবরস্থ করার পর সাবির সুবীর আরও একবার বাংলার পরিচিত মুখ হয়েউঠল। এই ঘটনার কিছুদিন পর আমঝাড়া গ্রামে কলকাতা বিস্ববিদ্যালয়ের তরফ থেকে খনন করার জন্য গবেষকদের একটি টিম গঠন করা হয়। যা সম্পূর্ণ ভাবে সাবির সুবীররের দেখানো পথে হতে চলেছে। সাবির – সুবীর এযুগের চার্লস ম্যাসনের মত যেন। এই চার্লস ম্যাসন সাহেব হরপ্পা সভ্যতা আবিষ্কারের আগে এই সভ্যতার সম্ভাবনার কথা বলেছিলেন। বা হাল আমলের বাংলাদেশের নরসিংদী জেলায় আবিস্কৃত উয়ারি ও বটেশ্বর নামে দুই গ্রামে প্রাচীন ভারতের সভ্যতা আবিস্কৃত হয়েছে। যার মূল আবিস্কারক হানিফ পাঠান ও তার ছেলে হাবিবুল্লা পাঠান। গ্রামের এই দুই ব্যক্তির লেখালেখিতে ইতিহাস বিশেষজ্ঞ মহল প্রভাবিত হয়। পরে জাহাঙ্গিরনগর বিস্ববিদ্যালয় খনন কার্যে এগিয়ে আসে। সাবির – সুবীর অনেকটা এই ভাবে কলকাতা বিস্ববিদ্যালয়কে প্রভাবিত করেছে। আমঝাড়া গ্রামের খননকার্য তারই নিদর্শন হতে চলছে।
আমঝাড়া গ্রামে সরকারি ভাবে খননকাজ হওয়ার সময় সাবির সুবীরকেও রাখা হয়েছে। ক্রমে ফিসারির কাছে যে ঢিবির কাছে মাটির বহু নিচে যে জাহাজটা আবিস্কৃত হয়েছিল তা সম্পূর্ণ ভাবে মাটি ছড়িয়ে নেয়ার সিধান্ত নেয়া হয়।জাহাজ যত উন্মুক্ত হয় ততই উন্মুক্ত হয় তার হারিয়ে যাওয়া ইতিহাস। জাহাজের উপস্থিতি দেখে সহজেই বিচার করা যায় তৎকালীন ক্যানিং টাউনের কাছে মাতলার নাব্যতা। যা আজ ভাবতে অবাক লাগে ।ক্যানিংএর কাছে সুকিয়ে যাওয়া মাতলার চরায় কাঁঠালবাড়িয়া গ্রামের ছেলেরা এখন ফুটবল খেলে। গ্রামীণ ভাবে ওরা বলে ‘বলখেলা’।
জাহাজের ইতিহাস ক্রমে হারিয়ে যাওয়া ইতিহাসের মিসিং লিঙ্কের সন্ধান দিচ্ছে। তোমরা জানো যে ক্যানিং বন্দর চালু হওয়ার পর যখন জাহাজ চলাচল শুরু হবে। তখন পাঁচ ছয়টা জাহাজ বন্দরে ভেড়ার কথা। এর মধ্যে বিরাট ঝড়ের সম্মুখীন হয় জাহাজগুলো। এর মধ্যে ক একটা জাহাজ আর ফেরেনি । তবে পুরোপুরি সিধান্ত নিতে গেলে আরও কিছু পরীক্ষা নিরীক্ষার প্রয়োজন। সেই প্রক্রিয়াই চলছে।
চলবে