কবিতায় পদ্মা-যমুনা তে গোলাম কবির

সুতাে কাটা ঘুড়ির মতো
যখন সেচের জন্য পানির অভাবে
ফসলের জমির কষ্টে ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠীর
দুইভাই কীটনাশক পানে আত্মহননের
পথ বেছে নেয়, যখন সন্তানহারা পিতা
অদৃশ্য শক্তির কাছে মাথা নত করে
নির্মম হত্যাকাণ্ডের বিচার চাইতে
ভয়েই হোক কিংবা হতাশায় হোক
বিরত থাকে, যখন এদেশের মানুষ
দেখছে যে – কী সুন্দর মেট্রোরেল
হয়ে যাচ্ছে, মেঘনা, যমুনা, পদ্মা ইত্যাদি
বিভিন্ন নদীতে সেতু এবং কতো কতো
চোখ ধাঁধানো উড়ালসেতু হয়ে গিয়ে
আলো ঝলমলে শহর গুলো আর
আগের মতো চেনাই যাচ্ছে না,
কেমন জানি বদলে গেছে ভীষণ –
মানুষের মনের মতোই, টিসিবির ট্রাকে
ভর্তুকির পন্য কিনতে গিয়ে ক্লান্ত, হতাশাগ্রস্থ
এবং উদ্বিগ্ন মানুষের মিছিলের সমান লম্বা
ভীড় একটা সময় নদীর ঢেউয়ের সমান
হতে হতে আরো বেড়ে যাচ্ছে!
তখনো কী বলবো আমরা বাংলাদেশের
মানুষ গুলো খুব ভালো আছি?
তখনো কী বলবো না আমাদের স্বাধীনতা
পঞ্চাশ বছর পরেও কেমন জানি
সুতাে কাটা ঘুড়ির মতো উড়ছে,
সুতাে কাটা ঘুড়ির মতো উড়তে উড়তে
কোথায় জানি হারিয়ে যাচ্ছে!
কোথায় জানি হারিয়ে যাচ্ছে!
কোথায় জানি হারিয়ে যাচ্ছে!