স্মরণে লতাজী তে অমিতাভ সরকার

লতা মঙ্গেশকরঃ আওয়াজ কি পেহচান
লতা মঙ্গেশকর আজ সুরের দেশে।একদিন সবাইকেই সবকিছু ছাড়তে হয়।যুগেরও বয়স হয়।যিনি এতগুলো জাতীয় ভাষায় সুরের বোল ফুটিয়েছেন, যিনি নিজেই একটি চলমান মানচিত্র,দেশের যে কোনো অনুষ্ঠানে আজও যাঁর গান শুনে আবেগবিহ্বল হয় গোটা ভারতবর্ষের মানুষ, মনের মণিকোঠায় যার জন্যে কালের পর কাল রাখা থাকে অসম্ভব সম্ভ্রম ও শ্রদ্ধা, তাঁকেও প্রকৃতির নিয়মে চলে যেতে হয়, জায়গা খালি করে দিতে হয় আর-চারটে সাধারণ মানুষের মতো সুস্থ-অসুস্থতার লড়াই-সংগ্রামের দরদাম করেই।
আমরাও চলে যাবো কোনো একদিন।এখানে কেউই আমরা শাশ্বতকালের অনন্তপথের যাত্রী নই।সময়ের এক একটা দিন এগোনোর মানে আমাদের জীবন থেকে এক একটা দিন কমতে থাকা। কিন্তু আজ সারাদিন বেশ মনে হচ্ছে আমার কোনো বিশেষ আপন-জন বুঝি আমায় ছেড়ে চলে যাচ্ছে। দেখানদারির পৃথিবীতে আমরা সবাই আমাদের মুগ্ধতার হিসাব দিতে ব্যস্ত। তবুও মনের মাঝে কোথাও যেন ঘরটা খাঁ খাঁ করছে। ছোটো থেকে চিরচেনা গানগুলো মনটার মধ্যে কোনো এক গভীর আবেশ সৃষ্টি করে চলছে। কেবলই মনে হচ্ছে এই শূন্যস্থান পূর্ণ হওয়ার নয়।খুব ছোটোবেলায় মায়ের কাছে শুনতাম কারা যেন বলেছিল নাকি লতা মঙ্গেশকর মারা গেলে তাঁর ওই কণ্ঠ সংরক্ষণ করে রেখে দেওয়া হবে। এইরকমভাবে কিছু রাখা যায় কিনা আমার জানা নেই,তবে এখন যখন সত্যিই উনি সুরের পরপারে চলে গেলেন তখন তো কণ্ঠটা নিয়েই গেলেন,সাথে নিয়ে গেলেন ওঁর সাধনা,অধ্যবসায়, কষ্ট এইসবকিছুই। কেউই যেমন কিছু দিতে পারে না,তেমন কেউই কিছু নিয়েও যেতে পারে না। এখান থেকে নিয়ে আবার এখানেই সব রেখে চলে যাওয়া।তবুও যখন সেই আওয়াজ শুনতে পাওয়া যাবে মনে হবে ওই তো উনি গাইছেন।সেই কণ্ঠ!