সাপ্তাহিক ধারাবাহিকে মধুমিতা রায় (পর্ব – ১০)

এই জীবন
স্কুল থেকে ফিরে ফ্রেশ হয়ে বেরোলো মনিমালা।দীপার সাথে মিট করার কথা ছটায়।দীপা দুপুরেই একবার ফোন করে রিমাইন্ডার দিয়েছে।
মেয়ের আর বরের সন্ধ্যাবেলার খাবার গুছিয়ে চটপট রেডি হয়ে নিল।
দীপা কফিশপের বাইরে দাঁড়িয়ে ছিল।দূর থেকে মনিমালাকে দেখে হাত নাড়লো।
মনি পৌঁছতেই জড়িয়ে ধরল দুহাতে।
… চল, ভিতরে যাই।
কফিশপের কোনার দিকে একটা টেবিলে এক ভদ্রলোক বসে ছিলেন।স্কাই ব্লু শার্ট চোখে চশমা।দীপাকে সেই টেবিলের দিকে এগিয়ে যেতে দেখে অবাক হল মনিমালা।
… আয়, আলাপ করিয়ে দিই।ও অরূপ।অনেকদিন তোকে বলবো বলবো করে বলা হয়নি।মালদায় পোস্টিং থাকাকালীন ওর সাথে আলাপ।একই অফিস ছিল।তারপর পেরিয়ে গেল এগারো বছর।
মনিমালা ঠিক বুঝে উঠতে পারছিল না।ওর চোখ দেখে ব্যাপারটা বুঝতে পারল দীপা।
… ভালোবাসা বুঝিস? অক্সিজেন? যখন দমবন্ধ হয়ে আসে তখন মুক্তি বুঝিস?অরূপ আমার মুক্তি, আমার অক্সিজেন।
দীপার হাতে আলতো হাত রাখলো অরূপ।
… যখন তোর মিলনদা টাকার পিছনে ছুটছে আমার জন্য সময় নেই একটুও তখন ও আমার জীবনে আসে।তখন আমার ছেলেটা একদম ছোট্ট। সেই থেকে…
মনিমালার চোখে জল এলো।বুকের ভিতরটা চিনচিন করে উঠল।ঈর্ষা হল কি!