গদ্যের পোডিয়ামে মধুপর্ণা বসু

ব্যক্তিগত ও সামাজিক জীবন
মানুষ যেহেতু বিশ্বকর্মার সৃষ্টি নহে, সেহেতু প্রতিটি সৃষ্টিতেই খুঁত, ত্রুটি, অধিক অল্প হইবে অবশ্যই। আর নারী পুরুষ যখন কোন স্থায়ী সম্পর্কে যাইবার কথা চিন্তা করে সেইরূপ অবস্থায় সেই সম্পর্কে সচেতন হইয়াই গৃহ
নামক বস্তুটিকে দৃঢ় করিবার সঙ্কল্পে প্রস্তুত হয়। অতএব ইহা তাদের পূর্ব জ্ঞাত বিষয়। এবং সূচনায় এইরূপ গুরুত্বপূর্ণ বিষয়গুলি প্রেম ভালোবাসা এবং অনুভূতি উত্তেজনার আতিশয্যে তাহারা বিস্মৃত হয়। সময় অতিবাহিত হইতে হইতে যখন পারস্পরিক শ্রদ্ধাবোধ এবং প্রেমের ঘাটতি পড়ে সেই ঈশান মুহূর্ত হইতে তাহারা একে অন্যের খুঁত এবং সীমাবদ্ধতাকে অধিক উপলব্ধি করিতে শুরু করে এবং সম্পর্ক হইতে পলায়ন করিয়া সেই চাহিদাগুলি অন্যের চরিত্রে সন্ধান কার্যে অত্যন্ত প্রবল উৎসাহে ব্যাপৃত হয়। তাহাতে ক্ষতি নাই, তবে সেক্ষেত্রে স্থায়ী সম্পর্ক বন্ধনে না যাইয়া, মনুষ্য ভিন্ন ভিন্ন ব্যক্তির মধ্যে শুধু নিজ নিজ চাহিদা চরিতার্থতা করিলে সমস্যা হয়না। তাহা না হইলে স্থায়ী আইনত সম্পর্কে নানাবিধ গোলযোগ বাধিয়া যায় এবং তাহাতে সর্বাপেক্ষা ক্ষতিগ্রস্ত হয় পরবর্তী প্রজন্ম। তাহাদের সম্মুখে জীবন সম্পর্ক, চাহিদা, পারস্পরিক শ্রদ্ধাবোধ, মায়া, স্নেহ ভালোবাসা লইয়া এবং এই মানবিক বৈশিষ্ট্যগুলি লইয়া সংশয় জাগে। অতএব এই দ্বন্দ্ব হইতে মুক্তি লাভ করিবার একমাত্র উপায় জীবনে কোন একটি সময়ে উপনীত হইয়া নিজের আগামী জীবনের কেন্দ্রীয় প্রয়োজন,চাহিদাকে সীমাবদ্ধ এবং ইংরাজীতে যাহাকে বলা হইয়া থাকে priority selection করিয়া লওয়া। সারা পৃথিবী জুড়িয়া অজস্র চাহিদা এবং বৈচিত্র্য, লোভনীয় প্রবৃত্তির উপকর ছত্রাকারে রহিয়াছে । কিন্তু এক জন্মে সর্ববিধ তো করায়ত্ত সম্ভব নহে। তাই নিজের অসীম চাহিদা, লুব্ধতাকে একটি সময় গণ্ডীর ভিতর লইয়া আসিলে এবং পারস্পরিক বোঝাপড়ার মাধ্যমে উভয় লিঙ্গের মনুষ্য সুখ কিঞ্চিৎ কম হইলেও শান্তিপূর্ণ সহাবস্থানে জীবন অতিবাহিত করিতে পারে।