মার্গে অনন্য সম্মান শ্রীস্বদেশ সাধক সরকার (সেরা)

অনন্য সৃষ্টি সাহিত্য পরিবার

সাপ্তাহিক প্রতিযোগিতা পর্ব – ৬৪

বিষয় – চুপকথা

ভজনালল


মহশে কোথায় চললি রে!আর বলিস না,
ছেলেগুলো দিনরাত আবদার করতে আরম্ভ
করেছে,দাদা,আর কতদিন এমনি করে
চলতে পারে।
তাই,ঠিক হল,সবাই মিলে একটা বৈঠক করে
আগামী কর্মসূচী ঠিক করব ভাবছি।
দাদার কথা শুনে বিনয় বেশ মুচকি হেসে
বললে,মিটিং ,ফিটিং বাদ দাও দাদা,তোমার
কথাই তো শেষ কথা।
দেখ,বিনয়,আমি তো বারবার বলেছি,বয়স
হচ্ছে,আর পারছি না,তোরা এবার ভার নে~
আসলে জীবনে একটা বিষয়,কি জানিস
বিনয়,দায়িত্ব বেশ কঠিন,কে আর নাক
গলাতে যায় বল,বলে উঠে মহেশ।
বিনয় বলে,জান সবাই সমালোচনা করে,
বলে মহেশটা ক্লাবকর্তা হয়ে বেশ গুছিয়ে
নিল। অথচ সবই চুপকথা,সব জানা অথচ
চুপকথা।
চুপকথা~এক বিশ্লেষণ ধর্মী অনন্য অস্ত্র। এ
কথা প্রমিলা মানে মহেশের প্রেমিকা ,সবাই
জানে ,কথাটা-হাটে সোরগোল,অথচ কেউ
জানে না বলে উঠে ওদের দলের কাবাডি
দলের নেত্রী সুজাতা।
সুজাতা আর প্রমিলা। মহিলাদের এক
আভ্যন্তরীণ সমস্যা ,ঐ ভালবাসা~যা
তোলপাড় করে দেয় দুনিয়া। দেখছিস
না বৈশাখী ঝড়ে কেমন তোলপাড় সব
ভজনালয়। কথাটা বলল আরেক ললনা
ত্রয়ী।
ভজনালয়ের ভজন মন্দিরের নাটশালা
জমজমাট। কত আলোচনা~সমালোচনা
বিহীন এক সভা যার ভজনায় সভা যেন
ঝিলিক দেয়।
সবাই বলে উঠল,এবার দাদা বলবে। মহেশ
বলল-এবার আমি কিছু বলব না। আমার
একটাই গল্প,তা হলো,আর এ পদে থাকতে
চাই না।
সবাই একসঙ্গে বলে উঠল,কখনোই না।
তুমি ছাড়া এ ভজনাগৃহ অন্ধকার। সুইচ অফ।
বাতি কি তুমি নিভে দিতে চাও। তছনচ হয়ে
যাবে আমাদের সখের ক্লাব“ভজনালয়”।
সবাই চুপ। চুপকথার আসরে এতক্ষণে
সবার নীরবতা।

মেয়েদের কোন কথা নেই কেন!
প্রমিলা,সুজাতা আর ত্রয়ী তো কিছু
বলছে না।
সুজাতা বলল,আমাদের সব কথা তো
প্রমিলাই বলে~
কেন তোরা যেন চুপ থাকিস। আমি শুনি নি,
না কি,মহশেদার নামে তোরা কি যা তা বলিস।
ব্যাস,আসর জমজমাট।
চুপকথার ভজনালয়ে সব বাইপাস~
সভা তখন রাসলীলা নিয়ে মুচকি হাসির
ঈশানী সংকেত~
বিনয় বেশ কিছুক্ষণ চুপ থাকার পর,বাদ
দে তো ও সব~
ও রকম সবার কিছু না কিছু থাকে। কিছু
চুপ থাকে,কিছু চুপকথা হয়ে নির্জীব হয়ে
সজীব থাকে। ঐ ডুমুরের ফুলের মত~
রহিম,একটু দেরীতে এসে যোগ দিয়েছে।
সবটা শুনে নি। তবে চুপকথার সব কথাই
তার জানা।
বলল,তা ,মহেশদা এবার কোন ট্যুর হচ্ছে~
না রে,রহিম,আর পারছি না। তাই ভাবছি
দায়িত্বটা এবার তোকেই দেবো। তোর মত
করিতকর্মা ছেলে খুব কমই।
কি যে বলো দাদা!
এ কথা শুনে ভজনালয়ের প্রমিলা বলে
উঠল,কখনোই হতে পারে না~
বিনয় বলে কেন হতে পারে না~
আরে ভজনালয়ের ভজন তো থেমে থাকতে
পারে না। কাউকে তো দায়িত্ব নিতে হবে।
সুজাতা বলে ঠিকই তো।
ত্রয়ী এতক্ষন শুনছিল। তারপর বলল,
কারো জন্য কিছু আটকায় না। সব চলে,
চলতে হয়,চলার পথ কেউ ঠিক করে না,
কিছু গাইডলাইন হয়ত দিতে পারে~
মহেশ দেখল,এ তো বেশ মুস্কিল । আসলে
চুপকথা ভেবে সে কথাটা পেড়েছিল,
ভেবেছিল ,সবাই নিমরাজী হবে।
কিন্তু,পুবের আকাশ কখন কুয়াশা ভরা হয়,
তা কি আর জানা যায়,হয়ত পূর্বাভাস
দিতে পারে। এখানে হাওয়া দপ্তর কেমন
হাওয়া হাওয়া।
সভায় কিন্তু চুপকথা সবার মনের কথা।
কেউ প্রমিলাকে আটকাতে চায়,কেউ
ভজনালয়ের টাকার অডিট চাই,কেউ মহেশ
কে প্রেমিক হিসেবে চাই।

ফেসবুক দিয়ে আপনার মন্তব্য করুন
Spread the love

You may also like...

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

কপি করার অনুমতি নেই।