কথ্য ভাষায় ‘ চাপর কলা ‘ চাঁপাকলা ! হয়ত । কলা না দেখালে ‘মাঞী’ সন্তুষ্ট হন না । মাকে ভুলিয়ে ভালিয়ে কলা দেখিয়ে তার ভিটেমাটি ছাড়া করবার ইতিহাস বড় প্রাচীন । মেজেডি বা বনগ্রাম প্লটের উদ্বাস্তুরা নিজেদের বাড়ন্ত উঠোনে মায়ের নিজের হাতে লাগানো তুলসী আর চাঁপাকলাকে স্থান দিতে না পেরে গর্ব অনুভব করে । লোহা কারখানার ছাই, সিমেন্ট কারখানার ছাই, রাস্তার ধারের নার্সিংহোমের পাশে যে জীবন্ত পাথর ভাঙ্গার কারখানা তার ছাইভস্ম মেখে সদাশিব।দূরে আমলৌকায় দাঁড়িয়ে , সঙ্গমরত অবস্থায় , অণ্ডাল বিমানবন্দর থেকে উড়ে যাওয়া বিমানের খোঁজ রোজ নেয় তামলা এবং বরিগপোঁতা নদী । দেড় মাইল দূরে উখড়োর রথ। আধ মাইল দূরে ইছাপুরগ্রামের রথ। রথ দেখা আর কলা বেচা দুটোই সমানতালে ক্রিয়াশীল। ইছাপুরগ্রামের উত্তরপূর্বে একটা যমের মন্দির আছে। পাহারাদার। মন্দিরের পিছনে মিথেন গ্যাসভান্ডার।মাটির তলায় গ্যাস, কয়লা। উঠিয়ে লে। একবার যদি আগুন লাগে তবে জ্বলে পুড়ে খাক। সপ্তাহেএকদিন যমের পুজো দেন গ্রামের চাষী বউ কল্যাণী। সকলের কল্যাণের জন্য।কলা।এখন কেউ অন্যের জন্য চিন্তা করেনা। করে নিজের জন্য,নিজের স্বামীর জন্য, নিজের সন্তানের জন্য।এটাই যুগধর্ম।
ধর্ম কি যম? যমের দুয়ারে পড়ল কাঁটা!
হতে পারে আবার নাও হতে পারে । ধর্মটাই অধর্ম। বিভেদ। ধর্মব্যবসায়ীরা জানেন
জাতপাতের হাত পা মাথা মুণ্ডু কুমারডিহির পরিত্যক্ত খোলামুখ খনিতে ফেলে দিলে জীবনেও উঠবে না । কিন্তু তাঁরা বিভেদ চায়!তাই জলজ্যান্ত টুমনি নদীকে কালোদানোরা চিবিয়ে চিবিয়ে খেয়ে লিলে তার হাড়গোড় ছুঁড়ে ছুঁড়ে সেই অতল খাদে ফেলে দিলে আর জোয়াল ভাঙ্গার তীরে দাঁড়ায় ধর্ম লাচ্ছে । লাচুক । রামাই পণ্ডিত শূণ্যপুরানে চিনিচাঁপাকলা সম্পর্কে গাইছেন –
চিনিচাঁপা কলা সেত ফুল মালা
আগোর চন্দন আর ।
ঘৃত মধু ফল আতপ তণ্ডুল
গঙ্গাজল ভারে ভার ।।
বাংলার গ্রামে গৃহস্হের ঘরে কলার গাছ থাকত। কত ধরনের কলা, কত তার নাম।কলার পাতা ছিল পবিত্র, খোল ছিল পূজার অঙ্গ। কলার ফুল (মোচা) এবং থোড় ছিল বাঙালির প্রিয় খাদ্য।কলার তন্তু দিয়ে কাপড় বানানো হত। বাঙালির জীবনের অঙ্গ ছিল কলা তাই সে কলা বিক্রি করতে করতে রথের মেলা দেখত। ধর্মকর্মে পাকাকলা শুধু নয় কাঁচকলাও পূজার অঙ্গ। কাঁচকলার খাদ্যগুণও অসাধারণ। সস্তার খনিজ লোহা। অনেকের শ্রাদ্ধে আবার কাঁচকলা দিতে হয়। নেতাদের কলা দেখাতে পারে না বলেই চিনিচাঁপা কলা কারবাইড ঢেলে হলুদরঙা করা কলা কিনে পায়ে নিবেদন করে। রক্ষা কর মা।