বৃষ্টিতে ভেজা আর গুনগুন গান গাওয়া আমার জীবনে এসেছে বহুবার। আমি একাকী গেয়েছি সে গান। গান আমাকে শিখিয়েছ সুনির্মল থাকার জলধারা। আমি ভালোবাসতে পারিনি অন্যের জীবনকে। যে জীবন বলে দেবে বিরহ মুহূর্ত বেদনার নয় আনন্দের। সরল জলকণা জীবের দুঃখকে আপন করতে শিখিয়েছে। আলোর ঝর্ণায় ভাসতে শিখিনি। দমকা হাওয়াও শেখায়নি হৃদয়ের উল্টো দিকে আছে অন্ধকার। এগিয়ে চলার পথ সংকীর্ণ হতে হতে বিবর্ণ হতে পারে তাও কেও জানায়নি। প্রাণ ভরা অনাবিল আনন্দ। টাল খেতে খেতে অদেখা এক প্রেমহীন প্রেমিক। বুকচাপায়। যদি খুলে দেখতে পারতাম হৃদয়কে? অহরহ রাতবেলায় চোখ বন্ধে খুব জোরে জোরে শ্বাস নিই জীবনভোর টানাপোড়েনে। রাত বাড়লে দেখা পায় এক সরল অবয়ব। কি উজ্জ্বল মুখ। প্রাণবন্ত। এখন রূপকথার আঙিনায়। কেও কি আছে আজ সে প্রশ্নে জর্জরিত। ঘুম ঘোরে চিৎকার করে বলি – এসো আমরা স্বপ্ন ঘর বানাই।
আমার খোঁজ
খুঁজেছি অনেক। কি পেলাম কি পেলাম না থাক সে কথা। তবুও এক পলক দেখা গভীরে এখন। সারাদিন খোঁজে না তো এই চোখ? তবে? এই রাত অনন্ত প্রেমের। নুপুরের শব্দ কানে আসে। অপলক দৃষ্টি। পাশ ফিরি এদিক ওদিক। এই ধ্বনি বিচ্ছুরিত চারিদিকে। কেন দেখতে পাইনা কে জানে। উঠে বসি খুঁজি আর খুঁজতেই থাকি পাওয়ার আনন্দে। এখন গভীরে রাত। আমার বিছানা স্বপ্নিল জুঁই ফুলের গন্ধে। আমি ফুল ছড়িয়ে দিচ্ছি দুহাতে। উড়িয়ে দিচ্ছি স্বপ্ন যে স্বপ্নে রূপ নেই, আছে এক না পাওয়ার যন্ত্রণা। বিশ্বাস করো মুক্ত হতে চাই। খোঁজ আমাকে কুড়েকুড়ে খাচ্ছে। উড়িয়ে দিলাম স্বপ্ন তরী। এই তরী থামবেনা কোথাও। চলবে অনন্তকাল। আমি অন্ধকারে ঘুমিয়ে এখন।
হঠাৎ
অলৌকিক নিঃশব্দ ডাক। সারা শরীর ভাঙা বেহালার সুর তুলছে। আমি উড়িয়ে দিচ্ছি দুহাত। ঘুরছি আর ঘুরছি আনন্দের বেড়াজালে। নতুনভাবে পাওয়ার আনন্দে। শাশ্বত প্রেম। যে প্রেম যন্ত্রণা দেয় না। আমি দুরন্ত গতিতে ধারালো ছুরি তুলে নিই। কেটে ফেলি রক্তশিরা। হাত বেয়ে ঝড়ছে ঝর্ণাধারার স্রোত। আমার নিঃশব্দ জয়োল্লাস।
রক্তস্নানে লিখে দিই – বস্তুত আমি এক হৃদয়হীন প্রাণী।