সপ্তাহিক ধারাবাহিক উপন্যাসে সোনালি (পর্ব – ৪৭)

রেকারিং ডেসিমাল

বড় মাসি খাটে এসে বসেন নড়ে চড়ে।
এই বউ চা টা নিয়ে এসে বস দেখি এখেনে। জরুরী কথা বলি। যাও জলদি এসে বসো।
বউ মুচকি হেসে রান্নাঘরের দিকে ছুট লাগায়।
একবার চা করলে কমসে কম দশ কাপ।
দাদু দিদা সেজকাকু কাকি শ্বশুর শ্বাশুড়ি বড়মাসি তার বর দুই পুচকে ননদ।
সামনের বাড়ি থেকে সেজপিসি, বা তাঁর বর, বা আর কেউ যদি দাদু দিদার সাথে দেখা করতে এসে থাকে ত কাপের সংখ্যা বাড়ে।
বউ নিজে চা খায় না। বাপের বাড়িতে মা চা, কফি কিছুই খান না। বাবা খালি নেসক্যাফে খান, কাজেই চায়ের স্বাদ বউয়ের হাতে যা দাঁড়ায়, খেয়ে কান্না পায় সবার।
গায়ত্রীদি আর শ্বাশুড়ি দু জনেই ধৈর্য্য ধরে শেখায়।
কে শুধু লিকার খায় দুধ চিনি ছাড়া। কে একটু গাঢ় চা কম চিনি দিয়ে, কে বেশি দুধ বেশি চিনি। আস্তে আস্তে মুখস্থ করে বউ। যাতে চায়ে চুমুক দিয়ে আআহ বলে তৃপ্ত হয় মুখগুলো।
এ মানুষগুলোকে ভারি মজার লাগে তার। অন্যরকম। কিন্তু ভালো।
চায়ের কাপ আর বিস্কুটের বয়াম নিয়ে ফের এ ঘরে এসে বসে নতুন বউ।
পাকড়াও করে বড় মাসিকে।
বল দেখি কি বলছিলে।
হ্যাঁ, শোনো বলি।
আমি আসলে তোমার বরের মামা, বুঝেছ ?
ভ্যাবাচ্যাকা খায় বউ।
দিব্যি গোলগাল, মহা গিন্নিবান্নী মহিলাকে মামা ভাবা মুস্কিল।
আররে, দেখছ কি ? জান কে বাচ্চাকে অন্নপ্রাশনের অন্ন খাওয়ায়? তার মামা।
কুমারের ত নিজের মামা নেই। আমিই হাতে করে খাইয়েছি।
আমার শ্বশুর বাড়ি, মানে যাদবপুরের বাড়িতেই তার মামাভাত খাওয়ার অনুষ্ঠান ও হয়েছে। আমার শ্বাশুড়ি ও ছিলেন সে সময়। পায়েস করে দিতে বলেছিলেন। মাছ, ভাত সব খাওয়ানো হয়েছিল সবাইকে।
তাই আমি মামা হয়ে তোমায় নিয়ে ও এলাম, কাকি ও কাকা হয়ে গেল ত আমার সঙ্গে।
মেয়েরা ইচ্ছে করলে সব পারে বুঝলে।
নতুন বউ দিব্যি বোঝে। সে কিনা তার বাবা মায়ের একমাত্র চিত্রাঙ্গদা।
গল্পের লোভে , বলে, তারপর ?
পর না। তারো আগে। দাঁড়াও বাবু, চা খেয়ে নিই। গলা শুকিয়ে গেছে।
তারপর বলব, তোমার বর বাবাজী এত বাদুলে কেন।
ফেসবুক দিয়ে আপনার মন্তব্য করুন
Spread the love

You may also like...

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

কপি করার অনুমতি নেই।