ইংরেজি ২৬শে জুলাই ২০২১ বাংলা ৯ই শ্রাবণ ১৪২৮ সোমবার
জুলাইয়ের গায়ে ধীরে ধীরে সন্ধ্যা নেমে আসছে।অথচ শ্রাবণমেঘ এখনো পূর্ণ যুবতী, ভাসাভাসি বৃষ্টিতে ভিজে যাচ্ছে পথিক। জোড়ায় জোড়ায় ট্রেন বাতিল। বহুদিন এ পথে কেউ হাঁটে না,পুরুষের গালে অখেয়ালে যেমন বেড়ে ওঠে দাড়ি সেভাবেই আয়োজন বিহীন বাড়তে থাকে রেললাইনের ঘাস।
মানুষের আকাল।প্ল্যাটফর্ম শূন্য। যেন মন্দিরে একা বসে আছেন বিগ্রহ, ভক্তরা বিশ্রামে। দূরত্ব কেনাবেচা খতম করে নিথর পাথুরে গুহার ভেতর ঢুকে যাচ্ছে সবকটা যাত্রীবাহী সভ্যতা।
অভাবের কোন সমার্থক নেই,এটা ভাবতে ভাবতে একদিন আমিও বোধহয় খিদে গুনে নিতে শিখে যাব। কী জানি সব ঘরেই হয়ত লুকোনো থাকে একটা প্রশ্নচিহ্ন,যার উত্তর কেউ কোনদিন খুঁজেও পায়না।
মানুষ এবং তার আত্মা সংক্রান্ত কত বই।কত তথ্য কত গবেষণা।মৃত্যুর পর একটা জলজ্যান্ত আত্মা নাকি যত্রতত্র ঘুরে বেড়ানোর শক্তি পেয়ে যায়।কোনোদিন সে আপনার ঘাড়ের কাছে গরম নিঃশ্বাস ফেলছে আবার কোনোদিন আপনার ভেতরের নদীতে ফেলছে বিরাট বিরাট পাথর। আপনি কাঁধ চওড়া করে বসছেন,ইনহেল করতে করতে শুষে নিচ্ছেন আশেপাশের যাবতীয় ঋণাত্মক।
পরশু গুরু পূর্ণিমা ছিল। সকলে দেখলাম উপাচার সাজিয়েছেন। ভরা বাদলদিনে কদমফুল দিয়ে সাজিয়ে দিচ্ছেন গুরুর পাদু’টো। আমি শুক্রাচার্যকে ভাবছি। ভাবছি তাকেই জিজ্ঞাসা করি, “আচ্ছা বলতে পারেন আমার গুরু কে?”। নাহ এর ও উত্তর মেলা সহজ নয়।
দর্শন বলে অন্যকিছু। দর্শন ভাবে অন্যরকম। সবকিছু জীবনে বলেকয়ে আসে না,আসা যাওয়া ঝড়ের মত,আর আমরা সেই হঠাৎ কালবৈশাখীর মাঝে একটা ছোট্ট পাখির বাচ্চা। ঝড় থামলে হালকা ঠান্ডা যেমনভাবে ভিজিয়ে দেয় ভুলিয়ে দেয় বুকের কাঁপুনি, সম্পর্কগুলোও তেমনি আদুরে বাতাস।
আমি একটি অস্তিত্ব, আমি একটি মানুষ, আমি রাম না শ্যাম এই জ্ঞানটুকু আসার আগে পর্যন্ত সময়টা অন্ধকার। এরপর থেকে সরাসরি আমি-ই একমাত্র আমার গুরু,আমিই পৃথিবীর শ্রেষ্ঠ দার্শনিক।
ত্রিভূজের মধ্যমা যে বিন্দুতে এসে বৃত্তের স্পর্শককে ছুঁয়ে দেয় ঠিক সেই পয়েন্টে শিড়দাঁড়া না ভেঙে ঋজু থাকতে পারলে প্রতিটি মানুষই কোনো না কোনো মুহূর্তে ঈশ্বর হয়ে ওঠে…