|| নারীতে শুরু নারীতে শেষ || বিশেষ সংখ্যায় অরণ্য আপন

কেন আমি তোমাকে প্রত্যাখ্যান করি?

তোমার তো জানালা বন্ধ রাখার স্বভাব
আর আমার আকাশ না দেখলে চলেই না
তুমি আমার জীবন থেমে দিতে চাও অথচ আমি নদীর বোন
তুমি আমার রাস্তা মেপে রেখেছ
আমার কণ্ঠস্বর বন্দি করে রেখেছ
কেন আমি তোমাকে প্রত্যাখ্যান করি তুমি বুঝতে পারছ?
মনে মনে দুলে দুলে তুমি একজন দাসী খুঁজছ
যে তোমার খাবার রান্না করবে
ঘর পরিষ্কার করবে
তোমার জামাকাপড় ধুয়ে দেবে
যাকে রাতে বিছানা করে উপভোগ করবে
তার ভালোলাগা খারাপ লাগা দেখবে না
তার শরীরে বৃষ্টি নেমেছে
নাকি চর পড়েছে তুমি দেখবে না
তুমি দুই হাতে খুদলে যাচ্ছ
তুমি দুই পায়ে মুচড়ে যাচ্ছ
তুমি গাছের ওপর চটে গেছ
বুঝতেই চাচ্ছ না আজ ফুল ফোটার দিন না
তুমি রাতের ওপর চড়ে গেছ
বুঝতেই চাচ্ছ না আজ কোথাও অন্ধকার হবে না
মনে মনে দুলে দুলে তুমি আসলে দিনের বেলায় একজন গৃহকর্মী খুঁজছ আর রাতের বেলায় একজন পতিতা খুঁজছ
তোমাকে সেজদা করার মানুষ তুমি পাবে
তোমার পায়ের নিচে বেহেশত খোঁজার মানুষ তুমি পাবে
তুমি আমাকে ছেড়ে দাও
আমার জীবন থেকে বের হয়ে যাও
আমি ভাই হৃদয় উদযাপন করা মানুষ
তুমি আমাকে অধিকার করে যাচ্ছ
এমনকি আমাকে না দেখে, না অনুভব করে
কেন আমি তোমাকে প্রত্যাখ্যান করি তুমি বুঝতে পারছ?
আমি একজন বন্ধু খুঁজছি, একজন মানুষ খুঁজছি
যে কপালে টিপ পরলে বলবে না বেশ্যারা টিপ পরে
যে নাচলে বলবে না নর্তকী
যে গান করলে বলবে না হারাম
আমি একজন বন্ধু খুঁজছি, একজন মানুষ খুঁজছি
যে রাস্তার পাশে দাঁড়িয়ে ঝালভাঁজা খেয়ে আমার সাথে মুখের লালা ফেলবে
যে রাতে আমার সাথে জোস্না কুড়াতে বের হবে
যে আমার অাঙুলে অাঙুলে ফুল ভরে দেবে
যে আমার চোখে চোখে স্বপ্ন বুনে দেবে
যে সপ্তাহে একদিন হলেও আমাকে একটা লাল গোলাপ দেবে
তুমি আমাকে ছেড়ে দাও
আমার জীবন থেকে বের হয়ে যাও
তুমি আমাকে পায়ে পায়ে কবরে নিয়ে যাচ্ছ
আমার আকাশটা পইপই করে দূরে সরিয়ে দিচ্ছ
তুমি ভেবেছ ঘোমটা তুললেই আমার মুখ দেখতে পাবে
আরে পাগল আসল চাঁদ আকাশে নয় মনে থাকে
মন খুলতে জানতে হয়
তুমি তো একটা মূর্খ কলাগাছ
যে বই পড়ে না, আকাশ দেখতে পছন্দ করে না
তুমি ভেবেছ শাড়ি খুললেই আমার শরীরে ঝাপ দিতে পারবে
আরে পাগল ওটা শরীর নয়, ওটা নদী
নদীতে নামতে জানতে হয়
তুমি তো একটা মূর্খ কলাগাছ
যে বই পড়ে না, আকাশ দেখতে পছন্দ করে না
কেন আমি তোমাকে প্রত্যাখ্যান করি তুমি বুঝতে পারছ?
সপ্তাহে একদিন আমি আকাশে হাঙ্গামা করব
পুরো আকাশটা দখল করব
সমস্ত তারাদের নিভে দিয়ে আমি একা জ্বলে থাকব
মানুষটা আমার আলো হবে
তুমি আমাকে মাছধরা জাল বানিয়ে ফেলেছ
ছাই তোলা হোঁচা বানিয়ে ফেলেছ
হাত মোছা আকবরিয়া হোটেলের তোয়ালে বানিয়ে ফেলেছ
তুমি আমাকে পেয়েছটা কি?
তুমি আমাকে এত হাতাও কেন? আমাকে এত খুলো কেন?
আমাকে হাতালে জীবনানন্দ দাশ পাবে
আমাকে খুললে আকাশ পাবে
কেন আমি তোমাকে প্রত্যাখ্যান করি তুমি বুঝতে পারছ?
তুমি বকেই যাচ্ছ আমি হয়ে যাচ্ছি তসলিমা নাসরিন
তুমি বাজিয়েই যাচ্ছ সকাল সন্ধ্যা বিষের বীন
আমি মরা গন্ধের ঢেউ না
আমি পুরুষের কেউ না।

ফেসবুক দিয়ে আপনার মন্তব্য করুন
Spread the love

You may also like...

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

কপি করার অনুমতি নেই।