সাপ্তাহিক ধারাবাহিক কথা সাগরে শম্পা রায় বোস (পর্ব – ১৩)

আমার মেয়েবেলা
(শৈশবের পূজো)
শৈশব এর পুজো আমি আর মনে করতে চাই না। সে স্মৃতি বড়োই বেদনাদায়ক আমার কাছে।। তবুও তো মনে পড়ে যায় মহালয়ার দিন থেকেই।
ভোর বেলা যখন কানে আসে-
যা দেবী সর্বভূতেষু মাতৃরূপেণ সংস্থিতা।
নমস্তস্যৈ নমস্তস্যৈ নমস্তস্যৈ নমো নমঃ।।
“যা দেবী সর্বভূতেষু শক্তিরূপেন সংস্থিতা নমস্তস্যৈ নমস্তস্যৈ নমস্তস্যৈ নমো নমঃ।”
বুকের ভেতরটা কেমন উথালপাতাল হয়ে যায়। শরীর থেকে একটা অদ্ভুত শক্তি যেন বেরিয়ে আসতে চায়। চোখ বন্ধ করে কিছু একটা অনুভব করার চেষ্টা করি। নিজের অজান্তেই চোখ দিয়ে জল গড়িয়ে পড়ে। মনে হয় বাবা যেন এক্ষুনি ট্রে তে করে চা নিয়ে ঘরে ঢুকে বলবে —–
চা খেতে খেতে শোন ভাল লাগবে।
মুহূর্তে চলে যাই সেই ফেলে আসা দিনগুলোতে।
মা দুলে দুলে একমনে শুনে চলেছে বীরেন্দ্রকৃষ্ণ ভদ্রর ঐ অসাধারণ গলায় যা দেবী সর্ব ভূতেষু,,,,,,,,, আর বাবা তখন ডেকে বলছে—- “নাও কল্পা এবার চা টা খেয়ে নাও। এই মহিলা যে কি বুঝি না বাবা ,, মহালয়া শুনতে শুনতেও কাঁদে।”
আর সন্টু (ভাই) তার কথা আর কী বলব সেজে গুজে বসত মহালয়া শুনতে । ব্যাস একটু পরেই মাকে বলত যুদ্ধের সময় ডেকে দিও। মায়ের কোলে মাথা দিয়েই ঘুমিয়ে পড়ত।
মহালয়া শেষ হলেও ওকে তোলা যেত না। তখন একেবারে ঘুমিয়ে কাদা। আর আমার আবার একটা নৈতিক কর্তব্য দায়িত্ব ছিল। আলো ফুটলেই ফুলের সাজি নিয়ে বেরিয়ে পড়া। স্পেশাল দিন ফুল তো লাগবেই।
এসব কথা চেষ্টা করেও ভোলা হয় না। ভোলা গেল না কিছুতেই। আর গেল না বলেই বুকের যন্ত্রণাটাও কমল না। মহালয়ার দিন কানে বালিশ চাপা দিয়ে শুয়ে থাকি।।
বাবার কাজের সূত্রে আমার শৈশব কেটেছে ফরাক্কায়। খুব সুন্দর ছোট্ট একটা জায়গা।
খুব ভোর বেলায় বন্ধুদের সঙ্গে ফুল তুলতে যেতাম। হালকা শীত,,মাঠে দোল খাওয়া কাশ ফুল,,মাটিতে পড়ে থাকা সাদা কমলা ডাঁটির শিউলি ফুল আমায় মনে করিয়ে দিত পুজো আসার কথা।
আর মহালয়ার আগে যখন বাড়ি ঘর ঝাড়া হতো? পরিষ্কার করা হতো একটা রবিবার দেখে?
মনে তখন একটা রিণরিণে সুর বেজে উঠত। বাবা বলতো ,”মহালয়ার আগে সব পরিষ্কার করতে হবে। তারপর আর নয়। দেবীপক্ষে ঘর ঝাড়াঝাড়ি করতে নেই। মহালয়ার দিন স্বর্গের দরজা খুলে যায়। মা দুর্গা বেড়িয়ে পরেন তার ছেলে পুলে নিয়ে। সাতদিন সময় লাগে আসতে। অনেক দূর তো??”
আজও আমার বাবার কথা গুলো বিশ্বাস করতে ইচ্ছে করে। কাউকে একটা জিজ্ঞেস করতে ইচ্ছে করে। নিদেনপক্ষে ভাই কেও— বাবা কি সত্যিইইইইই গল্প বলেছিল? সত্যিই কি মা দুর্গার আসতে সাতদিন সময় লাগে?
কিন্তু কাকে করব জিজ্ঞেস?? কেউই তো নেই!! এখন ঘর পরিষ্কার করতে হয় তাই করি। নতুন জামা কাপড় কিনতে হয়,,, তাই কিনি,,,
ছোট বেলায় আমাদের অত বেশি জামাকাপড় হোতো না। খুব জোর দুটো। আর একটা সাদা ফুলকাটা টেপজামা আর দুটো ঘটি দেওয়া প্যান্ট। এখনও মনে আছে আমার প্রিয় প্যান্ট গুলোকে। দুপাশে পকেট ও থাকত। দারুণ ছিল। একদম মোটা সুতির কাপড়ের। প্রতিবার ই একটা মেরুন আর একটা নেভি ব্লু কালারের কেনা হত। মাকে কোনও দিন বলিই নি আর কোন রঙ ছিল না? বাবা এক একসময় বলত সবুজ ছিল না? বাবা সবুজ রঙ খুব ভালোবাসত। পরের দিকে মা ও দেখতাম খুব সবুজ সবুজ করত। কিন্তু আমি জানতাম মায়ের প্রিয় রঙ ছিল লাল।
আসলে আমরা মেয়েরা ধীরে ধীরে স্বামী, সংসার কে এতটাই ভালবেসে ফেলি যে নিজেদের পছন্দ টাই ভুলে যাই। আমরা একটা অচেনা মানুষ এবং তার পরিবারের কাছে এতটাই নিজেকে সঁপে দিই যে বেলা শেষে মনেই পড়ে না যে আমাদের চাওয়া, আমাদের ভালোলাগাটা— আসলে ঠিক কী ছিল।
বাবা চলে গিয়েছিল একষট্টি তে। মার তখন কত আর বয়স। কী বড়ো সিঁদুরের টিপ পরত! আর অসম্ভব ভালোবাসত লাল রঙ। চওড়া লাল পাড় শাড়িতে একেবারে রাজরাণী লাগত। কিন্তু বাবা চলে যাওয়ার পর সবুজ পাড়ের শাড়ি ছাড়া কিচ্ছু পরত না। আর একটু বয়স হতে মাকে ম্যাক্সি পরা ধরিয়ে ছিলাম। কিন্তু সেও সেই সবুজ। এই সবুজ রঙের মধ্যেই কি মা শেষ বয়সে বাবার সান্নিধ্য খুঁজে পেয়েছিল? আমার মনে হয়েছিল হ্যাঁ। বাবার অভাব টা মা তার (বাবার) প্রিয় জিনিস গুলোর মধ্যে খুঁজে পেত। আমি বুঝতে পারতাম। নিজের চশমা থাকতেও মা বাবার চশমা পরেই গীতা পড়ত।
এটাই হয়তো ভালোবাসা। দিনে ছ বার ভালোবাসি বললে ভালোবাসা দেখান হল হয়তো। কিন্তু ভালোবাসা হল কি? তবুও আমরা বেশিরভাগ মেয়েরা একটু পছন্দ করি দেখনদারিকে। সারা জীবন ভালবাসল অথচ কিছুই শুনলুম না বা বুঝলুম না ,,, এটা ঠিক—–
যাক গে যা বলছিলাম আমাদের ফরাক্কায় তখন দুটো পুজো হতো । একটা ১০ নম্বর রাস্তার চার মাথার মোড়ে। আর একটা রিক্রিয়েশন ক্লাবের পিছনে। দুটো পুজো। তাতে কি? তাইই আমরা সকাল সন্ধ্যে দেখে কুল পাই না।
সারাদিন একই জামা পরে মন্ডপে বসে থাকতাম। ঢাকিদের ঢাক বাজানো দেখতাম। শিখতাম কিভাবে বাজাচ্ছে। খুব মন দিয়ে এক দৃষ্টে কাঠিটার ওঠা নামা লক্ষ্য করতাম। এমনিতেই আমি তবলা বাজাতে পারতাম। আর ক্ল্যাসিক্যাল গান শিখতাম বলে একটা বাড়তি সুবিধে হয়েছিল।
তালের মধ্যে যে ছন্দটা ঘোরাঘুরি করত সেটাকে করায়ত্ত করতে আমার সেরকম কোন অসুবিধা হয়নি।
একটা বদ্ গুণ ছিল আমার— যেটা মনে করব, সেটা করেই ছাড়ব। আরোও একটা বদ্ গুণ হল—-যে কোন বিষয়েই ‘না’ শুনতে আমি একদম পছন্দ করি না। তো যাইহোক যখন ঢাকি কাকুদের আমার ইচ্ছের কথাটা সরল মনে বলেছিলাম। ওরা কিন্তু তখন বিশেষ পাত্তা দেয় নি আমাকে। প্রথম প্রথম তো মেয়ে বলে আমাকে বেশ খানিকটা অবজ্ঞাই করত।
তবে আমার জেদের কাছে ওরা হার মেনেছিল। প্রায় প্রতিবছরই একটু একটু করে শিখে নেওয়ার চেষ্টা করতাম।
তখনকার দিনে মেয়েরা ঢাক বাজাবে এটাও তো একটু অস্বাভাবিক ছিল। কিন্তু আমি লেগে থাকতাম। ওদের সঙ্গে ভাব জমিয়ে ফেলতাম, ওদের বাড়তি চা খাওয়ার ব্যবস্থা করতাম। কাঁসর বাজানোর বাচ্চা ছেলে টাকে একটু বিশ্রাম দিয়ে আরতির সময় আমিই কাঁসর বাজাতাম। ওদের বাড়ি ঘরের খবর নিতাম। ধীরে ধীরে আমি ওদের আপনজন হয়ে উঠেছিলাম। এইভাবেই ওদের অবসরের ফাঁকে ঢাকের কাঠিটা আমি আমার কাছে নিয়েই
ছেড়েছিলাম।
পরের দিকে আমার আর অসুবিধা হয় নি। ভালোই রপ্ত করে নিয়েছিলাম। দু তিন বছরের মধ্যে মোটামুটি ঢাক বাজাতে শিখেছিলাম। ছোট থেকেই আমার মনে হয়েছিল সুযোগ যে সব সময় ভগবান থালায় সাজিয়ে দেবেন তা নাও হতে পারে। আমি আমার কর্মের দ্বারা ঠিক সুযোগ খুঁজে,, সুযোগের সদ্ব্যবহার করে নেব।
বিবেকানন্দ কে গুরু মানি। তাঁর বাণী আমি সব সময় মেনে চলার চেষ্টা করি।
তিনি বলেছেন—–
” ভাগ্য বলে কিছু নেই, যা আছে তা হল কর্মের ফল যা প্রত্যেকের চেষ্টা ও যত্নের
ওপর গড়ে ওঠে।”
বাবা বলত—– মামনি কোনও কাজ পারব না, জানি না বলবি না। কেউ কি সব কাজ শিখে জন্মায়? কাজ করতে করতে শিখতে হয়। কাজ করার ইচ্ছেটা থাকতে হয়। ইচ্ছে না থাকলে সেটা জাগাতে হয়। নিজের মধ্যে একটা অধ্যাবসায় থাকা খুব জরুরী। একটা কথা মাথায় রাখবি কোনও কাজই ছোট নয়। আর কোন কাজই মানুষের অজানা নয়। তুই যদি ঠিকঠাক চেষ্টা করিস যে কোনও কাজই তুই করতে পারবি। কাজটাকে বাধ্যবাধকতার মধ্যে না ফেলে ভালোবেসে করবি। দেখবি কি সহজেই তুই কাজটা করতে পারছিস। কোনো কিছু কেউ হাতে ধরে শিখিয়ে দেবে না ,, শিখতে চাইলে চোখ কান খোলা রাখবি।”
একটা ব্যাপার ছিল, বাবা কোনও দিন কোনও বিষয়ে আমাকে বাধা দেয় নি। আমি আমার ছোট্ট মেয়েবেলাটায় প্রজাপতির মতো রঙিন পাখা মেলে উড়তে পেরেছিলাম শুধু মাত্র আমার বাবার জন্য। সব কিছুতেই কি যে উৎসাহ দিত!
মা ও কিছু কম ছিল না। কিন্তু মায়ের সব সময়ই একটা টেনশন ছিল তার ছটফটে ফর্সা কালো কোঁকড়ানো ঝাঁকড়া চুলের মেয়েটা যেন প্রেম ট্রেম না করে বসে। কারণ মা জানত আমি যদি কাউকে ভালবাসি তাহলে তাকেই বিয়ে করব।। শেষ পর্যন্ত অবশ্য সেটাই করেছিলাম। তবে আমার প্রেমের কথা আর একদিন বলব। একটু বড়ো হই? এখন আমি একদমই ছোট্ট। পুতুলের বিয়ে টিয়ে নিয়ে ব্যস্ত, প্রেমে পড়ার সময় কোথায়?
যা বলছিলাম। পুজো মন্ডপে যে শুধু ঢাক কাঁসর বাজাতাম তা কিন্তু নয়।
ধূনুচি নাচ ও আমায় খুব টানতো। শাঁখ বাজানোর প্রতিযোগিতাতেও নাম দিতাম। একটা প্রাইজ তো বাঁধাই থাকত আমার জন্য।
আমার বয়স তখন দশ কি এগারো। প্রচন্ড ভাবে মেয়েবেলাটা উপভোগ করছি। দশ নম্বর এর মাঠে বাঁশ পড়ল কি আমায় আটকায় কে,,,, ঠাকুরের প্যান্ডেল তৈরি না দেখলে,, আর কিসের পুজোর আনন্দ । বিকেল বেলা টা দশ নম্বর এর প্যান্ডেল বাঁধা দেখতাম। আর রিক্রিয়েশন ক্লাবের পিছনের প্যান্ডেল টা স্কুল যাওয়ার পথে আর ফেরার পথে দেখতাম। এই প্যান্ডেল টা একটু হাইফাই হত। চাঁদাটা বেশি উঠত। দশ নম্বর এর প্যান্ডেলটাও ভাল হত। তবে একটু কম হাইফাই একটু যেন সাধারণ, ঘরোয়া, যেন মায়ের আটপৌরে শাড়ির তেল হলুদের গন্ধর মতো। এখানে দেখনদারির থেকে আন্তরিকতাটা বেশি ছিল। আর রিক্রিয়েশন ক্লাবের ঠাকুর টা মায়ের ভাল শাড়ির মতো। একটু যেন তোলা তোলা ব্যাপার। দৌড়ে এসে ঝপ করে মায়ের কোলে বসতে না পারার দূরত্ব যেন। ভাল শাড়ি পরলে মা যেমন একটু দূরের হয়ে যায়। সেই রকম ই ছিল আমাদের রিক্রিয়েশন ক্লাবের ঠাকুর এবং প্যান্ডেল। সন্ধ্যে বেলায় আমরা সবাই সব থেকে ভাল এবং দামি জামাটা পরে ঐ ঠাকুর দেখতে যেতাম।
তো যাইহোক বাঁশের উপর চারিদিকে ত্রিপলে ঢাকা ১০ নম্বরের রাজকীয় প্যান্ডেল। প্যাণ্ডেলের ভেতরটা লাল কাপড় দিয়ে মোড়া।আর কী সুন্দর মাথার উপরে কুঁচি দেওয়া রঙিন কাপড় হাওয়ায় ফুরফুর করে দুলত। আর যত দুলত আমার মনেও বিভিন্ন ভাবে আনন্দের বেহাগ ইমনের সারেঙ্গী বাজত। আমি এক দৃষ্টিতে তাকিয়ে থাকতাম। কি গর্ব হত আমাদের এই দুটো ঠাকুর নিয়ে! মা দুর্গা লাল শাড়িতে রাজ রাজেশ্বরী রূপে —-
আমার,, আমাদের গোটা ফরাক্কা বাসীর মনে একটা যেন অসম্ভব আনন্দের, আত্মীয়তার, একাত্মতার প্রতীক হয়ে উঠেছিল এই ছোট্ট দুটো পুজো।
###
ষষ্ঠীর দিন মা আমাকে আর ভাই কে তেল হলুদ মাখিয়ে স্নান করিয়ে দিত। হাতে হলুদ সুতো বেঁধে দিত। সেদিন মা আমাদের একটুও বকত না। মা সেদিন ষষ্ঠীর পুজো করত। ছেলেমেয়ের দীর্ঘায়ুর জন্য। আমি সকালে সাদা টেপ জামা আর মেরুন ঘটি প্যান্ট পরতাম। আর সন্টু (ভাই) সাদা গেঞ্জি আর লাল প্যান্ট পরত। কি যে সুন্দর লাগত ওকে। অসম্ভব সুন্দর দেখতে ছিল আমার ভাই। ধবধবে সাদা, সোনালী চুল, গোলাপি ঠোঁট, মোটাসোটা গোলগাপ্পা একেবারে। আমরা একবার চট করে প্যান্ডেল ঘুরে আসতাম। একা একাই চলে যেতাম। আমাদের সময় আমরা খুবই নিরাপদ ছিলাম। ঢাকের বাজনা বাড়ি থেকেই শোনা যেত। ছুট ছুট,, যত ঢাকের আওয়াজ কাছে আসত ততই যেন মনটা আনন্দে আনচান করে উঠত। আর ঐ টুকু রাস্তাও যেন ফুরোতে চাইত না।। তখন ষষ্ঠীর পুজো শুরু হত। ঠাকুর কে একটা ঢক করে প্রণাম করেই আমি ঢাকিদের কাছে গিয়ে দাঁড়াতাম। তাদের কাঠি ধরার কায়দা দেখতাম, বাজানোর তালটা, ছন্দ টা খেয়াল করতাম। আর দেখতাম প্যান্ডেল। কিভাবে সাজিয়েছে কাকুরা। আরও কতটা ভাল হতে পারত। এইসব হাজিবিজি ভাবনা আরকি। ছোট থেকেই খুব কাজ করতে পছন্দ করতাম। একটু মাতব্বরি করা আমার বেশ পছন্দ ছিল । আমার বাড়ির কাকা জ্যেঠা সবাই ই এমন ছিল। বংশের রক্ত আর যাবে কোথায়? সব সময় ই একটা নেতা নেতা ভাব আরকি।
প্রসাদ দেওয়ার সময় মন্ডপের সামনে একটা বাঁশ দেওয়া হত, যাতে ভীড়ে কেউ মন্ডপের ভেতর চলে আসতে না পারে। কারণ তখন পুজো চলত। সারাদিন ই প্রায় পুজো চলত। ঠাকুর মশাই দের দেখতাম আসনে বসে কিছু না কিছু পুজোর কাজ করছেই। আসলে তখনও তো ফাঁকিবাজি পুজো শুরু হয়নি।
তো যাইহোক আমি ভীড়ের মধ্যে টুক করে মাথা নিচু করে বাঁশের এদিকে চলে এসে বলতাম দাও দাও আমাকে দাও আমি প্রসাদ দিয়ে দিচ্ছি। মুখে চোখে এমন ভান করে বলতাম প্রসাদ না পেলেও চলবে। কাজ করাটাই মেইন লক্ষ্য। এইবার হাতে থালা নিয়ে প্রসাদ দিতে শুরু করতাম। যার সঙ্গে পুতুলের বিয়ে নিয়ে ঝামেলা কথা বন্ধ তাকে বেশি বেশি প্রসাদ দিয়ে ভাব করে নিতাম। সবাই মামনি মামনি বলে ডাকত। আমি প্রসাদ দিতাম। খুব ভালো লাগত। আসলে আমি সব সময়ই বাবার মতো মানুষের ভীড়ে থাকতে চাইতাম। মানুষের ভালোবাসা আমাকে টানত। একা একা থাকতে পারতাম না। আমার সঙ্গে সবারই খুব ভালো সম্পর্ক ছিল। বন্ধুদের জীবন দিয়ে ভালো বাসতাম। এখনও বাসি। এইভাবে ভালোবাসতে গিয়ে অনেক বিপদেও পড়েছি। তবুও আমি সবাইকে ভীষণ ভালোবাসি,, অন্তর দিয়েই বাসি।
আবার মনে পড়ল আমার গুরুদেবের বাণী—-
“অন্তরের কথাই মানুষের অন্তর স্পর্শ করে। আন্তরিকতাই মানুষ কে অন্তরঙ্গ করিয়া তোলে।।”
ক্রমশ…