সাপ্তাহিক ধারাবাহিক কথা সাগরে গৌর হরি মান্না (ভ্রমণ কাহিনী)
by
·
Published
· Updated
সাতকোশিয়ার সাতকাহন
দুপুরের ঝাঁ চকচকে মহানদীর আঁচল যেন রূপায় মোড়া জারদৌসী। রূপার মতো চিকচিক করা বালির চরের ওপারে সবুজ রঙা শাড়ি পড়ে দাঁড়িয়ে রয়েছে পূর্বঘাট পর্বতমালা, কি অপরূপ তার চাহনি। আর কুল কুল করে বয়ে চলা সবুজ রঙা মহানদী যেন এক পূর্ন যৌবনা নারী। অপার বিস্ময়ে তাকিয়ে থাকলাম বেশ কিছুক্ষণ, মোহভঙ্গ হলো এক চঞ্চলা মিনিভেড এর ডাকে। আমার চোখের ঠিক কিছুটা দূরে একটি গাছের ডালে আপন মনে সঙ্গীত চর্চা করে চলেছে।ডিসেম্বরের কনকনে ঠান্ডায় বাইক নিয়ে ছুঁটে চললাম সাতকোশিয়া ওয়াইল্ড লাইফ স্যাঙ্কচুয়ারিতে।
অবশ্যই একটা আলাদা রোমাঞ্চ উপভোগ করার জন্য আমাদের এই অরন্য যাত্রা। কলকাতা থেকে বোম্বে রোড ধরে খড়গপুর, জলেশ্বর, বালেশ্বর, ভদ্রক, কটক হয়ে অঙ্গুল। মাঝখানে সকালের ব্রেকফাষ্ট ও দুপুরের লাঞ্চ পথের মাঝেই সেরে নিলাম। রোমাঞ্চ এই কারণে এখানে জঙ্গলের ভেতর বাইক রাইড করে আপনি যেতে পারেন মহানদীর কোলে,অবশ্যই সব দায় দায়িত্ব আপনার নিজের। অঙ্গুল থেকে রওনা দিয়ে বেলা এগারোটার আমরা এসে পৌঁছালাম অরণ্যের প্রবেশ দ্বার পম্পাসার। অরন্যের প্রবেশ দ্বারে প্রয়োজনীয় কাগজপত্র দেখিয়ে জঙ্গলের গভীরে প্রবেশ করলাম। রোমাঞ্চে ভরা এই বাইক যাত্রা গায়ে কাঁটা দিয়ে ওঠার মতো। অরন্যের গভীরতা এক এক যায়গায় এতো ঘন যে দেখে মনে হবে যখন তখন হাতির দল বেড়িয়ে আসতে পারে রাস্তার ওপর। আক্রমণ নেমে আসতে পারে চতুর লেপার্ডের। হাড়হিম করা এই বাইক যাত্রা সাড়া জীবনের এক অমূল্য সঞ্চয়।