গল্পেরা জোনাকি -তে প্রিয়াংকা ভুঁইয়া

পালাবদল

 – কী রে? চুপ করে আছিস কেন? কিছু তো বল….
নীলাঞ্জনার অপলক দৃষ্টি কোলের ছোট্ট মেয়েটার নিষ্পাপ দুই চোখের দিকে। গত সাত বছরের সংসার জীবনে মাতৃত্বের স্বাদ যে ও পেতে চায়নি, তা নয়। কিন্তু অভীপ্সাকে ভালোবেসে এই ত্যাগটা হাসিমুখে স্বীকার করে নিয়েছিল।
ভবিষ্যৎ পরিণতি জানার পরও ভালোবেসে জীবনের এত বড় পদক্ষেপ নিতে ওরা পিছপা হয়নি। তখনও সমপ্রেমী যুগলের একসাথে থাকা আইনের চোখে অবৈধ ছিল। আর সমাজের কথা তো ছেড়েই দিলাম! অনেক বোঝানোর পর অভীপ্সার পরিবার মেনে নিলেও নীলাঞ্জনার পরিবার কিছুতেই এই সম্পর্ক মেনে নেয়নি। প্রতিবেশীদের আড্ডার মূল আলোচ্য বিষয় ছিল এই দম্পতি। তারপর খোরাকটা পুরোনো হয়ে যায়।
অবশেষে এল বহু প্রতীক্ষিত সেই দিন, ৬ সেপ্টেম্বর, ২০১৮, সমপ্রেমকে আইনি স্বীকৃতি দেওয়া হল। স্বাধীন চেতনার জয় হল। মেয়ের এই সম্পর্ককে সহজভাবে মেনে নিল নীলাঞ্জনার মা-বাবাও।
ওরা দু’জন একে অন্যের পরিপূরক। সবই আপন ছন্দে চলছিল। কিন্তু নীলাঞ্জনার মনটা ইদানীং ভীষণ খারাপ। সমপ্রেমী যুগলের দত্তক গ্রহণের অধিকার এখনও আইনের খাতায় স্বীকৃতি পায়নি।
আজ জঞ্জালে পড়ে থাকা শিশুকন্যাটির কান্না অফিসফেরত অভীপ্সার চোখ এড়ায়নি। ও বাচ্চাটাকে নিয়ে এসে নীলাঞ্জনার কোলে তুলে দিয়েছে।
– সমাজ মেনে নেবে?
– মাতৃত্ব আসলে কী? অস্বীকার নাকি স্বীকৃতি প্রদান? গর্ভে ধারণ না করেও তো মা হওয়া যায়। আমাদের হাত ধরেই সমাজের দৃষ্টিকোণের পালাবদল ঘটুক এবার।
ফেসবুক দিয়ে আপনার মন্তব্য করুন
Spread the love

You may also like...

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

কপি করার অনুমতি নেই।