।। ত্রিতাপহারিণী ২০২০।। T3 শারদ সংখ্যায় শীর্ষা রায়চৌধুরী

পুষ্পলতাকে

পুষ্পলতার সঙ্গে দেখা কৈশোরে,
গ্রীষ্মের এক আম-কুড়োনো দুপুরে।
দুরে শাড়ি কোমরে আঁটা, শরীরে কচি শ্যামলতা
চমক দিল অন্তরে-
নিয়ে গেল কোন স্বপ্নপুরে মন্তরে।
তারপরে গত কত দিন-রজনী,
চলে গেছে সেই নিঠুর রমণী।
আর কখনও সে আসেনি,
প্রেম ভিক্ষার সময় দেয়নি।
হৃদয়ে পূর্ণ বেদনার ধ্বনি,
সুখ -মুহূর্ত তাই ওঠেনি তো রণি।
আমার সব ভেসে গেছে চোখের জলে-
তবে কেন তুমি আমায় দেখা দিয়েছিলে?
কোমল লতা, আজ কোথায় তুমি?কোনখানে?
আছ বোধহয় অবিশ্রান্ত জোয়াল টানা সংসারে।
আর হয়তো নেই সেই ঢেউ খেলানো চুল,
যা দেখে বিবশ হয়ে আমার পথ হত ভুল।
ভাবি সাপিনী শরীর বয়সের ভারে ক্ষয়ে গেছে হায়
তবু কি হৃদয় তোমার সজীব আজও সতেজতায়?
দেখে তোমায় প্রথম আমি শিহরিত,
নবীন মন সুখে দুলেছিল অবিরত।
হৃদয়ী লহর-তোলা তরঙ্গদল অনিঃশেষ
সে সব কথা ভেবেও এখন লাগছে বেশ।
পুষ্পলতা, আমিও আজ বৃদ্ধ প্রায়,
হাঁটুতে বাত, ভুগি দাঁতের যন্ত্রণায়।
তবু তুমি দাও যে দেখা কল্পনায়,
দিন কেটে যায় তোমার সঙ্গে জল্পনায়।

সেইসব শব্দপুঞ্জ

পাহাড়ে গিয়ে দেখলাম পাথরে দীপ্ত একগুচ্ছ কবিতা-
আনন্দে মাতোয়ারা হয়ে তার রূপ-রস ছন্দকে ছুঁতে
চাইলাম আমি।
কিন্তু তারা আমার মুঠো আলগা করে অবলীলায়
মেঘের মধ্যে মিলিয়ে গেল।
আমি শুধু চেয়ে চেয়ে দেখলাম আর হতাশায়
ডুবে যেতে থাকলাম।
কবিতা তুমি কি আমার কাছে কখনও ধরা দেবে না?
ফেসবুক দিয়ে আপনার মন্তব্য করুন
Spread the love

You may also like...

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

কপি করার অনুমতি নেই।