নবপত্রিকা দুর্গাপূজার একটি অন্যতম অঙ্গ।মহাসপ্তমীর সকালে এক বিশেষ অনুষ্ঠানের মধ্য দিয়ে নবপত্রিকা স্থাপন করা হয়। নবপত্রিকার অন্য এক নাম কলাবউ।গণেশের পাশে এর অবস্থান।তাই অনেকে নবপত্রিকাকে গণেশের বউ বলে মনে করেন।কিন্তু তা নিতান্ত ভুল।আসলে নবপত্রিকা হচ্ছে মা দূর্গার অন্য এক রূপ।
নবপত্রিকা মানে নয়টি গাছের পাতা।কিন্তু দুর্গাপূজায় নবপত্রিকা হচ্ছে নয়টি গাছ।আর এই নয়টি গাছ বা উদ্ভিদ মা দূর্গার নয়টি বিশেষ রূপের কল্পিত প্রতিক।এই নয়টি উদ্ভিদ হলো কদলী বা কলা,কচু,হরিদ্রা বা হলুদ,জয়ন্তী,বিল্ব বা বেল, দাড়িম্ব বা ডালিম,অশোক,মান ও ধান।ধর্মীয় বিশ্বাস অনুযায়ী কলা রূপে দেবী ব্রহ্মাণীকে পূজা করা হয়।এই দেবী পরিবেশের অশুভ শক্তি নাশ করেন।কচু রূপে হয় দেবী কালিকার পূজা।যিনি অশুভ শক্তি বিনাশ করেন।আর হরিদ্রা রূপে দেবী উমা,জয়ন্তী রূপে কার্তিকী,বিল্ব রূপে দেবী শিবা,দাড়িম্ব রূপে রক্তদন্তিকা,অশোক রূপে শোকরহিতা,মান রূপে চামুণ্ডা ও ধান রূপে দেবী লক্ষ্মীর পূজা করা হয়।এই নব দেবীকে এক সঙ্গে নবপত্রিকা রূপে পূজা করা হয়।একটি পাতাযুক্ত কলা গাছের সঙ্গে বাকি আটটি গাছ মূল ও পাতা সহ একত্র করে সাদা অপরাজিতা গাছের লতা দিয়ে বেঁধে নবপত্রিকা তৈরি করা হয়।দুটি বেল দিয়ে করা হয় স্তন যুগল।তারপর লাল পাড় সাদা শাড়ি বা হলুদ শাড়ি।পড়িয়ে ঘোমটা দিয়ে নবপত্রিকাকে বউয়ের রূপ দেওয়া হয়।
মহাসপ্তমীর সকালে শঙ্খ,ঘন্টা,ঢাক বাজিয়ে আর উলু ধ্বনি দিয়ে স্নান করানো হয় নবপত্রিকাকে।পুরোহিত মশাই নিজ হাতে নদী বা পুকুরে গিয়ে করান এই স্নান।তারপর নতুন শাড়ি পড়িয়ে দেবী দূর্গার ডান দিকে গণেশের পাশে নবপত্রিকা স্থাপন করা হয়।নবপত্রিকা স্থাপনের মধ্য দিয়ে দুর্গাপূজার মূল অনুষ্ঠানের প্রথাগত সূচনা করা হয়।নবপত্রিকা স্থাপনের পর দর্পণের সাহায্যে মায়ের মহাস্নান করানো হয়।পূজোর বাকী দিন গুলিতেও সপরিবারের সঙ্গে নবপত্রিকার পূজো করা হয়।
মার্কণ্ডেয় পুরাণে নবপত্রিকার কোন উল্লেখ না থাকলেও কৃর্তিবাস বিরচিত রামায়ণে রামচন্দ্র কর্তৃক নবপত্রিকা পূজার উল্লেখ পাওয়া যায়।নবপত্রিকা নিয়ে গবেষকদের ভিন্ন ভিন্ন মত রয়েছে কিন্তু একটা কথা পষ্ট যে নবপত্রিকা স্থাপনের মধ্য দিয়ে দুর্গাপূজার প্রথাগত সূচনা করা হয় আবার নবপত্রিকা বিসর্জনের মধ্য দিয়ে দেবী দূর্গার মৃন্ময়ী মূর্তির বিসর্জন দেওয়া হয়।এ সব থেকে বলা যায় যে নবপত্রিকা দুর্গাপূজার এক গুরুত্বপূর্ণ অঙ্গ।