মৃত্যুর না থামায়
কর্ম গতির ওঠা নামায়
জীবনের না জানায়
চিনে নিও আমায়!
আমার নাম ভালবাসা।
সব মনেতেই আমার বাসা।
আমিই চির আশা।
হৃদয়ের ধরকন ভাষা।
তোমার যত হাসা
যত ব্যাথা
যতবার এ ধরায় যাওয়া-আসা
হবে এসব ভালোবাসার সৃষ্টি গাথা।
আমার মাঝে তোমার ভাসা
সে তো আমারই চির প্রত্যাশা।
তোমার পলক পড়া আঁখিপাতা
তা তো আমার স্পন্দনে গাঁথা।
মেয়ে
আমি পরিযায়ী শ্রমিকের মেয়ে।
স্বতন্ত্র দিবসে আমি পথ হাঁটি
জাতীয় সংগীত গেয়ে…
……..জয় হে…জয় হে….জয় হে…..
আবেগে আমার অশ্রু নামে গাল বেয়ে।
আমি ক্লান্ত নৈ, খিদে পেয়ে।
আমি তৃষ্ণার্ত নৈ জল চেয়ে।
আমি ভালোবাসি দেশের মাটি।
আমার দেশ ভক্তি চির খাঁটি।
আমার ধমনীতে দেশপ্রেমের রক্ত চলে ধেয়ে।
ওই স্বাধীন উড়ন্ত পতাকার দিকে চেয়ে
আমার বঞ্চিত যত নালিশ শুদ্ধ হয়েছে মহাসাগরে নেয়ে।
আমি বেঁচে আছি আজও দেশের ফ্রী হাওয়া খেয়ে।
শরৎ
ভাদ্র ও আশ্বিন মাসে।
আগমনী হাওয়ায় ভাসে।
শিউলী ফোটে রাশে রাশে রাশে।
নদীর চর ভরা কাশে।
ঝলমলে সবিতা হাসে
পরিষ্কার আকাশে।
আমার দিল ভালোবাসে।
তাই তো মা দুর্গা ঘরে আসে।
আসন তার হৃদয়ের পাশে।
সবাই নাচে উচ্ছাসে।
বাদ্য বাজে উল্লাসে।
সারা বছর অপেক্ষা করে মায়ের আশে।
অবলা বলিয়া যেও না দলিয়া চলিয়া
আমি মাটি।
ঠিক যেমন মা-টি।
আপন দেহে,
অশেষ স্নেহে,
লালন-পালন করি।
ছোট থেকে বড় করি।
” অবলা বলিয়া,
যেও না দলিয়া চলিয়া! ”
আমার প্রতিও সহানুভূতি দেখিও, অবশ্যই!
আমিই সেই সে –
“ওম্ ভূর্ভুবসঃ…”
আমি সেই সে-
সর্বস্ব।
তোমাদের মুখ চেয়ে,
সর্ব দুঃখ সই।
আমায় তোমাদের পাপের কলঙ্ক-কালিমায়,
আর কলুষিত কর না!
নিজ কর্মের মহিমায়,
আমায় ভর না!
ও আমার সন্তানদল!
আমি মাটি, তোমাদের শক্তি-বল।
শক্ত করে ধরে থাকি,
তোমাদের পদতল।
মা, পর কখনও হয় নাকি?
তাই তো আদরে রাখি।
প্রবাস
বহু আগে বঙ্গে ছিল বাস।
এখন দিল্লী, প্রবাস।
আজও আছে বঙ্গের অভ্যাস।
ব্রত করে করি উপবাস।
আজও পালি, তেরো পার্বণ, বারো মাস।
স্মৃতি এখন পরীক্ষার পাস।
নতুন বই, নতুন ক্লাস।
গ্রীষ্মের বেলের সরবতের গ্লাস।
আজও মনে পড়ে বঙ্গের বর্ষার চাষ।
আজও টানে বঙ্গের শরতের সাদা কাশ।
হেমন্তের ভোরের কুয়াশা ঢাকা রোদের আভাস।
শীতের আড্ডায় টেক্কার তাস।
বসন্তের দোলের উল্লাস।
এখনের প্রবাস, এও পাওয়ার উচ্ছাস।