মেহেফিল -এ- শায়র ফারুক নওয়াজ (নির্বাচিত কবিতা)
আমি কেন যাবো
পাখিরা সেখানে শেষ ওড়া উড়ে
আসে না কখনো ফিরে
পৃথিবীর শেষ সীমারেখা আঁকা
হয়েছে যে নদীতীরে.
সেই দুধনদী, তার ওই পাড়ে
বেণুবন দিয়ে পাড়ি..
আঁধারের শেষে মেঘের পাহাড়ে
পাখিদের শেষবাড়ি।
জীবনের শেষ পালক ছড়ানো
খেলা শেষ করে তারা–
না-জাগা ঘুমের অপার আরামে
পড়ে থাকে প্রাণহারা।
আমি কী পক্ষি? আমি কী ছিলাম
শ্বেতাক্ষিদের কেউ?..
পাপিয়ার মতো ওষ্ঠে তুলেছি
কখনো সুরের ঢেউ?..
কখনো কী আমি নিশিপাখি হয়ে
ভাঙিয়েছি কারো ঘুম?..
মধুশিস-সুরে মাতিয়েছি কোনো
গোলাপের মৌসুম?
তাহলে আমাকে বিদায় জানায়
কেন ওই শটিবন..
তাহলে বাতাস মহুয়া পাতায়
কেন তোলে ক্রন্দন?
কেন তবে ডাকে বিদায়ী পাখিরা
ঝিঁঝিডাকা এই রাতে..
আমি কেন যাবো তাদের শেষের
ঠিকানার আঙিনাতে?
এই পৃথিবীর শেষ মায়াটুকু
এখনো হৃদয়ে বাঁধা..
বাকি আছে ঢের স্বপ্ন দেখা ও
বিস্তর হাসা-কাঁদা।
পার হতে বাকি অনেক কঠিন
ঝুঁকিসংকুল সাঁকো..
জমে থাকা কাজ শেষ না হতেই
কেন মিছে মিছে ডাকো?
যদি যেতে হয় পড়ে থাকা কাজ
কেউ নিয়ে নিক বুঝে;
যদি তাই হয় পৃথিবীতে কেউ
আমাকে পাবে না খুঁজে।
ডাক আসলেই মহাশূন্যের
তিমির আঁধার থেকে..
পলকেই আমি চলে যেতে রাজি
সবকিছু ফেলে রেখে।
বিদায়ী পাখিরা ডেকো না আমাকে
আমি তো বিহগ নই..
মানব বিদায়ে কিছুটা নিয়ম
থাকে তো অবশ্যই।