“এই শ্রাবণে আষাঢ়ে গপ্পো” বিশেষ সংখ্যায় কুণাল রায়

তারাও শুনেছিল 

বহুদিন আগের কথা,
পত্র পেয়েছিলাম সখার,
বেড়িয়ে পড়েছিলাম তাঁরই উদ্দেশ্যে,
তবে আধুনিক যানবাহনে নয়,
নিছক এক ঘোড়ার গাড়িতে চেপে-
নাম শীতলপুর।
গভীর রাতে পৌঁছালাম,
চারদিকে শুধু ডাক ঝিঁ ঝিঁ পোকার,
আকাশভরা জোছনা!
গা যেন শিউরে ওঠে,
আলোছায়ার নিরন্তর খেলায়,
সৃষ্টি হয় এক গা ছম ছম ভাব,
রক্তধারা যেন বরফের মত হিম!
ঠোঁট দুটো কম্পমান,
শীতের সেই নিবিড় রাত্রে।
পা টিপে টিপে গিয়ে দাঁড়ালাম বাড়ির সামনে,
আমার ছোট্ট ঘোড়াটা বোধকরি নিষেধ করেছিল,
তবু অপার কৌতুহলে কড়া নাড়লাম বার তিনেক,
চিৎকার করে ডাকলাম-
নিস্তব্ধ!
তালগাছের পাতাগুলো দুলছিল হওয়া এ,
বাড়ির চারপাশে গজিয়ে ওটা গাছগাছালিও
জানায় এক অশনি সংকেত!
অকস্মাৎ অনুভূত হল এক বিচিত্র ভাব,
তারা যেন বারান্দায় দাঁড়িয়ে শুনছিল আমার ডাক,
অশরীরেরা যেন জানিয়েছিল এক বার্তা,
কিন্তু পৌঁছায়নি সেই বার্তা আমার কাছে!
দুই পৃথিবীর মাঝে ছিল এক ব্যবধান,
এক অভেদ্য প্রাচীর-
তাই তারা শুনেও দেয়নি কোন উত্তর সেদিন!
তবুও জানিয়ে ছিলাম-
“সখা রেখেছি মোর কথা”,
সাধের ঘোড়ার গাড়িটা নিয়ে,
চললাম শহরের দিকে,
পেছনে মিলিয়ে গেল যেন সেই আঁধার কালো রাত,
নিস্তব্ধতা পরিত্যাগ করে,
ফিরে গেলাম সেই কোলাহলের মাঝে,
সেই শহুরে নরখাদকদের মাঝে,
সেই ঘৃণ্য কৃত্তিমতার মাঝে!!
ফেসবুক দিয়ে আপনার মন্তব্য করুন
Spread the love

You may also like...

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

কপি করার অনুমতি নেই।