দৈনিক ধারাবাহিক উপন্যাসে মৃদুল শ্রীমানী (পর্ব – ১৫৫)
পর্ব – ১৫৫
সবে শ্যামলী অরিন্দমের ফোনটি রেখেছে, অমনি সেটি আবার বেজে উঠল। শ্যামলী একবার ঘড়ির দিকে তাকিয়ে দেখল। রাত বারোটা ছুঁই ছুঁই। কে আবার এত রাতে ফোন করল? ফোন তুলে দেখল ওপারে তনুশ্রী। তার দিদি। সে ঝঙ্কার দিয়ে উঠে বলল, কি রে, কাকে ফোন করছিলি? কতক্ষণ ধরে এনগেজড্।
শ্যামলী শান্ত কণ্ঠে বলল, বলো দিদি।
তনুশ্রী বলল, আজ আবার তুই ওদের বাড়ি গিয়েছিলি? রোজ রোজ যাওয়াটা ভাল দেখায়? একটু গ্র্যাভিটি রাখবি না?
শ্যামলী একটা দীর্ঘশ্বাস ফেলে বলল, তোমার উপদেশটা মনে রাখব।
তনুশ্রী বলল, মায়ের কাছে শুনলাম, তোকে না কি রমানাথের মা কাল খুব খারাপ খারাপ কথা বলেছে?
শ্যামলী বলল, কই, তেমন একেবারে খুব খারাপ কথা তো বলে নি?
তনুশ্রী বলল, একদম লুকোছাপা করবি না। তোকে ডাইনী বলেছে। এটা খারাপ কথা নয়?
শ্যামলী বলল, কই, ডাইনী কীইবা এমন খারাপ কথা? আমাদের পাড়ায় কালীঠাকুরের প্রতিমার সাথে তো প্রতিবারই ডাকিনী যোগিনী থাকেন। ওই ডাকিনী থেকে ডাইনী কথাটা এসেছে। ডাক একটা তন্ত্রশাস্ত্রের কথা। বাংলা সাহিত্য আর ভাষার ইতিহাস ঘাঁটাঘাঁটি করলে ডাকার্ণব নামে একটা পুঁথির নাম পাবে। ইংরেজি কালচারেও ডাইনীর প্রতিশব্দ উইচ নিয়ে অনেক কথা আছে। অকাল্ট সায়েন্স বলেও একটা কথা আছে। সেকালের ইউরোপের বহুলোক উইচক্রাফট নিয়ে ভাবত। এমনকি, বিজ্ঞানী আইজ্যাক নিউটন নাকি এইসব একটু আধটু চর্চা করতেন বলে অনেকের ধারণা। তারপর শেকসপীয়রের নাটক তো উইচ ছাড়া ভাবতেই পারি না। জোয়ান অফ আর্ককেও ডাইনী বলেছিল।
তনুশ্রী বলল, তোর খুরে খুরে দণ্ডবৎ। তোর কোনো লাজলজ্জা নেই, দুকান কাটা।
শ্যামলী বলল, লেজটা পর্যন্ত নেই, জন্মের কিছু আগেই খসে গিয়েছে।
ক্রমশ…