গুচ্ছকবিতায় প্রভাত মণ্ডল
১. জীবন মেলা
রাতের বেলা চাঁদের খেলা
মেঘের লুকোচুরি ,
বন্ধু তুমি ঘুমিয়ে পড়ো
আর কোরো না দেরি ।
গগন আজি ছেয়ে গেছে
ঘন কালো মেঘে ,
নিশীথ বেলা কেন তবে
শুধু তুমি রবে জেগে ।
তুমি ঘুমাও পাড়া ঘুমাক
ঘুমাক গোটা দেশ ,
প্রতিবাদের পান্ডুলিপি
হারাক নিজের বেশ ।
কি হবে আর জেগে থেকে
রাতের তারা দেখে ,
ভাষাহীন ওই প্রতিবাদের
গন্ধ আঁতুর মেখে ।
জেগেই যদি থাকবে তবে
মুখটি কেন চুপ ,
খুলে দাও ওই লুকিয়ে থাকা
আগ্নেয় গিরি মুখ ।
ক্ষণিক আঁধার ছেয়ে রবে
ম্যাগমা লাভার ছায়ে ,
ক্ষণিক পরে চন্দ্রমা ওই
উঠবে জীবন নদীর বাঁয়ে ।
দেখবে তখন হারিয়ে গেছে
মেঘের যত খেলা ,
চাঁদের আলো উপচে পড়ে
ভরবে জীবন মেলা ।
২. আমরা সাধারণ
রাত
স্তব্ধতার আবেশ নিয়ে আসে
দুচোখ ঘুমে ঢুলু ঢুলু
সারাদিন পরিশ্রমের ক্লান্তি
প্রতিশোধ নিতে চায় ,
তবু ঘুম আসে না ।
দুঃস্বপ্ন গ্ৰাস করে প্রতি ক্ষণে
অস্তিত্বের সংকটে আর
উন্নয়নের জোয়ারে ,
তাকালেই নজরে আসে
এক প্রত্যক্ষ চক্রব্যূহ ।
যারা গতে লাল ছিলো
আজ তারাই সবুজ ,
থাকবে আগামীতে ওরাই গেরুয়াতে ,
আর আমরা বিনিদ্র রাত্রিযাপনে
দুঃস্বপ্নের কোলাহলে
শত ক্লান্তি মাঝেও
একটু ঘুমের প্রতীক্ষায় ,
আমরা সাধারণ ।
৩. আজ রজনী
আজ রজনী মাতাল করে
ভরিয়ে দিল মন ,
ওগো চাঁদ তোমার স্নিগ্ধসুধায়
বিভোর এদুনয়ণ ।
মেঘের দেশে মনের বাড়ি
কল্পলোকের গায় ,
সাগর জলে জ্যোৎস্না ঝরে
বন মহুয়ার পায় ।
চাঁদ তুমি জ্যোৎস্না নিয়ে
রাঙিয়ে দিলে মন ,
মোহন বাঁশি বাজায়ে কানু
ভরালো ত্রিভুবন ।
৪. মন পাখি
মন পাখি আজ একলা কাঁদে
এ দেহ পিঞ্জরে ,
ছারি যাবে কবে রহিবে না ভবে
এ মায়ার সংসারে ।
সকাল পেরায়ে দুপুর হইলো
ফিরলো গোঠের রাখাল ,
অস্তরাগের রঙধনুটায়
রঙ লেগেছে আকাল ।
চারিধারে আজ মানবের মেলা
আলোতে ভুবন ভরা ,
সে মেলার মাঝে প্রাণপাখিটা
দেহ পিঞ্জরে মোরা ।
থাকিতে চাহে না এ ভুবন মাঝারে
মিছে সম্পর্কের খেলায় ,
আজ সন্ধ্যা নামি আঁধার হলো
জীবন রথের মেলায় ।