মেহেফিল -এ- শায়র ফারুক নওয়াজ (নির্বাচিত কবিতা)

পাখিভোর

সোনালি সকাল রুপোলি বিকেল আবছা সন্ধ্যাবেলা
রাত যদি নামে নিতল দিঘিতে জমিয়ে চাঁদের খেলা —
তাহলে চাওয়ার কিছুই থাকে না সব পাওয়া হয়ে যায়.
জীবন তখন পূর্ণতা খোঁজে প্রকৃতির সুষমায়।

যদি পাখিভোর খোলে আঁখিদোর যদি তোলে নদী ঢেউ..
তবে পৃথিবীর যত প্রাণিকুৃল অসুখি থাকে না কেউ।
তখন পাখিরা গান গাইবেই. সুরভি ছড়াবে ফুল..
তখন বাতাসে ইমলি পাতাতে শুরু হবে চুলবুল..
তখন দুপুরে ঝাবুক নূপুরে বাজবে লিলুয়া সুর..
তখন বিকেলে রঙের নিকেলে মায়া দেবে রোদ্দুর..
তখন রঙিন ধুলোর হোলিতে মাতবে গোধুলি মন;
তখন ভাবব এমনই থাকুক প্রকৃতির বন্ধন।

প্রকৃত অর্থে ওমন দিনের প্রত্যাশা করা বৃথা..
আসমানি ভাষা না-বুঝে আমরা উল্টে পড়েছি গীতা।
কেটেছি বৃক্ষ, করেছি উজাড় পাহাড়ের সীমারেখা —
এখন যায় না সাঁঝের আকাশে সারসের সারি দেখা।
এখন রাতের আলোর পাখিরা– জুনিপোকাগুলো নেই..
এখন বাজে না ঝিঁঝির ঝাঁঝর — নিশীথ হারায় খেই।
এখন কুরচি, তসবিদানায় বাতাস খেলে না ঢেউ..
মানুষ তোমরা ঝোপঝাড়গুলো বাঁচিয়ে রাখোনি কেউ।
বৈচি, আপাং, ব্রামহি শাকের মিথ্যে গল্প ফাঁদি..
আসলে আমরা নিজেকে হারিয়ে নিজেই অঝোরে কাঁদি।

প্রতীক্ষায় আছে পানগুছি দিঘি, খিরাই, কাকুলি বিল..
ফের যদি সেই পাখিভোর এসে নেচে ওঠে ঝিলমিল..
জেগে ওঠে যদি সেই ছোঁয়া পেয়ে নিসর্গ মায়াময়ী..
বাংলার কবি হবে সৃষ্টিতে ছন্দের আশ্রয়ী।
প্রকৃতি যখন আবেগ ছড়ায় বুকের ভেতর থেকে..
কথাকবিতার অগণন পাখি শতসুরে ওঠে ডেকে।

ফেসবুক দিয়ে আপনার মন্তব্য করুন
Spread the love

You may also like...

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

কপি করার অনুমতি নেই।