মেহেফিল -এ- শায়র এম.জে মামুন

স্বীকারউক্তি

আমি কি রকমভাবে বেঁচে আছি শুধু তুমিই জানো কবিতা!
কোনো বন্ধন ইন্ধন জুগিয়ে আমায় বেঁধে রাখতে পারেনি কোনো মহাকালে।
সংবিধানের সহস্র ধারা উপধারা ভেঙে দিয়েও তোমার শরীর ছুঁয়েছি রাতবিরতে।
আমি দৃষ্টিহীন হয়ে তোমাতে দেখেছি আমার সুখের সাম্রাজ্য–কবিতা।
বধির,তবুও বিমুগ্ধ হয়ে শুনতে পেরেছি তোমার অমৃত সুরের উপাখ্যান।
তোমাতে প্যাচিয়ে বাঁচিয়ে রেখেছি আমার দুর্বিষহ মুমূর্ষু জীবনের করুণ আর্তনাদ।
সবাই প্রত্যাখ্যান করেছিলো আমায় শুধু তুমি ব্যতিত,
রুদ্ধশ্বাসে তুমিই দিয়েছ প্রশান্তির মুক্তো বাতাস।
তোমাকে কখনো কখনো দেখেছি অসুস্থ পীড়িত সমাজের বিষবাষ্প হয়ে দিকবিদিক ছুটে বেড়াতে,
দেখেছি মুমূর্ষু বৃক্ষের বক্ষ ভেদ করে জীবনের ডালপালা মেলে ধরতে ঊর্ধ্ব গগণ পানে,
কারো শীর্ণ দেহের সুরু বাহুতে হয়েছ প্রজ্বলিত ক্ষেপণাস্ত্র,
অন্ধত্বে নিশানা দেখানো লাঠি হয়েছ কারো কারো,
আবার কারো হয়েছ খোঁপার বেলী,সুখের প্রণয়।
আমি আকাশের নীল পেড়েছি তোমার শব্দের মই বেয়ে,
আকাশ চুম্বি ঢেউ পদতলে রেখেছি তোমার বাক্যের টাইটানিকে চড়ে।
কোনো কিছুই আমাকে ধমাতে পারে নি তোমার কাছ থেকে,
তোমাকে ধারণ করেছি মনন আত্মা চিত্ত পুরো শরীরের রন্ধ্রে রন্ধ্রে।
তুমি আমার হৃদপিণ্ডটা মুড়িয়ে রেখেছ তোমার শব্দে ঠাঁসা কাভারে,
তুমি আমার করুণ অসুখের পথ্য,বিষাদ পোড়ানো অনল।
তুমি আমার স্বপ্নীল অন্তরীক্ষের পূর্ণিমা চাঁদ,
তোমার মত আর কেউ আমায় জোছনা বিকাতে পারেনি।
তাইতো পৃথিবীর সমস্ত পথ রোধ দেখে,
বন্ধ কপাট পেয়েও তোমার দরজায় মাথা ঠুকেছি বারবার–কবিতা।
তুমি তুমি কাউকে কাউকে ইতিহাসেরও ঊর্ধ্বে নিয়ে গেছ,
কাউকে করেছো ইতিহাস।
ওঁদের মত করে তুমি আমায়ও আশ্রয় দিয়েছ,
তুমিই আমায় কারো কারো নিকট সিলমোহরসহ
গড়ে তুলেছ কবির অবয়বে,
তোমাতে জীবন সপেছি,
তোমাতে ঋণী জন্মান্তর কবিতা।
ফেসবুক দিয়ে আপনার মন্তব্য করুন
Spread the love

You may also like...

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

কপি করার অনুমতি নেই।