• Uncategorized
  • 0

মুড়িমুড়কি -তে সিদ্ধার্থ মুখোপাধ্যায়

দ্যান দুটি

তোমার খাই খাই ব্যাপারটা কমেছে?
কোথায় আর কমল, সর্বদাই পেটের ভেতরটা খালি খালি লাগে। মনে হয় গাছ খাই, পাথর খাই…
থামো, থামো, গাছ পাথর খেলে পরিবেশপ্রেমীরা হাঁ হাঁ করে ছুটে আসবে। হজম করাও মুশকিল। হাঁ মুখে কিছু খাদ্যবস্তু দিলেই তো পারো…

পারো মানে দেবদার পারো? তাকে আর কোথায় পাব স্যর, সে তো কবেই শ্বশুরবাড়ি চলে গেছে। ছেলেপুলে নিয়ে তার ভরাভর্তি সংসার। এইসান মুটিয়েছে…. আসলে ভালবেসে “খা খা” করে খাওয়ানোর মতো আপনজন কেউ নেই বলেই না পেটের ভেতরটা সর্বদা অমন খাঁ খাঁ করে।

তোমার সেই খা-মতি খামতি না হয় আমিই পুষিয়ে দেব। এসো বসো আহারে…
আজ্ঞে, আহা রে বলে সমবেদনা জানালেন, নাকি সত্য সত্যই আহার করার নিমন্ত্রণ দিলেন?
আরে তুমি তো ভারি সন্দেহবাতিকগ্রস্ত লোক।
আজ্ঞে, সন্দেশবাতিকগ্রস্ত বললে যথাযথ হয়। দেহরক্ষা করতে গিয়ে দেশকে বিসর্জন দেওয়া আমার পছন্দ নয়।
মানতেই হবে তোমার মতো দেশপ্রেমী খুব বেশি দেখিনি। তোমার পলিটিক্সে নামা উচিত হে।
আজ্ঞে, সে আর বলতে! আপনি মুখ খোলার আগেই নেমে পড়েছি। মিটিং মিছিল হলেই লাইন লাগিয়ে মাংস ভাত খেয়ে আসি।
মাংস ভাত নাকি… সে যাক, শুধু মাংস ভাত খেলেই চলবে, দেশের কাজ করতে হবে না?
করি তো, মিছিলে চিল চিৎকার দিই, মিটিঙে তাল বুঝে তালি দিই, এই দেখুন না হাততালি বাজিয়ে বাজিয়ে হাতে কড়া পড়ে গেছে।
এত আওপাতালি হলে চলে? দেশের জন্য কতো মানুষ প্রাণ দিয়েছেন জান?
সে সব দিন আর নেই স্যর। আজকাল আর দেশের জন্য কেউ প্রাণ-ট্রান দেয় না।
তবে  কী দেয় শুনি।
দেবার মতো বস্তুর কি অভাব? যেমন ধরুন ধোঁকা… ধোঁকা অতি উপাদেয় বস্তু। ইয়ে, বলতে বলতে মনে পড়ল, কত্তদিন ধোঁকার ডালনা খাইনি।
এই তোমার আবার শুরু হল… বললাম তো খাওয়ার ব্যবস্থা আছে।
মেনুটা একটু গোচর হলে ভাল হত না…
মেনু আর কী! সামান্য যা আয়োজন…
খেতে দেবেন বলে ওজন তুলে কথা বলা কি ঠিক?
ওজন তুলে আবার কখন কথা বললাম? তুমি আন শুনতে ধান শুনছ। কানের মাথা খেয়েছ নাকি?
কানের কি আর মাথা হয় স্যর, মাথার কান বললে তবু মানা যেত।
ওই হল, কান টানলেই মাথা আসে।
আপনি খাওয়াবেন, আপনার সঙ্গে তর্কে যাব না। তা কী উপলক্ষে খাওয়া?
আমাদের একটা সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান ছিল।
অ, কৃতি সঙেদের অনুষ্ঠান! তা বেশ।
আবার উল্টোপাল্টা বকছ?
আপনিই তো বললেন স্যর কানের মাথা আর মাথার কান হরেদরে একই। তাই ভাবলাম, সংস্কৃতি আর কৃতি সং অভেন্ন। ভুল হল স্যর?
তোমার সঙ্গে কথায় পারব না। যাই বলি ভেঙেচুরে… বলি অক্ষরগুলো কি কয়লা, দেখলেই ভাঙতে হবে?
না না তা কেন? তার চে বরং একটা দেশলাই দিন স্যর?
কেন? কী করবে?
জ্বালিয়ে দেব।
কী?
পৃথিবীর সমস্ত অক্ষর।
সর্বনাশ! কী ভয়ানক লক্ষ্য!  খামোখা অক্ষর জ্বালাবে কেন?
আজ্ঞে, ছাই হয়ে গেলে আর বাছাই করে ভাঙার দরকার পড়বে না।
তা বটে। কী কী জ্বালাতে চাও শুনি। অক্ষর হল জ্ঞানের আধার। মানুষের জ্ঞানের কি শেষ আছে! এত যে গবেষণা-পত্র, বিজ্ঞান-পুস্তক!
সব জ্বালিয়ে দেব, শুরু থেকে শেষ তক।
আর ধর্মগ্রন্থ?
যা যা লেখা হয়েছে এ পর্যন্ত…
কাব্য, সাহিত্য?
সব বেকার, ধ্যুত্তোর… !
তাহলে মানুষ বাঁচবে কী করে?
যেভাবে পাখিরা বাঁচে অথবা উদ্ভিদ।
মানুষের তো পালক নেই, সালোক সংশ্লেষও করতে পারে না।
তবে আর বেঁচে লাভ কী? দেশলাইটা দিন, জ্বালিয়ে দি।
দেশলাই কেনার পয়সা নেই, অক্ষর জ্বালাতে এসেছ?
পয়সা থাকলে তো উনুন জ্বালাতাম স্যর। রান্নাবান্না করে খেতাম।
অ, তাই এত রাগ?
লোটা কম্বল ছাড়া গরিব মানুষের ওইটুকুই তো সম্বল স্যর। সত্যি বলছি খিদে পেলে মাথার ঠিক থাকে না। মনে হয় দিই সব তছনছ করে।
খুব খিদে পেয়েছে?
হুঁ…
ভাত খাবে?
সঙ্গে একটু ঘি হবে?
হবে।
আলু সেদ্ধ…
হবে, হবে…
তালে দ্যান দুটি।
ফেসবুক দিয়ে আপনার মন্তব্য করুন
Spread the love

You may also like...

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

কপি করার অনুমতি নেই।