বইমেলার গল্প শুভঙ্কর চট্টোপাধ্যায়
বইমেলার অন্যরকম গল্প…
প্রতিবারই আমাদের চেনা বইমেলা একটু একটু করে,কিংবা বেশ অনেকটা করেই বদলে যাচ্ছে,সরে যাচ্ছে আমাদের চেনা ছবিদের থেকে। আমরাও অদ্ভূত সপ্রতিভতায় মানিয়ে নিচ্ছি এই রংবদল,ঝাঁকুনি বুঝতেও দিচ্ছি না পরস্পরকে,পাছে নিজেকে সময়ের সঙ্গে বেমানান প্রমাণ করে ফেলি।
যখন মুখবই ছিলো না,আমরা বইমুখো ছিলাম অনেক অনেক বেশি। বড়রা বইমেলায় এলে নির্ভুলভাবেই সঙ্গে আসতো ছোটদের বইয়ের ফিরিস্তি,বাবা-মা নিজেদের বইয়ের ফর্দ থেকে কাটছাঁট করে হলেও ছোটদের বই না কেনা পর্যন্ত মনে স্বস্তি পেতেন না।কিন্তু এখন বইমেলা যাবার পরিকল্পনা থেকে শুরু করে মেলায় ঢোকা, ঘোরা, খাওয়াদাওয়া,এমনকি বই না কিনেও তাক-লাগানো স্টলে গিয়ে নিজস্বী,সবকিছুই হয়,শুধু বই কেনাটাই মেলায় করণীয়র তালিকায় এক্কেবারে শেষে পড়ে থাকে। সুতরাং বইমেলা-ফেরত বাসের কন্ডাকটর টিকিটের পর বই দেখতে পান না,প্রায় কারোর কাছেই। অনুযোগের সুরে বলতে থাকেন, “আগে বইমেলা ফেরত প্যাসেঞ্জারদের মুখে টিকিট থাকতো, দু’হাত থাকতো জোড়া। আর এখন সব ছবি তুলতে আর খেতে যায় বইমেলায়।” এসব শুনতে শুনতে আমাদের পাশে দাঁড়ানো দু’একজন আওয়াজ দিলেন,”দাদা যতই বই দেখতে চান, বই আমরা দেখাবো না।” কনডাক্টর কী বুঝলেন কে জানে,থতমত খেয়ে বললেন,ছাড়ুন দাদা,আবার পলিটিক্স আনছেন কেন? কে আবার কী কেস দিয়ে দেবে বেফালতু,বেলেঘাটা…বেলেঘাটা…”
বইমেলা থেকে ফেরার একটা রাত এসবও দেখালো। আরও কত কথা বলার থেকে গেলো, এরপর হবে হয়ত সেসবও…