একটি প্রতিবেদন

আম্প্যান এর অমানবিক ধংসলীলা শেষ হওয়ার পর ৪ঠা জুন পাথরপ্রতিমা ব্লক এর রামগঙ্গা গ্রামে কিছু অসহায় মানুষের পাশে দাঁড়াতে এবং কয়েকদিনের বেঁচে থাকার রসদ জোগাতে পৌঁছে গেছিলেন সায়ন্তী তরফদার, অরিজিৎ সিনহা এবং তার বন্ধুরা । সেখানে রাস্তার ধারে তখনও আম্প্যান এর সাক্ষর প্রতিটা ইঞ্চিতে জ্বলজ্বল করছিলো।
আড়াইতলা উঁচু গাছ যে উড়ে আরেকটা আড়াইতলা উঁচু গাছ এ ঝুলে থাকতে পারে সেটা হয়তো আম্প্যান পরবর্তী সময়ে সুন্দরবনে না গেলে জানতেই পারতেন না তারা… ঘূর্ণাবর্তের ঘেরাটোপে মানুষের অসহায়তার হাহাকার যে কতটা বেদনাদায়ক হতে পারে তা প্রত্যক্ষ ভাবে উপলব্ধি করেছিলেন তারা। উপলব্ধি করেছিলেন এও যে প্রকৃতির এমন রূপের কাছে মানুষ কতটা অসহায়।
বেলা ১০ টায় পৌঁছানোর কথা থাকলেও কিছু সময়ের দেরিতে বেলা ১২টায় পৌঁছে অপেক্ষারত গ্রামবাসীদের দেখে কেঁদে উঠেছিল তাদের মন।
কোনো কিছু না ভেবেই ৪৫০ পরিবারের হাতে তুলে দিয়েছিলেন আগামী কয়েকটা দিনের বেঁচে থাকার রসদ….
কিন্তু থেমে থাকার সময় বা উপায় কোনোটাই হয়ে ওঠে নি তাদের। সুন্দরবনের প্রত্যন্ত দ্বীপগুলো থেকে একে একে ত্রাণ নিয়ে যাবার আর্জি আস্তে শুরু করে। তারাও চুপ করে বসে থাকতে পারেন নি। ফোন এর ওপার থেকে কান্নায় কথা ঢাকা পড়ে যাচ্ছিলো ,যখন তাদের অবস্থা তারা ব্যক্ত করছিলেন।
সেই কান্নারত মানুষের টানেই আগামী শনিবার ২০ জুন তারা আবারও যাচ্ছেন সন্দেশখালি ব্লক এর বাউনিয়া গ্রাম এ। আর ২১ তারিখ যাচ্ছেন পারুলদহ …. ২৫০ করে মত ৫০০ পরিবার এর হাতে ত্রাণ তুলে দেবার কথা দিয়েছেন…
লজ্জা ত্যাগ করেই তারা আপনাদের কাছে হাত পেতেছেন… যদি সম্ভব হয় পাশে দাঁড়ান সেই মানুষগুলোর…
নীচে তাদের ব্যাংক ডিটেলস দেওয়া হলো।