গদ্য বোলো না -তে সঙ্কর্ষণ

স্বর্গোদ্যানে ভারত বনাম নিউজিল্যাণ্ড পাঁচদিনের খেলার দ্বিতীয় সকালটি ইশকুলের চার-পাঁচজন বন্ধু মিলে কাটিয়ে সন্ধ্যে ৭টা ৩০এ শ্যামবাজারের কোনো এক পুরোনো বড়ো পর্দায় দেখতে গেছিলাম ‘এম এস ধোনি: অ্যান আনটোল্ড স্টোরি’। খেলোয়াড় হিসাবে শ্রী মহেন্দ্র সিংহ ধোনিকে নিয়ে আমার কোনোকালেই অতিরিক্ত উচ্ছ্বাস ছিলোনা। বরং ছবি দেখেও আমরা দুয়েকজন অতি উচ্ছ্বসিতকে উত্যক্তই ক’রছিলাম যে গল্প তো সেই অকথিতই র’য়ে গেলো।
তবু ছবিটি ছোটো পর্দায় আজও দেখি। হাজার মজা ক’রলেও প্রচুর মনোযোগ দিয়ে ঐ অংশটি দেখেছিলাম সেদিনও। আমার ব্যক্তিগত গণকযন্ত্রের অন্দরেও গোটা ছবিটি অন্তর্জালের সৌজন্যে রাখা আছে। তার একটি কারণ, একটিই মাত্র কারণ আর সেটি হ’লো “ধোনি ফিনিশেস অফ ইন স্টাইল। ইন্ডিয়া লিফ্টস দ্য ওয়ার্ল্ড কাপ আফটার টোয়েন্টি এইট ইয়ার্স”।
নামভূমিকায় অভিনয় করা শ্রী সুশান্ত সিংহ রাজপুতেরও আমি বিশাল বড়ো ভক্ত ন’ই, শ্রী রবি শাস্ত্রীরও ঐ ধারাভাষ্যটুকু ব্যতীত আমার চোখে গুরুত্ব তেমন কিছু নেই। কিন্তু যতোবার ঐ অংশটুকু দেখি, মনে পড়ে নবম শ্রেণীর এক নেহাতই নিম্নমধ্যমেধার ছাত্র ঐ মুহূর্তটিকে নিজের সর্বস্ব দিয়ে উপভোগ ক’রেছিলো। যতোদিন জীবিত থাকবো, বুক চাপড়ে সকলকে ব’লে যাবো, “আমি ইতিহাসকে স্বচক্ষে তৈরী হ’তে দেখেছি।”, আমি কাকে পছন্দ ক’রি, কাকে ক’রিনা, সেসবে এখানে কিছু যায় আসেনা। জীবদ্দশায় দেখা স্বদেশের প্রথম বিশ্বকাপ জয় ব’লে কথা।
পূর্বোক্ত বিবৃতির সঙ্গে এখন থেকে যোগ ক’রতে হবে, এ সংক্রান্ত ছবিসহ মূল অভিনেতাকেও আমি যখন স্বচক্ষে দেখেছিলাম (সে পর্দায় হ’লেও), তখন আমি সদ্য হিন্দু স্কুলের প্রাক্তনী হ’য়েছি। তিনিও এখন সেই মুহূর্তের মতোই নিছক অতীত।
সেদিন গণমাধ্যমে উক্ত প্রাক্তন অধিনায়কের একটি ছবি দেখছিলাম, বড্ড বুড়িয়ে গেছেন। মনে হয় বিশ্বকাপে সেই নিউজিল্যাণ্ডের অস্ত্রাঘাতেই তিনি তীব্র গতিতে আজ বার্ধক্যে উপনীত হ’য়েছেন। প্রকাশ্যে সেসব কষ্টের ভাগাভাগি নতুন ক’রে আর না’ই বা ক’রলাম। পরাজিত খেলার পুনরাবৃত্তি কি দুঃখ ব্যতীত আর কিছু দিয়েছে আমাদের?
শুধু সাহিত্য সংক্রান্ত নয়, আপামর গণমাধ্যমের বন্ধুতালিকায় থাকা প্রত্যেকের প্রতি করজোড়ে আবারও একটি অনুরোধ। প্রথমটি সম্পর্কে কী সিদ্ধান্ত নেবেন তা আপনাদের ব্যাপার, মনুষ্যত্বের প্রেক্ষিতেও অন্ততঃ এটি রাখতে চেষ্টা ক’রুন…
শেষ মুহূর্তের ছবিটিকে আর ভাগাভাগি ক’রবেননা, বড়ো হৃদয়বিদারক।
ধন্যবাদ।