কবি পরিচিতি: সেখ সামুসল হক – রীণা তালুকদার

কবি ও সাংবাদিক শেখ সামসুল হক
কবি ও সাংবাদিক শেখ সামুসল হকের জীবনপঞ্জি
১৯৪৯ : নাম- শেখ সামসুল হক। জন্ম ২২ নভেম্বর, ১৯৪৯ সালে ফরিদপুরের পশ্চিম চর টেপাখোলা। পিতা : শেখ জয়নাল আবেদীন। মাতাঃ কুলসুম বিবি। ৪ ভাই ১ বোনের মধ্যে সবার বড়। জন্মস্থান – গ্রাম-পশ্চিম চর টেপাখোলা, থানা-কোতয়ালী, জেলা- ফরিদপুর। সংসার : স্ত্রী-শেখ বাবলি হক, পুত্র : শেখ সামিউল হক, কন্যা – অয়ন হক। শৈশব ও কৈশোর : স্কুলে যাওয়া আসার আনন্দ এবং মামাবাড়ি বেড়ানোর বায়না ইত্যাদি। দশক হিসাবে ষাটের দশকের কবি। তিনি ফরিদপুর জাদুঘরের প্রতিষ্ঠাতাদের অন্যতম এবং বিখ্যাত আলাওল পুরস্কার প্রবর্তকদের মধ্যের অন্যতম।
১৯৫৫ : প্রাথমিক বিদ্যালয় : ময়েজ উদ্দিন হাই একাডেমী। পরবর্তীতে নাম হয় ময়েজ উদ্দিন হাইস্কুল।
১৯৬৫ : লেখালেখি শুরু করেন। কবিতা ও ছড়া পড়ে এবং বেতারে গান শুনে কবিতা লিখতেন।
প্রথম লেখা – শীতের বুড়ি (পদ্য), প্রথম বই : চমৎকার সাহস (কাব্যগ্রন্থ)
১৯৬৬ : ময়েজ উদ্দিন হাইস্কুল।
১৯৬৭: সরকারী রাজেন্দ্র কলেজ : পড়াশুনা, প্রগতিশীল ছাত্ররাজনীতি এবং খেলাঘর আসর,
লেখালেখি নিয়ে ব্যস্ত সময় অতিবাহিত করেন।
১৯৬৯: ফরিদপুর সাহিত্য ও সংস্কৃতি উন্নয়ন সংস্থার প্রতিষ্ঠাতা সদস্য (১৯৬৯) ছিলেন।
১৯৭১: ৩ ডিসেম্বর, ১৯৭১ সালে আলবদর বাহিনী কর্তৃক ধৃত হয়ে কারাভোগ স্মরণীয় ঘটনা। ৮ ডিসেম্বর মুক্তি পান। এই সময়ের একটি ভাল লেখা- একটি বুলেটের জন্য শীর্ষক কবিতা-১৯৭১।
১৯৭২ : ‘শব্দের আকাংঙ্খায় সূর্য’-১৯৭২ (যৌথ কাব্য) প্রকাশিত হয়।
১৯৭৪ : ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় : ১৯৭৪ সালে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে এম.এ পাশ করেন।
বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়াশুনা কালীন আড্ডা দিতেন-কলাভবন, মহসীন হল, সূর্যসেন হল,
ইতিহাস বিভাগ, বেতার ভবন, ৯৯ নবাবপুর সাপ্তাহিক আমাদের কথা অফিস, অবসরে
শরীফ মিয়ার ক্যান্টিন, নিউমার্কেট মনিকো রেস্টুরেন্টে কবিতার আড্ডা দেয়া।
১৯৭৮ : বাংলাদেশ বেতার -এ চাকুরী।
১৯৭৯ : বাংলাদেশ স্কাউটস -এ জনসংযোগ কর্মকর্তা পদে।
১৯৮৪ : ফরিদপুরের লোক সাহিত্য নিয়ে ১৯৮৪ সালে গবেষণার কাজ করেছেন।
‘ফরিদপুরের লোক সাহিত্য’ -১৯৮৪ সালে প্রবন্ধ গ্রন্থ প্রকাশ।
১৯৮৫ : বিখ্যাত কাব্য গ্রন্থ ‘চমৎকার সাহস’- প্রকাশ। এই গ্রন্থের সব লেখা ১৯৭১ সালের আগে লেখা।
১৯৮৬ : ৪ঠা সেপ্টেম্বর অনুপ্রাস জাতীয় কবি সংগঠন প্রতিষ্ঠা।
১৯৮৮ : প্রথম পুরস্কার – বিকাশ সাহিত্য পুরস্কার-১৯৮৮ সালে গ্রহণ।
১৯৮৯ : পারাবর সাহিত্য পুরস্কার-৮৯ গ্রহণ।
১৯৮৯ : পিতা শেখ জয়নাল আবেদীন-এর মৃত্যু।
১৯৮৯ : চৌধুরী রিয়াজউদ্দিন স্মৃতি পুরস্কার-’৮৯ গ্রহণ।
১৯৮৯ : ‘যাই ফিরে যাই’- কাব্যগ্রন্থ প্রকাশ।
১৯৯৩ : ‘মাসিক নীলাঞ্জ’ সম্পাদনা ও প্রকাশ।
১৯৯২: আহবায়ক, ঘাতক দালাল নির্মূল কমিটি, অনুপ্রাস ইউনিট।
২০০১ : নির্বাচনের এক সপ্তাহ পূর্বে গণ গ্রেফতার হবার ক্ষণটাই জীবনের স্মরণীয় মুহূর্ত।
২০১০ : ১০ ডিসেম্বর শিল্পকলা একাডেমীর অডিটোরিয়ামে অনুপ্রাসের রজত জয়ন্তি উৎসব পালন।
২০১০ : ‘অনুপ্রাস রজত জয়ন্তী স্মারক গ্রন্থ-২০১০ সম্পাদনা ও প্রকাশ।
২০১০ : অনুপ্রাস রজত জয়ন্তী সম্মাননা স্মারক-২০১০ গ্রহণ।
২০১১ : চয়ন সাহিত্য স্বর্ণপদক-২০১১ গ্রহণ।
২০১২ : অনুপ্রাস জাতীয় কবি সংগঠনের অফিস স্পেস ক্রয় ও নীলক্ষেত, ঢাকায়, স্থায়ী অফিস।
২০১৪ : অনুপ্রাস একুশের কবিতা সংকলন সম্পাদনা ও প্রকাশ।
২০১৪ : অনুপ্রাস দ্বি-ভাষিক স্বাধীনতার কবিতা সংকলন সম্পাদনা ও প্রকাশ।
২০১৪ : সৈয়দ রনো ‘র জন্মবার্ষিকী সংকলন সম্পাদনা-২০১৪
২০১৪ : জামসেদ ওয়াজেদ জন্মবার্ষিকী সংকলন সম্পাদনা-২০১৪
২০১৪ : ৩০ জুলাই, ২০১৪ মাতা কুলসুম বিবির মৃত্যু
২০১৪ : নভেম্বর, ২০১৪ রমণীয় স্বাধীনতা কাব্য গ্রন্থ প্রকাশ।
২০১৪ : উপদেষ্টা, বাংলাদেশ মফস্বল সাংবাদিক ফেডারেশন লিঃ (বামসাফে)
২০১৫ : অনুপ্রাস দ্বি-ভাষিক একুশের কবিতা সংকলন সম্পাদনা ও প্রকাশ।
২০১৫ : অনুপ্রাস স্বাধীনতা কবিতা সংকলন সম্পাদনা ও প্রকাশ।
২০১৫ : কবি বেগম বদরুননেসা আলীর ৬৪তম জন্মোৎসব সংকলন গ্রন্থ সম্পাদনা ও প্রকাশ-২০১৫
২০১৫ : ‘চমৎকার সাহস’ ক্যাবগ্রন্থের দ্বিতীয় প্রকাশ।
২০১৫ : যাই ফিরে যাই ক্যাবগ্রন্থের দ্বিতীয় প্রকাশ।
২০১৬ : অনুপ্রাস একুশের কবিতা সংকলন সম্পাদনা ও প্রকাশ।
২০১৬ : অনুপ্রাস দ্বি-ভাষিক স্বাধীনতার কবিতা সংকলন সম্পাদনা ও প্রকাশ।
২০১৬ : কবি বেগম বদরুননেসা আলীর ৬৫তম জন্মোৎসব সংকলন গ্রন্থ সম্পাদনা ও প্রকাশ-২০১৬
২০১৬ : রূপালী জলের করাত ক্যাবগ্রন্থের প্রকাশ।
২০১৭ : কবি বেগম বদরুননেসা আলীর ৬৬তম জন্মোৎসব সংকলন গ্রন্থ সম্পাদনা ও প্রকাশ-২০১৭
২০১৭ : অনুপ্রাস দ্বি-ভাষিক বৈশাখী বিজ্ঞান কবিতা সংকলন যন্ত্রস্থ।
সাংগঠনিক দায়িত্ব পালন :
নির্বাহী সভাপতি : অনুপ্রাস জাতীয় কবি সংগঠন ১৭ জানুয়ারী ১৯৮৭ তারিখ থেকে সেপ্টেম্বর, ২০১৯ পর্যন্ত।
পত্রিকায় দায়িত্ব পালন :
সম্পাদক :- মাসিক নীলাঞ্জ।
নির্বাহী সম্পাদক : দৈনিক সোনালী বাংলাদেশ, মাসিক অগ্রদূত, বাংলাদেশ স্কাউটস, মাসিক অনুপ্রাস।
ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক :- মাসিক গণমন, ফরিদপুর জেলা বোর্ড।
চীফ রিপোর্টার :- দৈনিক বিকাল বার্তা, সাপ্তাহিক আমাদের কথা, সাপ্তাহিক দীপ্তবাংলা।
ডেপুটি ব্যুরো চীফ :-দৈনিক দেশ বাংলা, চট্টগ্রাম-১৯৭২, মাসিক মেঘনা।
বিভাগীয় সম্পাদক :- সাপ্তাহিক চিত্রালী, দৈনিক সমাচার, দৈনিক পত্রিকা, দৈনিক ভোরের ডাক, দৈনিক বাঙ্গালী।
ব্যবস্থাপনা সম্পাদক :- সাপ্তাহিক যুবশক্তি-১৯৭২।
সাহিত্য সম্পাদক :- দৈনিক নব অভিযান, দৈনিক সোনালী বার্তা।
বার্তা সম্পাদক :- দৈনিক রূপবানী।
তিনি অনুপ্রাস জাতীয় কবি সংগঠনের প্রতিষ্ঠাতাদের অন্যতম। বর্তমানে সভাপতির দায়িত্ব পালন করছেন। অনুপ্রাস জাতীয় কবি সংগঠন ৪ঠা সেপ্টেম্বর, ১৯৮৬ সাল থেকে পথচলায় চলমান। সর্বদাই কবিতার আধুনিক আঙ্গিক গঠনে বিজ্ঞানকে প্রাধান্য দিয়ে নিত্য নতুন বিষয়ভিত্তিক কবিতা রচনায় কবিদের পরামর্শ দিয়ে থাকেন। এ সংগঠনই দেশের একমাত্র প্রতিষ্ঠান যেখানে কবিতার নিয়মিত চর্চা হয়। নতুন লিখিয়েদের নিয়ে তৃণমূল পর্যায়ে কাজ করে যাচ্ছে। আর এই প্রতিষ্ঠান একুশের কবিতা, স্বাধীনতা কবিতা, বৈশাখী কবিতা, বর্ষার কবিতা ও বিজয়ের কবিতা উৎসব নিয়মিত ভাবে পালন করে আসছে। শুধুমাত্র ঢাকাতেই নিয়মিত মাসিক সিডিউল অনুযায়ী মোট ৮-১২টি অনুষ্ঠান পরিচালনা করা হয়। ঢাকার বাইরেও জেলা শহরে নিয়মিত কাব্য চর্চার প্রয়াস অব্যাহত রয়েছে। প্রতিটি অনুষ্ঠানে একক কবির কবিতা পাঠ, উন্মুক্ত কবিতা পাঠ, সঙ্গীত, আলোচনা, সমালোচনা সহ সেমিনার, গবেষণা, বুক রিভিউ, দ্বি-ভাষিক কবিতা সংকলন প্রকাশ. কবিদের জন্মোৎসব পালন ও কবিদের প্রকাশনা সংক্রান্ত কার্যক্রম অব্যাহত রয়েছে।
কবির ভাষ্য- নীরব থাকা শখ, অন্য কিছু পারি না, তাই ভালবাসার উৎসাহে কবিতা লিখি, কবিতা বিষয়ে বলেন-ক্ষেত্র বিশেষে কবিতা যুক্তি নির্ভর, কবিরা কবিতা লিখে স্বতন্ত্রভাবে। কবির মতে ভাল লেখা হচ্ছে- যে লেখা আনন্তিম মনে থাকে। নীরেন্দ্রনাথ চক্রবর্তী বলেছেন সবাই কবি; জীবনানন্দ বলেছেন কেউ কেউ কবি, তিনি মনে করেন দুটিই সত্য। বিশ্ব আঙ্গিকে বাংলা কবিতার বর্তমানে সহাবস্থান মনে করেন। বাংলা কবিতায় বিদেশী সাহিত্য এক সময় প্রভাব ফেললেও একবিংশ শতাব্দীতে পড়ছে না। তবে বিদেশী ভাষার কবিতা ও বাংলা কবিতা অনুবাদ, সাহিত্যকে উন্নত করতে পারে এবং যে কোনো ভাষায় কবিতার সঠিক অনুবাদ গুরুত্বপূর্ণ। মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক জাতীয় চেতনা ও বিশ্বজনীন চিন্তা হচ্ছে মানুষকে ভালোবাসা। ব্যক্তি স্বার্থহীন ভাবনা ও মানুষ সত্য তার সার্বিক মুক্তি। বাংলা ভাষা সাহিত্য ও বাঙালীর ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা কবি ও কবিতার মিলন মেলা গড়ে তোলা। কবিতার অবিনাশী মিছিল দেশ দুনিয়ায় এগিয়ে নিতে সংগ্রাম চালিয়ে যাওয়াই কবির ইচ্ছা। ১৯৪৭ সালের দেশ ভাগের পূর্বে ও পরে কবিতায় জাতিসত্তাকে উর্ধ্বে তুলে ধরার ক্ষেত্রে প্রভাব পড়েছে বলে মনে করেন। উপস্থাপন ও প্রক্ষেপণের মাধ্যমে বাংলা কবিতার আঙ্গিক দ্রুত পরিবর্তন হচ্ছে আর বিজ্ঞানের সমন্বয় কবিতাকে আরো সমৃদ্ধ করছে। বাংলা কবিতা সমৃদ্ধির পথে সংগ্রহ এবং সংগ্রহশালা ও সার্বিক পৃষ্ঠপোষকতার অভাব ও অন্তরায় আছে। ইন্টারনেট, ফেসবুক, স্কাইপে, হোয়াটসঅ্যাপ সহ ডিজিটাল সব পদ্ধতি সাহিত্যকে বিকশিত করা, প্রচার ও প্রসারে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে বলে মনে করেন।
বর্তমান দায়িত্ব :
সভাপতি : অনুপ্রাস জাতীয় কবি সংগঠন সেপ্টেম্বর ২০১৯ তারিখ থেকে চলমান।
সম্পাদক : ‘মাসিক নীলাঞ্জ’ নভেম্বর, ১৯৯৩ তারিখ থেকে চলমান।
নির্বাহী সম্পাদক : ‘মাসিক অনুপ্রাস’ নভেম্বর, ১৯৯৩ তারিখ থেকে চলমান।
সাধারণ সম্পাদক : খলিলউল্লাহ্ মৃধা স্মৃতি ফাউন্ডেশন ১৯৯৩ তারিখ থেকে চলমান।
সাধারণ সম্পাদক : বাংলাদেশ বন বাগান মালিক সমিতি ১ জানু., ২০০১ তারিখ থেকে
চলমান।
প্রধান সমন্বয়ক : বঙ্গবন্ধু বিজ্ঞান কবিতা পরিষদ। ১৩-০৬-২০১৬ তারিখ থেকে চলমান।
কবি ও সাংবাদিক শেখ সামসুল হকের কবিতাগুচ্ছ
#
স্বাধীনতা চর হাজী গঞ্জ
————————
জমির তোর খুব কাছে যেতে চাইছি বিশ্বাস কর
যেখানে তুই সেদিন যেতে চাসনি
সেখানে জোর করেই ওরা তোকে পাঠিয়েছিল
যাবার বেলা হয়নি দেখা
ছিলনা কেউ নিকটে তোর
শুকনো ঠোঁটে একটুখানি জল ঢেলে দেয়
চোখের ধারা মুছিয়ে দিতে মা জননী
তাকেও ওরা যেতে দেয়নি
এমন নিঠুর অসময়ে বড়ই একা কেউ দেখেনি
গুলির ঘাঁয়ে কলজে ছিঁড়ে
রক্তে ভেজা দেহ নিয়েই বিদায় হলি ক্যামন করে
পদ্মা তোকে আপন বুকে ঠাঁই দিয়েই
খুঁজলো তার যে কতশত অতীত জ্বালা
ঢেউ উঁচিয়ে সে কথাই বলছে যেনো ঃ
‘জমির আছে আমার কাছে’
কেঁদোনা কেউ দেখবে তাকে
যে কোন এক ঝড়ের দিনে আমার তীরে এলেই তবে
দেখতে পাবে ঢেউ নিয়ে সে করছে খেলা
শক্ত হাতে রক্ত চোখে
জমির বিশ্বাস কর আজকে আমিও তাই
তোর কাছে ভাই যেতে চাই।
#
তুমি কাছে এলে
——————–
কুতুব মিনার থেকে শহীদ মিনার
ভাঙ্গা গড়ার এক ইতিহাস তুমি
তুমি কাছে এলে আমি একা হয়ে যাই
লাশ কাটা ঘরে জল কোকিলের কালো
বুক ছিঁড়ে ফেড়ে সেদিনের সব কথা
বেহাল নেশায় রাত তিনটার চোখ
কিংশুক হয়ে ফিরে যেতে চায় যাক
ক্ষতি নেই কোন হিংস্র বাতাস এসে
অনেক দিনের একটা পুরোনো ছবি
কাঁপিয়ে তুলছে ছবিটা হঠাৎ করে
আঁছড়ে পড়ার শব্দ এখন ভীরু
বেদনার মুখে রাত প্রভাতের ছায়া
ফেলছে; বলছে তুমি কাছে এলে কেন ?
তুমি কাছে এলে আমি একা হয়ে যাই
পশু হয়ে যাই অমানুষ হয়ে যাই
আমার ভেতর ভূমিহীন কৃষকের
ভেঙ্গে পড়ার জরুরী খবর পেয়ে
রাতের চেয়ার ছেড়ে উঠে আসে মেঘ
ফুলের আদেশ অমান্য করে তাই
শস্য উজাড় মাঠে ঘাটে নামে ঝড়
পুড়ছে হৃদয় আগুনে দিয়েছি হাত
চার দিকে ঝড় তুমি ফিরে যেতে চাও
যাও ফিরে যাও আমি একা হয়ে যাই
তুমি কাছে এলে আমি একা হতে পারি।
#
ঢেউ দেখে কেউ
———————
সেহেলী তোর কারুকাজহীন ঠোঁটের লাল দীঘিতে
এখনো কি বেদনা অপার হাসির পদ্ম ফুটে কি-না?
জানিনা জানিনা জানবোনা আর কোনদিন
একদশক বাদে বাহাদুর শাহ লেকের ধারে
শুধু চোখের দেখা হলেও কথা হয়নি তোর সাথে
সে দুঃখ বোধটা আজকাল মনের ভাঙ্গা মঞ্চে
স্মৃতি সভার আয়োজন করে বসছে নোটিশ ছ্ড়াাই।
দুলালী তুই বলীর পাঠা আমার কাছে পূজোর ফুল
কল্পনা সেতো স্নান ঘাটের জলকন্যা, বেদানা তুই
ছুটে যাওয়া জাবর কাটা ঘাস বিচালি সারা জীবন
পারশীন চিরদিন দিল আফরোজ নাচে গানে
মুখর হয়ে থাক তুই নীল কাঁচ জলসা ঘরে।
বেলী গন্ধছন্দহীন স্বরাজে বিরাজিত থাক
বাবলি তোর হাসির ঢেউ দেখে কেউ হারিয়ে না যায়
নীলকণ্ঠ নীলাঞ্জ তোর নীল নদের দুই তীরে
দন্ডায়মান যুদ্ধ পাগল কামচতুর সমরজান্তা।
#
পরিপূর্ণ তুমি
——————-
ডুবে যাচ্ছি নাতো, ঠাঁই কোথায় ? দূরে না কাছে
ময়ূর পঙ্খী নাও, ভীষণ দুলছে
দুঘন্টি পালে দমকা হাওয়া খেলছে দারুণ খেলা
এরপর আরো আছে ঢেউয়ের মাতলামী
ঠাঁই কি নেই তাহলে আজকে আমার
আপৎকালীন আশ্রয়ের পারাপারে
আপন বলতে এক নাম জানি সে আর কেউ নয়
আশায় ভালোবাসায় সেতো তুমি
তুমি ছাড়া এ দুর্মর ক্ষণে কারো কথা কোন স্মৃতি
মনোভূমি আলোকিত করার সাহস করেনি
ডুবে যাচ্ছি নাতো ঠাঁই কোথায় দূরে না সুদূরে
মনপবনের নাও ভীষণ দুলছে হালে পানি নেই নেই
তুফানী হাওয়া যা খুশী তাই বলছে
ঢেউয়ের দাপট বাড়ন্ত লাউয়ের ডগায় সুন্দরী ফণা তুলে
আপন পর ভুলে হানছে আঘাত
তবে কি কোথাও যাবার নেই কিছুই পাবার নেই
অভীরু মনোপ্রাণ ছুঁই ছুঁই করছে ভয়ের আকাশ
চেনা জানা কেউ নেই ধারে কাছে
অবসাদ আর ক্লান্তির কাটাতারে জড়িয়ে যাচ্ছি কেবল
দশদিক থেকে ঘিরে ফেলছে গোলাপ বাগান
কোথায় তুমি নিশিভোর স্বাগত সূর্যমুখী
উদ্ধার করো ডুবে যাচ্ছি হে বিপত্তরাণেষু
চাঁদ ডুবলে ওঠে আসে রোদে ভাজা কড় কড়ে সূর্য
আমি ডুবলে ওঠে এসো তরতাজা পরিপূর্ণ তুমি।
#
বিজ্ঞান সনেট -৫
———————–
মাধবী সুন্দর বারুদ কণায় চারু নিম চোখে
সুপার মুনের নিকট দূরের সিলভার ¯্রােতে
কাকর নদীর কাঁশবন ছোঁয়া ভোরের বাতাসে
খোয়াড়ে আটক খটমল দল অস্থির যখন
ফকিরি জিকির বাজনা বিহীন কত ভাললাগে
বিবরণ দিতে পড়তি বেলায় হেলায় খেলায়
সাধু সাবধান হবার সময় পায় না ভুবনে
অধরা উদ্ধার বুঝে না অবুঝ রকেট হামলা
কত ভয়ানক ক্ষতের সৃস্টিতে অতল বিহারে
করজোড় নেই ভক্তির মেলায় ইমেইল আসে
যেতে চাই ছুটে যাওয়া হয় না চড়ক বাধায়
থমকে দাঁড়ায় শক্তির পাহাড় রঙিন মহল
বেসামাল হয় দারুণ করুণ অসহায় রূপে
বিকট নিদান অদূরে বিপ্লব ঘটায় গোপনে।
#
নক্ষত্রের রাত্রিবাস
———————
জেগে আছি ভালবাসা নক্ষত্রের রাত্রিবাস
তুফানের চিত্রদেশ সহজ সত্যের কাছে
নতজানু সংগ্রাম খুঁজে ফিরে পারাপার
চিরচেনা ভাবনার নদী তীর করতল
ছুঁয়ে যায় শতাব্দীর অবশেষ সরাসরি
মাধ্যমের তারকাটা পেরুবার কৌশলের
ঝাড়বাতি জ্বলে ওঠা সময়ের জোড়াতালি
নিয়ে চলা জীবনের খটমল তাড়াবার
লড়াইয়ের আওয়াজ কানে বাজে ছটপট
দৃশ্যপট পড়ে থাকে নিকটের ছায়াতলে
অবিরাম বিশ্বাসের পোড়ামাটি নাই পাই
ধা ধা কলে হচকিত বুঝতে পারে না কিছু
জেগে থাকা মোমরসে শনির আখড়া বসে
ধূপখোলা রথখোলা ভাব তাপ নিয়ে চলে
গদাধর ঘুম চোখে কাটায় প্রহর একা
উচাটন উর্বশীর নরক নৃত্যের তালে গোলে
জীবনের একদাবী ফিরে যেতে পারি নাও পারি।
#
#
স্মৃতির হাঙ্গর নদী
———————-
মধ্যরাতে মাধবী লতায় জড়িয়ে পড়ার
সাহসটা এখন স্মৃতির হাঙ্গর নদী
যাত্রাপথে জেগে থাকা চাঁদ তারা
অন্ধকারে জোনাকির চোখ যায়
অনিচ্ছার কাঁচ কাটা চকচকে হিরে
চুপচাপ থাকে তীরের ভাঙ্গন খেলা
নি:শব্দের বায়ূচড়া ভাব ধীরে ধীরে কাটে
বাঁশী হাতে শুকনো পাতার ঝরে পড়া নিয়ে
কেউ কিছু বলে না কি হলো এমনটা কেন
চির চেনা রাতের ছবিটা ভালো লাগে না যে
সময়ের সাথে পাল্লা দিতে হবে ঠিকঠাক
ব্যতিক্রম হলে মার খেতে বাকি থাকবেনা।
#
রকেট যাত্রা
—————-
জীবন কালের জীবনী শক্তির উর্বর উত্তাপে
ভাবের রকেট যাত্রায় চলার ভাবনা নিকটে
রাখার প্রবল বাসনা কাতর সময় এখন
জানার তেমন সাহস হয় না এমনটা নয়
কি হবে জানতে পারলে ফেরার পথটা ফাঁকা
সেখানে কিছুই নেই যে কেবল একলা থাকা
রাত যায় চলে দিন আসে বীণ বাজিয়ে ধামাকা
প্রয়োজনহীন একটানা বসে থাকার নামতা
পাঠ করে যেতে আর কত ভাল লাগবে এখানে
পরিবেশ যা তা এ রকম বলা যায় না ঠিকই
তারপর এক মনে হতে পারে কোথায় আছি
কথা বলে জেনে নিতে সাধ জাগে কি করে বাঁচি
স্বপ্নের বসত ভিটায় উচ্ছেদ অভিযান চলে
হ্যাঁ করে তাকিয়ে থাকার অধিক কি করবে বলো
না করে থাকার উপায় একটা আছে খুব কাছে
ভুলের জানালা কপাট হঠাৎ বন্ধ করে দেয়া।