পাড়ার উঠোনের অনতিদূরে মাতব্বরেরা জুটেছে।আজ কিছু একটা যুতসই হতেই হবে।ছাদের এধার ওধারে উঁকিঝুঁকি মারছে মদন চক্কোত্তির মা,কানাই ঘোষের বিধবা বোন লাবণ্য,গনেশ মাঝি,ওধারের ছাদে ত্রয়োদশী রীতিকা,তপন মাইতির গৃহবধূ প্রতিমা ইত্যাদি আরো অনেকে।খবরটা অনেকদিন ধরেই চাওর ছিল পাড়ায়।নিত্যদিনই ছেলে ছোকরাদের আড্ডায়, নানান ঠেকে,মহিলাদের মজলিশে মুখরোচক ছিল ব্যাপারটা।নীতেশ গাঙুলির বাপত্যা জমির বিনিময়ে তার দুই ছেলের
চাকরী হয়েছে।কোম্পানী থেকে একর প্রতি পাঁচ লাখ করে চার একরের বিনিময়ে মোট কুড়ি লাখ টাকা ল্যান্ড কমপেেনসেশনও পেয়েছে।নীতিশ গাঙুলির এখন ব্রেন স্ট্রোক।মেমরি লস।শরীরের অবস্থা মোটেই ভাল নয়।যে কোনদিন খারাপ কিছু একটা ঘটে যেতে পারে।হাসপাতালের চিকিৎসায় খুব একটা উন্নতি হয় নি।
গাঙুলিবাড়িতে ল্যাঠা লেগেই থাকে আর পাঁচটা সংসারে যেমন হয়।কথায় বলে না বিষয় বিষ।এদেরও হয়েছে তাই।ছেলেরা বোনেদের টাকা পয়সার ভাগ দিতে নারাজ।এই নিয়ে বোনেদের সঙ্গে ফোনালাপ বার্তালাপ বন্ধ।
এই তো গত সপ্তাহেই ছোট ছেলের বউ স্বামী স্ত্রীর মধ্যে রাগারাগি করে বাপের বাড়িতে চলে গেল ।শাশুড়িকে বাগে আনতে দুই বউয়ের নানান ফন্দিফিকির চলছে,যাতে কুড়ি লাখ টাকা বেহাত না হয়ে যায়।
আজ নীতিশ গাঙুলির বাড়িতে জামাই মেয়েরা এসেছে।মাতব্বরেরা ভেবেছিল আজ হয়তো পঞ্চায়েত ডেকে কিছু একটা হেস্তনেস্ত হবে।দুপুরে খাওয়া দাওয়ার পর পাড়ার মেয়েবউরা দু একজন,পাশের বাড়ির দিদিদের বেশ কয়েকবার আনাগোনা ব্যাপারটাকে জম্পেশ করে তুলল।দু একজন আগেভাগে মেয়েজামাইদের নানান কথাবার্তা বলে প্রশ্রয় দিতে লাগল।