অণুগল্পে অমিতাভ দাস
by
TechTouchTalk Admin
·
Published
· Updated
স্তন্যদায়িনী
গতকালকেও পরিবেশটা শান্ত ছিল ।সকাল সকাল নগরসংকীর্তনে গিয়েছিলাম আমরা ।তারপর দোল খেলে বাড়ি ফিরেছি আবির মেখে ।আনন্দময় জীবন ।
অথচ আজ ভোর থেকেই পরিবেশটা বদলে গেল । চিৎকার , উত্তেজনা , গোলাগুলির আওয়াজ । খবরের কাগজ আসেনি বাড়িতে । এখনো কাজে আসেনি রুবাইয়া ।
কত্তা বললে , দাঙ্গা লেগেছে । তাই পাড়ার দোকানটাও খোলেনি ।
–কী কারণে দাঙ্গা ? কত্তা বলতে পারলে না ।
পাশের বাড়ির ঘোষগিন্নি জানলা দিয়ে মুখ বাড়িয়ে বললে , ইন্টারনেট পরিষেবা বন্ধ । টিভি খুলে দেখো আমাদের পাড়ায় কত পুলিশ । হরিহরতলায় ক্যাম্প বসেছে পুলিশের । হিন্দু- মুসলমানের লড়াই ।
বললাম , হঠাৎ লড়াই কেন ?
ঘোষগিন্নি বললে , কারা যেন রাধাগোধিন্দ মন্দিরে মাংস ফেলে গেছে !
বুকটা ছ্যাঁৎ করে উঠল ।কই এত বছরে কখনো এ মহল্লায় এমন কান্ড ঘটেছে বলে শুনিনি । মন্দির- মসজিদ পাশাপাশি—সকলেই অল্প রোজগেরে তবে হাসাখুশি লোকজন ।
বেলা দশটা বাজল ।দাপিয়ে যাচ্ছে বাইক- বাহিনী । মাথায় ফেট্টি । বোমা ফাটছে । ধোঁয়ায় কালো হয়ে উঠেছে চরাচর ।
ছেলেটা কাঁদছে । কেঁদেই চলেছে ।বুঝলাম ও খেতে চাইছে । খিদে পেয়েছে ।বুকের কাপড় সরিয়ে মুখে স্তনের একটা বোঁটা রাখতেই সে চুপ– দু- তিন মিনিট পর আবার চিল চিৎকারে কেঁদে উঠল ।
বেলা বারোটা । বুঝে গেছি রুবাইয়া আজ এই অবস্থায় আর কাজে আসবে না । ফলে রান্না করতে নিজেই চলে গেলাম ।কত্তা বললে , খোকাকে গুঁড়ো দুধ গুলে খাওয়াও ।
বললাম , তাতে খোকার পাতলা পায়খানা হবে । ডাক্তার তো নিষেধ করেছেন ।
খোকা গত ছয় মাস ধরে রুবাইয়ার বুকের দুধ খায় । আমার বুকে দুধ নেই । শুকনো স্তন আমার । চোখে জল এল এবার । কী হবে আমার খোকার !!
খোকা আবার কেঁদে উঠল খিদের চোটে…
পরিবেশ খুব থমথমে । সেনা নেমেছে রাস্তায় । ভারী বুটের পদচারণা ।হঠাৎ দরজায় ঠক্ ঠক্ শব্দ—ভয়ে কাঠ হয়ে আছি ।খোকার মুখ চেপে ধরেছে আমার কত্তা । আবার দরজায় ঠক্ ঠক্…
ভয়ার্ত কন্ঠে বললাম , কে ?
খুব চাপা গলায় উত্তর এলো , আমি রুবাই বৌদি– দরজাটা খোলো–
বললাম , এ অবস্থায় এলি কেন ? পাগল নাকি তুই ?
— এত কথা বলার সময় নেই । দরজাটা খোলো ।
একটা পাল্লা ফাঁক করতেই আমায় ধাক্কা দিয়ে সরিয়ে ঘরের ভেতরে ঢুকে পড়ল রুবাইয়া ।বললে , খোকাকে দুধ খাওয়াতে এলাম গো বৌদি ।আমি না এলে ও যে সারাদিন না খেয়ে থাকবে…